রাজশাহী পাসপোর্ট অফিসে টাকার ভাগাভাগি টপ টু বট্ম

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৯
রাজশাহী পাসপোর্ট অফিস থেকে আটক ৯ দালালকে গতকাল শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকালে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ পাসপোর্ট অফিসে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। এরা হলোঃ পিন্টু, সুইট, জুয়েল, সেলিম, ফজলে মিয়া, মুরসালিন, জাহেদুল, আরমান ও সাহেব আলী। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস নিয়ন্ত্রণকারী সিন্ডিকেট এবং ঘুষখোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে দীর্ঘদিন ধরেই এমন কাজ চলছে বলে তারা দাবি করেছেন। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আলমগীর হোসেন জানান, কীভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায় হয়, ওই টাকা কীভাবে টপ টু ব্টম ভাগাভাগি হয় সেসব এবং বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পর্কে আটক দালালরা নানা তথ্য দিয়েছে। আটক দালালরা জানান, তারা বাইরে থেকে পাসপোর্ট করতে আসা লোকজনকে অল্প সময়ে পাসপোর্ট করিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রত্যেক আবেদনের সঙ্গে অতিরিক্ত ১ হাজার টাকা নেন। সেখান থেকে ২০০ টাকা রেখে বাকী ৮০০ টাকা আবেদনের সঙ্গে পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে জমা করেন। এক টাকা কম হলেও আবেদন ফেরত পাঠানো হয়। আটক দালাল আরমান পুলিশকে জানান, কর্মকর্তা উত্তম কুমার ও মোতালেব, প্রহরী লুত্ফর, আনসার বজলু, পুলিশের হাবিলদার শফি পাসপোর্ট অফিসের পক্ষে আবেদন প্রতি ৮০০ টাকা আদায় করেন। সেই টাকা প্রতি বুধবার অফিসের উপ-পরিচালক রোজী খন্দকারের অফিসে পদমর্যাদা অনুযায়ী ভাগাভাগি করেন। ওসি জানান, তারা অভিযানে গিয়ে পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে দালালদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছেন। নৈশপ্রহরী লুত্ফর রহমানের দায়িত্ব রাতে হলেও তিনি সকাল থেকে পাসপোর্টের আবেদন জমা নিচ্ছিলেন। পাসপোর্টের প্রতিটি আবেদনের সঙ্গে ৮০০ টাকা নেয়ারও প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। আনসার সদস্য বজলু ও হাবিলদার শফির দায়িত্ব পাসপোর্ট অফিসের নিরাপত্তা দেখাশোনা। কিন্তু তারাও আবেদন জমার কাজ করছিলেন। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে অফিসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার প্রমাণও পুলিশের হাতে রয়েছে। এদিকে একমাত্র সোনালী ব্যাংকের কর্পোরেট শাখায় পাসপোর্টের টাকা জমার কারণে প্রতিদিন সূর্য ওঠার আগেই কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন পড়ে। এ সুযোগে সেখানেও দালাল চক্রের সৃষ্টি হয়েছে। টাকা জমার বিষয়টি একাধিক ব্যাংকে ছড়িয়ে দিলে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য হ্রাস পেতো। দালালরা সাধারণ মানুষকে ‘সামান্য টাকা’র বিনিময়ে ব্যাংকে দ্রুত টাকা জমার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। ঝামেলা এড়াতে অনেকে তাদের ফাঁদে পা দিচ্ছে। সমপ্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জের মামুন অর রশিদ ও শ্রী অসিম পাসপোর্টের জন্য দালালের সহায়তায় সোনালী ব্যাংকের কর্পোরেট শাখায় ৩ হাজার টাকা জমা করেন। বৃহস্পতিবার সেই চালান নিয়ে পাসপোর্টের আবেদন জমার সময় তাদের জানানো হয়, ব্যাংকের চালানের কপিগুলো জাল। চালান কপিতে যেসব সিল থাকে তার সবই আছে। সোনালী ব্যাংকের রাজশাহী কর্পোরেট শাখায় থাকা কয়েকজন দালাল গ্রাম থেকে আসা লোকজনকে ঝামেলা এড়ানোর নামে প্রতারণা ও জাল চালান কপি দিচ্ছে। এ জন্য তারা নকল সিলও বানিয়েছে। জাল চালান কপি তৈরি সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছে সাজ্জাদ ও রনি। তাদের সঙ্গে ব্যাংকের লোকজনও জড়িত থাকতে পারে বলে পুলিশের ধারণা।