ঠাকুরগাঁওয়ে এক বছরে এক স্কুলের ৪৪ ছাত্রীর বাল্য বিয়ে

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:০২
ঠাকুরগাঁওয়ের একটি স্কুলের নবম শ্রেণীর ৭৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৩ জনই বাল্যবিবাহের শিকার। শহর থেকে ৩ কিলোমিটার উত্তরে পঞ্চগড় মহাসড়কের পাশে সালন্দর চৌধুরী হাট এলাকায় হাজি কামরুল হুদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গত বছর এ ঘটনা ঘটেছে। একই স্কুলে ৬ষ্ঠ থেকে দশমের মধ্যে আরও ২১জন শিক্ষার্থী এ সময় বাল্য বিবাহের শিকার হয়। বাল্য বিবাহের শিকার ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী হ্যাপি আক্তার জানায়, বাবা-মায়ের অমতে বরপক্ষের সহায়তায় অন্যত্র গিয়ে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। বরের অল্প বয়স ও আয়-রোজগার না থাকায় বর্তমানে সে নিজ পরিবারের আশ্রয়ে আছে। তবে সে অনুতপ্ত সুরে জানায়, এ বয়সে তার বিয়ে করা ঠিক হয়নি। একই ঘটনার বলি শাহীনার বাবা আবু সাইদ বলেন, ‘আমার ৮ম শ্রেণীতে পড়ুয়া নাবালক মেয়েকে ফুসলিয়ে ছেলে পক্ষ অন্যত্র নিয়ে ১০ম শ্রেণীতে পড়ুয়া ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেয়। এ বিয়ে আমি মেনে নিতে পারিনি, মেয়ে নাবালক হওয়ায় আমি মামলা করেছি। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।’ প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমান জানান, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক নানামুখী উদ্যোগ ও প্রচারণা থাকলেও এর ব্যাপকতায় তিনি বিস্মিত ও হতবাক। প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের পাশাপাশি তিনি সব মহলের ঐক্যবদ্ধ কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানান। এ বিষয়ে সদর উপজেলার সালন্দর ইউপি চেয়ারম্যান ফজলে এলাহী মুকুট চৌধুরী জানান, বাল্যবিয়ে একটি সামাজিক ব্যাধি বিবেচনায় আমরা পরিষদের পক্ষ থেকে বাল্য বিবাহের ঘটনায় বাধা দিলে পরবর্তীতে এসব বিয়ে অন্য এলাকায় কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে সংঘটিত হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জন্ম সনদে বয়স বাড়িয়ে এসব বিয়ে সম্পন্ন হলেও তিনি জানান,তার ইউনিয়নে জন্ম সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের কাজী আমিনুল ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, আমি নিজে কোনো বাল্য বিবাহ দেই না। তবে অনেক সময় দেখা যায়, বাস্তবে মেয়ের বয়স কম থাকা সত্ত্বেও জন্ম নিবন্ধনে বয়স ঠিক থাকায় আমরা বিয়ে দিতে বাধ্য হই।