ছুটির দিনে প্রচণ্ড ভিড়, মহিলাদের ভোগান্তি

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩২
গতকাল ছুটির দিনটাকে উপভোগ করার জন্য সুযোগ পেয়ে নানা পেশাজীবীর মানুষ ভিড় জমিয়ে ছিলেন মেলা প্রাঙ্গণে। দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের ছিল উপচেপড়া ভিড়। মেলার দ্বিতীয় সপ্তাহের ছুটির দিন থাকায় দর্শনার্থী ও ক্রেতা সংখ্যা ছিল আগের দিনগুলোর চেয়ে অনেক বেশি। সকাল থেকেই লোকজনের স্রোত ছিল মেলার দিকে। শেষ বিকেলে মেলা প্রাঙ্গণ লোকজনে কানায় কানায় ভরে যায়। দুপুরের মধ্যেই গাড়ি পার্কিং এর জন্য নির্ধারিত ১, ২ নং স্থান পরিপূর্ণ হয়ে যায়। তখন থেকেই মাইকে আওয়াজ ভাসতে থাকে গাড়ি ৩ নং পার্কিং স্থলে রাখার জন্য। রাস্তার দু’ পাশ গাড়িতে ভরে যাওয়ায় লোকজনের চলাচলের জন্য অসুবিধায় পড়তে হয়েছে। মাইকে শোনা যায় হারানো বিজ্ঞাপন। কারো বাচ্চা হারিয়ে গেছে বা কারো সঙ্গী হারিয়ে গেছে এমনটাই শোনা গেছে ঘন্টায় ঘন্টায়। বিকেলে টিকেট কাউন্টারের সামনে ছিল দীর্ঘ লাইন। টিকেট সংগ্রহে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে মহিলাদের। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে এখনও টিকেট পাননি শ্যামলী থেকে মেলায় আসা সরকারি চাকরিজীবী আফিয়া তাসমিন। তিনি ইত্তেফাককে জানান, মেলা শুরুর পরে প্রথম এসেছি। টিকেট সংগ্রহের জন্য ৩০ মিনিট ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখনো টিকেট সংগ্রহ করতে পারিনি। পুরুষ-মহিলাদের আলাদা কোন কাউন্টার না থাকার কারণে মহিলাদের টিকেট সংগ্রহে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এছাড়া মেলায় পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা আলাদা টয়লেট থাকলেও টয়লেটগুলো একই স্থানে পাশাপাশি অবস্থিত। প্রবেশ এবং বের হওয়ার জন্য একটিমাত্র সরু রাস্তা আছে। এই রাস্তা দিয়েই পুরুষ ও মহিলাদের আসা যাওয়া করতে হয়। ফলে মহিলাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। গতকাল লোকজনের ভিড় থাকার কারণে টয়লেটে দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। অনেক বখাটে টয়লেটের কাজ না থাকলেও এখানে এসে ভিড় জমায়। এছাড়া এখানে অসাধু কিছু ব্যবসায়ী চড়া দামে তামাক বিক্রি করে। কারণ মেলার এই জায়গায় কোন নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই এবং বখাটেরা এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে যাচ্ছে মেলার শুরু থেকেই। গুলশান থেকে মেলায় আসা তাহামিনা আক্তার ও বাড্ডা থেকে আসা ইরমাইয়া সাবিনা জানান, মেলায় মহিলা ও পুরুষদের আলাদা আলাদা স্থানে টয়লেট থাকা দরকার। কারণ মহিলাদের টয়লেটের সামনে এসে কাজ না থাকার পরও ভিড় জমাচ্ছেন পুরুষরা। টয়লেটের সামনে এসে ধূমপান করে বখাটেরা। মেলা কর্তৃপক্ষের এদিকে নজর দেয়া উচিত। ছুটির দিন পেয়ে গতকাল অনেকেই মেলায় প্রথম এসেছেন। কেউ কেউ এসেছেন ঢাকার বাইরে থেকেও। তবে শীতের তীব্রতার কারণে মেলা প্রাঙ্গণে বয়স্ক লোকদের তেমন দেখা যায়নি। কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী ও মধ্যবয়স্ক লোকজনের সমাগম ছিল সমস্ত মেলার মাঠে। কিন্তু লোকজনের তুলনায় বেচাকেনা ছিল কম। কেউ কেউ পণ্য দেখছেন কিন্তু কিনছেন না। আবার অনেকেই মেলায় এসেছেন ছুটির দিনটিকে উপভোগ করতে। থাই গ্যালারির একজন বিক্রেতা জানান, লোকজনের তুলনায় বেচাকেনা অনেক কম। সবাই পণ্য দেখছেন দর কষাকষি করছেন কিন্তু কিনছেন না।