বাংলাদেশ ঝড়-বৃষ্টি, বন্যা-জলোচ্ছ্বাসকবলিত একটি দেশ। এ দেশের সমতল ভূমি অপেক্ষাকৃত নিচু। এ দেশের সড়ক উন্নয়নে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রযুক্তি ব্যবহার অত্যাবশকীয়—যেমন রাস্তা নির্মাণে রিজিট পেভমেন্ট অথবা ফেক্সিবেল পেভমেন্ট কাজের নকশা ও বাস্তবায়ন বাংলাদেশের আবহাওয়ার কথা চিন্তা করে করা উচিত। আমার মতে, রাস্তার বর্তমান উচ্চতা কমপক্ষে এক মিটার উঁচু করা প্রয়োজন, রাস্তার পেভমেন্ট অংশের শেষপ্রান্তে পাকা ড্রেন হওয়া প্রয়োজন। ড্রেনের আগ পর্যন্ত মাটি দৃশ্যমান থাকবে না। ড্রেনগুলোর পঞ্চাশ মিটার পরপর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকবে যেন পানি সেচকাজে ব্যবহার করা যায়। রাস্তার পাশের মাটির অংশ আরসিসি দেয়াল দ্বারা নিরাপত্তা দিতে হবে, যাতে রাস্তার মাটি বৃষ্টিতে ধসে মূল রাস্তার নিচের অংশের ক্ষতি করতে না পারে। সকল হাইওয়ে সর্বনিম্ন চার লেনবিশিষ্ট হওয়া প্রয়োজন। বেনাপোল থেকে ঢাকা হয়ে চিটাগাং পর্যন্ত ও বেনাপোল থেকে মংলা পর্যন্ত এবং চিটাগাং থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রাস্তা কমপক্ষে আট লেন হওয়া প্রয়োজন। এসব হাইওয়ের ভার বহন ক্ষমতা কমপক্ষে ২৫ টন হওয়া প্রয়োজন। বেনাপোল থেকে চিটাগাং পর্যন্ত শাটল ট্রেন চালুর ব্যবস্থা ও পরিকল্পনা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। এতে পর্যটনশিল্প বিকাশ লাভ করবে। ঢাকা শহরের ওপর সকল রেললাইনে সাবওয়ে রেল চালুর ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা ও আশু বাস্তবায়ন প্রয়োজন। ঢাকা শহরের ওপর কোনো সারফেস রেল থাকবে না এবং প্রতি ১৫ মিনিট পরপর ট্রেন সাবওয়ে চালুর ব্যবস্থা জরুরি। সকল রেললাইনের জমি অবমুক্ত করে মহাসড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ, এসব রাস্তার ওপর দিয়ে উড়াল সেতু নির্মাণ ও চালু করার ব্যবস্থা গ্রহণ, সড়কের নিচ দিয়ে ১ তলা, ২ তলা বা আরও বেশি সাবওয়ে লাইন নির্মাণে পরিকল্পনা গ্রহণ করা। বিশ্বের নামকরা ডিজাইনার দ্বারা ডিজাইন করা প্রয়োজন। পরামর্শক দল গঠন করতে হবে দেশের নামকরা কারিগরি বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি দ্বারা।
বেগুনবাড়ির কাছে সুজুকি মটরের মোড় থেকে মগবাজার রেললাইনের আগ পর্যন্ত রাস্তাটি কেটে হাতিরঝিল লেকের সঙ্গে একীভূত করা যেতে পারে। এতে লেকের সৌন্দর্য কমপক্ষে ১০০ গুণ বৃদ্ধি পাবে। ঢাকা শহরের সকল লেককে একীভূতকরণ অর্থাত্ লেকের সঙ্গে সকল লেকের পানির যোগাযোগ থাকবে। ঐসব লেকের পানিতে ছোট ছোট নৌকা চলাচল করবে, যাতে মানুষ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ হোটেল সোনারগাঁও থেকে বাড্ডা পর্যন্ত যাতায়াতকারী লোকজন অনায়াসেই নৌকায় ভ্রমণ করলে খরচ কম হবে, জ্বালানি সাশ্রয় হবে ও অধিক শ্রমঘণ্টা কাজে লাগানো যাবে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে হাতিরঝিল লেকে বিজিএমইএ নির্মিত ভবনটি অপসারণ করা সময়ের দাবি। এতে এ ভবন অপসারণে বিজিএমইএকে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণদানের ব্যবস্থা করা উচিত হবে, যাতে অন্য কোনো ভালো স্থানে একই টাকায় একইরকম ভবন নির্মাণ করা যায়। ঢাকা শহরের সকল রাস্তা একমুখী হতে হবে। কোনো প্রকার সিগন্যাল বাতি থাকবে না। তবে দুই-একটি বিশেষ ক্ষেত্রে সিগন্যাল বাতি থাকতে পারে। সব গোলচক্করে আন্ডারপাস ও ওভারপাস ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো যানবাহনকে কোথাও থামতে না হয়। এসব সড়ক ও সেতু এমনভাবে নির্মিত হতে হবে যাতে বিশ বছরের ভেতরে বড় কোনো রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন না হয়।
সকল রাস্তা ও উড়াল সেতু রক্ষণাবেক্ষণ কয়েকটি অংশে বিভক্ত করে বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা যেতে পারে। বেসরকারি সংস্থা নির্দিষ্ট হারে টোল আদায় করে রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করবে। সরকারি সংস্থাগুলো শুধু তদারকির কাজে নিয়োজিত থাকবে। রাস্তার ওপর দিয়ে কোনো বৈদ্যুতিক তার, টেলিফোন তার বা অন্য কোনো তার থাকবে না। ওয়াসার লাইন উন্নত দেশের আদলে হওয়া দরকার। গ্যাস লাইন স্বয়ংক্রিয় বন্ধ হওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে, যাতে ভূমিকম্প বা অন্য কোনো দুর্যোগের সময় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটতে না পারে। সকল ক্ষেত্রেই সুদূরপ্রবাসী ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে বিদেশি সাহায্য ছাড়াই আমাদের দেশীয় অর্থায়নে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশের ও জনগণের স্বার্থে রাজনীতিকগণ রাজনীতি করেন। সরকার বদলাবে; কিন্তু এই পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকতে হবে। সততা ছাড়া দক্ষতা অর্থহীন। অন্যদিকে দক্ষতা ছাড়া সততা শক্তিহীন। পরিশেষে বলা যায়, সততা ও দক্ষতার সমন্বয় সাধন অনস্বীকার্য। মুখ্য বিষয় হলো আমাদের চিন্তা ও তার বাস্তবায়ন।
ঢাকা
