দেশের অর্থনীতির সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো নতুন করে। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্পর্কে সম্প্রতি পশ্চিমা বিশ্বের প্রভাবশালী পত্রিকা ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ানে ইতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ পশ্চিমা বিশ্বের কয়েকটি দেশকে অর্থনীতির দিক থেকে টপকে যাবে। এই প্রতিবেদন ইতোমধ্যে যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। যারা এতোদিন বাংলাদেশকে ভিখারীর দেশ হিসেবে জেনে এসেছে তাদের এবার একটু চিন্তা-ভাবনা করতে হবে। পোশাকখাতের উন্নয়ন, রেমিটেন্স প্রবাহের ঊর্ধ্বগতি, কৃষিতে ইতিবাচক অগ্রগতি, রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন— এসব হিসেব করেই বাংলাদেশের আরো এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। এতে করে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অনেক বেড়ে গেলো। এই প্রতিবেদন বিনিয়োগের ইতিবাচক ধারা তৈরি করতে বিরাট ভূমিকা পালন করবে।
তবে এ প্রতিবেদন থেকে শুধু আমাদের তৃপ্তির ঢেঁকুর তুললে হবে না। এজন্য দেশের রাজনীতিতে অব্যাহতভাবে গণতান্ত্রিক চর্চা বাধ্যতামূলক। হানাহানি করে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুললে দেশের অর্থনীতির গতি বৃদ্ধি পাওয়া তখন আর সম্ভবপর হবে না। তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে আরো উদার মানসিকতার পরিচয় দিতে হবে। শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতার পালাবদল নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের এ দেশ সোনা ফলানো দেশ। টিকে থাকতে হলে অনেক কিছুর সংস্কার করা অত্যন্ত জরুরি। জ্বালানি শক্তি বা গ্যাস এবং বিদ্যুত্ খাতের আমূল পরিবর্তন এনেই অর্থনীতিতে বড় কিছু অর্জন করা সম্ভব। তাই পশ্চিমা পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান যে ইতিবাচক প্রতিবেদন তৈরি করেছে তার ফল যাতে আমরা অর্জন করতে পারি সে লক্ষ্য নিয়েই আমাদের কাজ করতে হবে। তার জন্য রাজনৈতিক দল-মত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।
নারায়ণগঞ্জ
