বাংলাদেশ দলের স্থগিত হয়ে যাওয়া পাকিস্তান সফরের ব্যাপারে আইসিসি’র সহ-সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল যে বক্তব্য দিয়েছেন তার প্রেক্ষিতে ক্রিকেটের বিশ্ব সংস্থার কাছে ব্যাখ্যা চাইবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এজন্য খুব শীঘ্রই আইসিসি’র কাছে চিঠি দেয়া হবে।
বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এমপি গতকাল শনিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। সিঙ্গাপুরে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভায় যোগদান শেষে দেশে ফেরার পর এদিন তিনি মিরপুরে এসে সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামালের বক্তব্যের ব্যাপারে মুখ খোলেন।
আইসিসি সহ-সভাপতি ও বিসিবি’র সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামাল গত বৃহস্পতিবার জানান যে, পাকিস্তান সফরের ব্যাপারে তিনি কোন প্রতিশ্রুতি দেননি। শুধু তাই নয়, ক্রিকেটের বিশ্ব সংস্থাটির সহ-সভাপতি হওয়ার লক্ষ্যে আইসিসি’র সভায় কোন ধরনের প্রতিশ্রুতি দেননি তিনি। দৃশ্যত তার এ বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করে বর্তমান বোর্ড সভাপতি বলেন, ‘আমি কখনো না দেখে, নিশ্চিত না হয়ে কোন কথা বলি না। আমার হাতে প্রমাণ আছে। ১২ এপ্রিল পাকিস্তান সফরে যাওয়ার সম্মতি জানিয়ে প্রথমে চিঠি দিয়েছিল বিসিবি। আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে সফরটি হয়নি। এরপর ৮ অক্টোবর বিসিবির পক্ষ থেকে আরেকটি চিঠি দেয়া হয়। এতে ১২ থেকে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে সফরসূচি রাখার পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু এ সফরে যেতে আমরা অস্বীকৃতি জানাই। তাছাড়া ১৫ এপ্রিল আইসিসি’র একটি সভা হয়। সেই সভার কার্যবিবরণে স্পষ্ট লেখা আছে, বাংলাদেশ দল পাকিস্তান খেলতে যাবে এবং আইসিসি যদি নিরাপত্তার কারণে ম্যাচ অফিসিয়াল নাও পাঠায় তারপরও আমরা সফর বাতিল করতে পারবো না। এর মানে আমাদের যেতেই হবে। আমি জানি না সফরের ব্যাপারে এরচেয়ে কঠিন শর্ত হতে পারে কিনা। আইসিসি’র ওই সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন মিস্টার মোস্তফা কামাল।
কিন্তু আইসিসি’র কার্যবিবরণীতে থাকা এই প্রতিশ্রুতির কথা মোস্তফা কামাল সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তাহলে কার বক্তব্য সত্য জানতে চাইলে বিসিবি সভাপতি এ ব্যাপারে ব্যাখ্যার জন্য আইসিসি’র দ্বারস্থ হবেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আইসিসি’র কাছে জানতে চাইব কার্যবিবরণীতে এমন কিছু লেখা হয়েছে যেটা আইসিসি’র সহ-সভাপতি অস্বীকার করছেন।’
এদিকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চেয়ারম্যান জাকা আশরাফ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খেলোয়াড় পাঠাবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কিন্তু বিসিবি সভাপতি জানাচ্ছেন ভারতের দিল্লিতে সমপ্রতি জাকার সাথে তার সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। তার কথায় খেলোয়াড় না পাঠানোর কোন ইঙ্গিত পাননি তিনি। এ প্রসঙ্গে পাপন বলেন, ‘পিসিবি চেয়ারম্যানের সাথে আমার সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। ওখানে আমি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছি কেন আমরা যেতে পারছি না। উনি আমাদের সমস্যাটা বুঝেছেন। কিন্তু কাল (পরশু) যে প্রতিক্রিয়া এসেছে এর সম্বন্ধে আমি কিছু জানি না। আমি এখনো বিশ্বাস করি আমাদের মধ্যে যে আলোচনা হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা ঢাকায় আসবে।’
বিপিএল শুরু হতে মাত্র চারদিন বাকি। এমন পরিস্থিতিতে পিসিবি চেয়ারম্যানের বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে পাপন বলেন, ‘আমরা একটি-দুটি দিন অপেক্ষা করবো। খেলোয়াড় দিবে না এমন কোন কাগজ আমরা পাইনি। ক্রিকইনফোতে যেটা এসেছে, আমার মনে হয়, কোন প্রশ্নের জবাবে কথা বলতে গিয়ে এমন প্রতিক্রিয়া এসেছে।’
দিল্লিতে দুই বোর্ড সভাপতির আলোচনার প্রেক্ষিতে উঠে এসেছে বাংলাদেশ দলের পাকিস্তান সফর প্রসঙ্গও। আগামী মার্চ-এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ পাকিস্তান সফর করতে পারে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। তবে তার আগে বিসিবি একটি নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক দল পাকিস্তানে পাঠাবে। এ বিষয়ে বোর্ড সভাপতি বলেন, ‘শ্রীলংকা ও জিম্বাবুয়ে সফরের পর এপ্রিলের প্রথম দিকে সুযোগ আছে। আমরা বলেছি একটি নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক দল সেখানে পাঠাবো। পিসিবি চেয়ারম্যান বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব, কিন্তু বোর্ড সভা করে নিরাপত্তা দল পাঠাবো বলে আমি তার কাছে বলে এসেছি।’
