আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারী সংস্থা মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে ছয়শ’র মতো অভিযোগ পেয়েছে। এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে গুরুত্বের ভিত্তিতে তদন্ত করা হচ্ছে।
ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এম সানাউল হক শনিবার এ কথা বলেন। তিনি জানান, প্রায় ২ হাজার ৯শ’ জনের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, ১২ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কাজ চলছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন হবিগঞ্জের সৈয়দ কাওসার, ফরিদপুরের নগরকান্দার মেয়র খোকন, জামায়াত নেতা আব্দুস সুবহান, এটিএম আজহারুল ইসলাম ও যশোরের মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন। তাদের মধ্যে আব্দুস সুবহান ও এটিএম আজহারুল ইসলামকে ট্রাইব্যুনালের আদেশে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, তদন্ত সংস্থায় আসা ২টি মামলা ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে। দু’টি মামলায় আসামি হচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাজী মোবারক ও পটুয়াখালীর রুস্তম আলী। এছাড়া তদন্তকারী সংস্থা গত ১৩ অক্টোবর মোঃ আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মঈনুদ্দীনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। এ মামলায় আরও অধিকতর তদন্ত চলছে। শিগগিরই তা দাখিল করে ফরমাল চার্জ প্রস্তুত করা হবে। অভিযোগ আমলে নেয়ার পর তারা হাজির না হলে তাদের অনুপস্থিতিতেই আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।
একাত্তরে আশরাফুজ্জামান ও মঈনুদ্দীন ইসলামী ছাত্রসংঘের (জামায়াতের তত্কালীন ছাত্র সংগঠন) সদস্য ছিলেন। বর্তমানে আশরাফুজ্জামান খান আমেরিকা এবং চৌধুরী মঈনুদ্দীন লন্ডন প্রবাসী বলে তদন্তকারী সংস্থা খোঁজ-খবর নিয়ে জেনেছে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটককৃতদের মধ্যে জামায়াতের সাবেক রুকন আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের মামলা বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছে ট্রাইব্যুনাল। জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলা পুনরায় যুক্তিতর্কের জন্য ধার্য রয়েছে। যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের তারিখ ধার্য করা হবে। জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্ল¬ার বিরুদ্ধে মামলায় উভয়পক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে। এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর মামলার রায়ের তারিখ ধার্য করা হবে।
এছাড়া জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমের মামলায় সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ, বিএনপি নেতা ও সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আব্দুল আলীম, জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচারে গঠিত পৃথক দুটি ট্রাইব্যুনালে এ বিচার কার্যক্রম চলছে।
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু বলেন, সবধরনের আইনী সুযোগ-সুবিধা এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় বিচার কার্যক্রম চলছে। প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ এ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও বিধি অনুযায়ী মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া পরিচালনা করছেন। সংশি¬ষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় এ বিচার কার্যক্রম সফল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
