তাপমাত্রা বাড়ছে তবে সহনীয় হতে সময় লাগবে

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৬
সারাদেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। তবে বৃদ্ধির গতি ধীর। এটা সহনীয় পর্যায়ে আসতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গতকাল শুক্রবারও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সৈয়দপুরে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার সৈয়দপুরে তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গিয়েছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্তব্যরত কর্মকর্তা জানান, দেশের সর্বত্রই তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে বৃদ্ধির গতি এতো ধীর যে এতে মানুষের শীত অনুভূতির কোন হেরফের হওয়ার কথা নয়। আরও অন্তত তিনদিন প্রায় সারাদেশই শৈত্য প্রবাহের আওতায় থাকবে। গতকাল পর্যন্ত রাজশাহী, রংপুর বিভাগসহ শ্রীমঙ্গল, যশোর, কুষ্টিয়া, সিতাকুণ্ডু ও ময়মনসিংহ অঞ্চল ছিল তীব্র শৈত্য প্রবাহের আওতায়। এসব এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বাকীসব অঞ্চল রয়েছে হালকা থেকে মাঝারী ধরনের শৈত্য প্রবাহের আওতায়। তাপমাত্রা ৬ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীতে গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া বরিশালে ৭ দশমকি ৬, খেপুপাড়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপ পেতে অগ্নিদগ্ধ ঃ ঠাণ্ডা সহ্য করতে না পেরে শহর ও গ্রামাঞ্চলে খড়কুটো জ্বালিয়ে সাধারণ মানুষ শীত নিবারণের চেষ্টা চালাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে এটা রেওয়াজ হলেও অসতর্কভাবে আগুন পোহাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধও হওয়ার সংখ্যা বাড়ছে। আমাদের রংপুর অফিস জানিয়েছে, এভাবে আগুন পোহাতে গিয়ে ২৩ জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। তাদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইরি বোরো বীজতলা ও রবি শস্যে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা ঃ তীব্র শৈত্য প্রবাহ ইরিবোরো বীজতলা এবং রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রংপুর প্রতিনিধি ওয়াদুদ আলী জানিয়েছেন, ঘন কুয়াশার কারণে রংপুর অঞ্চলের আলু চাষীরা মৌসুমের শুরুতেই ছত্রাকজনিত আরর্লি ব্লাইট ভাইরাস আক্রমণে আলু ক্ষেতে পচন ধরার ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। আমাদের ফুলবাড়ি সংবাদদাতা জানিয়েছেন, তীব্র শীত আর কুয়াশার কারণে উপজেলার প্রায় প্রতিটি এলাকার বোরো বীজতলা হুমকির মুখে পড়েছে। কৃষকরা বলছেন, ইতোমধ্যেই ২০ থেকে ২৫ ভাগ বোরো বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, দুই-একদিনের মধ্যে শৈত্য প্রবাহ ও কুয়াশা কেটে গেলে বীজতলার তেমন ক্ষতি হবে না। একইভাবে শীত আর শৈত্য প্রবাহের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে পোল্ট্রি খামার ও গবাদি পশু।