সিটিসেল চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড

সুরে সুরে মিলন গাঁথি দুই বাংলার

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩২
শংকরের চৌরঙ্গী উপন্যাসটি পড়েননি বা উত্তম-সুপ্রিয়া অভিনীত ‘চৌরঙ্গী’ দেখেননি, দুই বাংলায় এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। চৌরঙ্গীর কাহিনী যে হোটেলকে কেন্দ করে, সেই গ্র্যান্ড ওবেরয় হোটেলে বসেছিল বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠান সিটিসেল আয়োজিত অষ্টম সিটিসেল চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। এ আয়োজনের মধ্যেও ছিল নতুনত্ব। কলকাতায় এ অনুষ্ঠান আয়োজক বাংলাদেশের দুটি প্রতিষ্ঠান। সিটিসেল ও চ্যানেল আই। কলকাতার অভিজাত হোটলে বাংলাদেশের শিল্পী, অভিনেতাদের আনাগোনা- এক ভিন্ন দ্যোতনারই সৃষ্টি করেছিল। এই বর্ণিল অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল বাংলা গানের দুই দিকপাল গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ও রুনা লায়লাকে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করা। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় ওবেরয় গ্র্যান্ড হোটেল বলরুমে তাদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর ও সিটিসেলের সিইও মেহবুব চৌধুরী। এটি ছিলো ৮ম সিটিসেল চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডের প্রথম পর্ব। এই অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব অনুষ্ঠিত হবে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে। সেখানে অন্যান্য ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হবে। কলকাতায় অনুষ্ঠিত আজীবন সম্মনানা প্রদান এই পর্বটি ছিল বেশ ছিমছাম ও আনন্দঘন। অষ্টম সিটিসেল চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড আজীবন সম্মাননা প্রদান এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুই বাংলার খ্যাতিমান সঙ্গীত শিল্পী, সাহিত্যিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা। এসেছিলেন চিরসবুজ আফজাল হোসেন, নায়ক ফেরদৌস, সৈয়দ আবদুল হাদী, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, শাহীন সামাদ, ফাতেমা তুজ জোহরা, শাম্মী আখতার, কুমার বিশ্বজিত্, কবির বকুল, দিনাত জাহান মুন্নি প্রমুখ। ‘আনন্দধারা বহিছে ভুবনে’ বিশ্ব কবি রবীন্দ নাথ ঠাকুরের এই গানের সঙ্গে একটি মনোমুগ্ধকর নাচের সাথে সাথে শুরু হয় আজীবন সম্মাননা প্রদান পর্বটি। সিটিসেল চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডে আজীবন সম্মাননা পেয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করে উপমহাদেশের কিংবদন্তীতুল্য সঙ্গীত শিল্পী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় বলেন, বাংলাদেশে কখনও যাওয়া না হলেও সেদেশের মানুষের জন্য আমার মনপ্রাণ আকুল করে। একটা ভালো লাগার অনুভূতি কাজ করে। রুনা লায়লা-সাবিনা ইয়াসমীনরা সেদেশের গানকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন। সময় পেলেই বাংলাদেশের গান শুনি। বরং একটু বেশি শুনি। একবার হেমন্ত-রফির সঙ্গে বাংলাদেশে যাওয়ার কথা ছিল। কোনো কারণে অনুষ্ঠানটি বাতিল হয়ে যায়। তাই আমার যাওয়া হয়নি। আমার মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল। এরপর আর যাওয়া হয়নি বাংলাদেশে। তবে বাংলাদেশের মানুষ আমাকে কত ভালোবাসে, তার প্রমাণ নানা ভাবে পেয়েছি। আজ আবার তা নতুন করে অনুভব করলাম। আমি অভিভূত। রুনা লায়লা বলেন. যে কোন সম্মাননাই আনন্দের। তবে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের হাত থেকে পুরস্কার পাওয়া একটা বড় অর্জন। বড় পাওয়া। ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গীতকে আশ্রয় করে আমরা বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে যেতে চাই। সেই উদ্যোগের প্রথম ধাপ হিসাবে কলকাতায় আমাদের এই অনুষ্ঠান। ভারতের দর্শক শ্রোতাদের সামনে দুই বাংলার গানের এই আয়োজন। সিটিসেলের সিইও মেহবুব চৌধুরী বলেন, সিটিসেল সব সময় বাংলাদেশকে, দেশের সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দিতে চায়। পৃষ্ঠপোষকতা করতে চায়। সেজন্যই এই মিউজিক এওয়ার্ডের আয়োজন। এখন আমরা এই গানকে বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে চাই। এবার কলকাতায়, আগামীতে আরো বড় পরিসরে, অন্য কোন স্থানে, অন্য কোন দেশে। এই দুই গুণী শিল্পীকে আজীবন সম্মাননা প্রদান শেষে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রাখেন বিশিষ্ট রবীন্দ সঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও শ্রীকান্ত আচার্য। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন ফারজানা ব্রাউনিয়া। পরিচালনা করেন শহিদুল আলম সাচ্চু।