ঘন কুয়াশা ও শৈত্য প্রবাহে ফসল রক্ষার উপায়

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৪০
দেশে এখন ঘন কুয়াশা ও কয়েকদিন পর পর শৈত্য প্রবাহ চলছে। এ অবস্থা থেকে মাঠের বিভিন্ন ফসল রক্ষার উপায় নিয়ে আলোচনা করা হল- বোরো বীজতলা:প্রতিদিন সরেজমিনে ফসলের ক্ষেত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সকাল ১০ টা হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখতে হবে। সকাল বেলা বীজতলায় ২ থেকে ৩ ইঞ্চি পানি (যাতে চারা ডুবে না যায়) ঢুকাতে হবে এবং সন্ধ্যায় বের করে দিতে হবে অথবা সন্ধ্যায় ঢুকিয়ে সকাল বেলা বের করে দিতে হবে। সকাল বেলায় কঞ্চি বা লাঠি দিয়ে চারা গাছের শিশির নিংড়িয়ে দিতে হবে। ঠাণ্ডাসহিষ্ণু জাত যেমন ব্রি ধান-৩৬ চাষ করতে হবে। শৈত্য প্রবাহের আগে বীজ বুনতে হবে, যাতে ঠাণ্ডার প্রকোপ থেকে চারা রক্ষা পায়। বীজতলা পাতা ঝলসানো রোগে আক্রান্ত হলে সকাল বেলায় রশি টানা দিয়ে চারা থেকে কুয়াশার পানি ফেলে দিন এবং বীজতলায় প্রতি শতাংশের জন্য ৫০ গ্রাম হারে পটাশ সার প্রয়োগ করুন। এ সময় ইউরিয়া সারের উপরি প্রয়োগ বন্ধ রাখুন ও সেচের পানি বের করে দিন। অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় বীজতলায় ছাই ছিটিয়ে তাপমাত্রা ধরে রাখা যায়। কাজেই এ অবস্থায় বীজতলায় ছাই ছিটাতে পারেন। শৈত্য প্রবাহ চলাকালীন বোরো ধানের বীজতলার চারা না উঠানোই ভাল। আলু ও টমেটো:ঘন কুয়াশার কারণে আলু ও টমেটো ফসলে লেইটব্লাইট রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এরূপ আবহাওয়ায় আলু ও টমেটো ফসলে প্রতিরোধক হিসেবে বর্দোমিক্সার অথবা যেকোনো মেনকোজেব জাতীয় ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে ৭ দিন অন্তর অন্তর প্রয়োগ করতে হবে। এ রোগের আক্রমণ দেখা দেয়ার সাথে সাথে আক্রান্ত গাছটি তুলে মাটিতে চাপা বা পুড়িয়ে ফেলতে হবে এবং প্রতি লিটার পানিতে সিকিউর ১ গ্রাম+মেলোডি ডুও ২ গ্রাম মিশিয়ে ৭ হতে ১০ দিন অন্তর অন্তর স্প্রে করতে হবে। সরিষা ও শিম:জমিতে হলুদ ফাঁদ স্থাপন করলে জাব পোকার উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। সরিষা ও শিম গাছে জাবপোকার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে বিষকাটালির রস অথবা যেকোনো জৈব বালাই নাশক যেমন- নিমবিসিডিন প্রতি লিটার পানিতে ৪ মিলি হারে প্রয়োগ করতে হবে এবং আক্রমণের তীব্রতা অতিমাত্রায় বেড়ে গেলে এমিটাফ, টিডো, এডমায়ার ০.৫ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। লেখক:আঞ্চলিক পরিচালক, কৃষি তথ্য সার্ভিস, রংপুর