সিলেট মহানগরীতে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় গলাকাটা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। নগরীর অভ্যন্তরে ন্যূনতম দূরত্বে যেতে হলেও ৮০ থেকে ১শ’ টাকা দিতে হয়। অটোরিকশা মালিক ও চালকরা অনেকটা সিন্ডিকেট গড়ে যাত্রীদের বেশি ভাড়া দিতে বাধ্য করছে। তাদের দাবিকৃত বাড়তি টাকা না দিলে কোন চালকই যেতে চায় না। ফলে অনেকটা জিম্মি হয়ে পড়েছেন যাত্রীরা। কিন্তু যাত্রীদের এই হয়রানি দেখার যেনো কেউ নেই। গলাকাটা ভাড়া আদায় বন্ধ করতে প্রায় ৫ বছর আগে অটোরিকশায় মিটার লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছিল প্রশাসন। কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই অজ্ঞাত কারণে সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়। এখন চালকরা তাদের মনমতো ভাড়া নিচ্ছে।
ভুক্তভোগী যাত্রী ও সংশ্লিষ্টরা জানান, মহানগরী ও এর বাইরে প্রায় ১০ হাজার অটোরিকশা চলাচল করছে। নগরীর বিভিন্ন মোড়, আবাসিক এলাকার প্রবেশমুখ, এমনকি ব্যস্ত সড়কের ওপর যত্রতত্র গড়ে উঠেছে অবৈধ অটোরিকশা স্ট্যান্ড। প্রতিটি স্ট্যান্ডের অটোরিকশা চালকরা নিজেদের মধ্যে সিন্ডিকেট করে নগরীর বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতের জন্য তাদের খেয়ালখুশিমতো একটি ভাড়া নির্ধারণ করে রেখেছে। তাদের দাবিকৃত ভাড়ায় যেতে বাধ্য করা হয় যাত্রীদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চালক জানান, কোন চালক সিন্ডিকেট নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম ভাড়ায় গেলে অপর চালকরা তাকে নাজেহাল করে। এমনকি স্ট্যান্ডে গাড়ি নিয়ে থাকতেও দেয় না। অবশ্য বাড়তি ভাড়া আদায়ের কথা স্বীকার করে একাধিক চালক জানান, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি, মালিকের জমা বৃদ্ধি, পুলিশকে উেকাচ দেয়াসহ বিভিন্নভাবে তাদের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া নিচ্ছে।
বাচ্চাদের নিয়ে নিয়মিত অটোরিকশায় স্কুলে যাতায়াতকারী নগরীর নাইওরপুলের আব্দুল মতিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অটোরিকশায় ভাড়া আদায়ের কোন নিয়ম-নীতি নেই। মনে হয় যেনো মগের মুল্লুক। চালকরা যা বলে, তা দিয়েই বাধ্য হয়ে যাতায়াত করতে হয়। তিনি অটোরিকশার ভাড়া নির্ধারণ, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় হচ্ছে কি-না তা মনিটরিং করা ও মিটার সংযোজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, ২০০৮ সালে দেশে জরুরি অবস্থা থাকাকালে সিলেট মহানগরীর অটোরিকশাগুলোতে মিটার সংযোজন বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। মিটার দেখে নির্ধারিত ভাড়া আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ঐ সময় প্রশাসনের কড়াকড়িতে বেশিরভাগ অটোরিকশায় মিটার লাগানো হয়েছিল। কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই মিটারের ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায়। প্রশাসনও এব্যাপারে অনেকটা নির্বিকার হয়ে পড়ে। ফলে এখন চালকদের মনমতো ভাড়ায়ই চলছে অটোরিকশা।
