জীববিজ্ঞান ব্যবহারিক পরীক্ষার প্রস্তুতি

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:০৩
মৃত্তিকা খান বিজ্ঞান কেবল শিখে পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়া নয়। বিজ্ঞানে হাতে কলমে কাজ করার পারদর্শিতা থাকা প্রয়োজন। যা উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে জীববিজ্ঞানে বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়। জীববিজ্ঞান ব্যবহারিক পরীক্ষায় ভাল নম্বর আত্মসন্তুষ্টি এবং গ্রেডিং এ ভাল ফলাফল সহায়ক। অতএব, ব্যবহারিককে হেলাফেলা করা যাবে না। নিম্নে কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হল। ১। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পুরোকোর্সে ব্যবহারিক শিক্ষক খাতায় যা করিয়েছেন তা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে বোর্ড পরীক্ষায় পরীক্ষকের নিকট পেশ করতে হবে। এতে নির্ধারিত ৫ নম্বর পুরোপুরি পাওয়া সম্ভব। ছবিগুলো ছোট এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হলে পরীক্ষককে সন্তুষ্ট রাখা সহজ হয়। ২। মৌখিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় একজন ছাত্র/ছাত্রীর সামগ্রীক প্রস্তুতি। ধর্মীয় সম্ভাষণ দিয়ে প্রবেশ করা, অনুমতি নিয়ে বসা এবং যা জিজ্ঞেস করেন তা স্পষ্টভাবে বলতে হবে। এরপর বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন করবেন পরীক্ষক। মৌখিক পরীক্ষায় বাংলাদেশের জাতীয় পাখি, ফুল বা ফল জিজ্ঞেস করলে বৈজ্ঞানিক নাম বলতে হবে। যেমন— Copsychus saularis Nymphaea nouchali L Artocarpus intengrifolia L এছাড়াও বইয়ের মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর ভাল দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। কলম নিয়ে প্রবেশ করতে হবে। পুষ্পসংকেত কিংবা পুষ্পপ্রতীক আঁকতে হতে পারে। সব সময় খেয়াল রাখতে হবে কথাবার্তায় যেন ঔদ্ধত্য এবং অহমিকা প্রকাশ না পায়। অনেক সময় ভাল ছাত্রছাত্রীরা অহমিকা এবং মার্জিত আচরণের অভাবে মৌখিক পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ভাল নম্বর থেকে বঞ্চিত হয়। ৩। শনাক্তকরণ জীববিজ্ঞানের ব্যবহারিকের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রাণীবিজ্ঞান এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞানে এটি সমানভাবে করা হয়। প্রাণীবিজ্ঞানে যাকে বলা হয় স্লাইড পর্যবেক্ষণ। যা যা পর্যবেক্ষণ করতে হবে— (ক) যে কোন পর্বের পূর্ণাঙ্গ শ্রেণীবিন্যাস শনাক্তকরণ (খ) Slide  Amoeba Parame cium Hydra প্রভৃতি স্থানিক কলাস্থানিক স্লাইড (১) পাকস্থলি, লিভার, ফুসফুস, অন্ত্র প্রভৃতি কিডনী (iii) ব্যাঙ ও মানুষের রক্তের স্লাইড প্রভৃতি। উদ্ভিদবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে শনাক্তকরতে হবে— (র) কোষ/ কোষ বিভাজন (রর) উদ্ভিদের বিভিন্নতা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পন্ন উদ্ভিদ থেকে নমুনা শনাক্তকরণ। বিশেষ করে বীজ বা তন্তু শনাক্তকরণ। এছাড়াও প্রাণীবিজ্ঞানে কুনোব্যাঙের অস্থি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। ৪। রক্তচাপ মাপতে এবং এর সম্পর্কিত তথ্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে হবে। ৫। হাতে কলমে ব্যবচ্ছেদ করতে হবে— প্রাণীবিজ্ঞান (ক) কেঁচো (i) পরিপাক তন্ত্র(ii) স্নায়ুতন্ত্র। (ক) আরশোলা (i) মুখোপাঙ্গ (ii) লালা গ্রন্থিসহ পরিপাকতন্ত্র(iii) স্নায়ুতন্ত্র অথবা, রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ করতে হবে। উদ্ভিদ বিজ্ঞান (i) জবা(ii) কৃষ্ণচূড়া(iii) অপরাজিতা এছাড়াও কলাবতী ও কুমড়ার (i) মূল (ii) কাণ্ড প্রভৃতি। এগুলো সাধারণত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে করানো হয়। এরপরও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেসব ব্যবহারিক করানো হয় তার প্রতি যত্নশীল এবং মনোযোগী হতে হবে তবেই ব্যবহারিকে ভাল নম্বর পাওয়া সম্ভব। শারীর তাত্ত্বিক পরীক্ষার জন্য তথ্য ভাণ্ডার ভালভাবে সমৃদ্ধ করতে হবে।