সারাদেশে তাপমাত্রা ধীরগতিতে বাড়ছে। তবে আরো অন্তত দুইদিন শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গতকাল শনিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ঈশ্বরদীতে ৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উল্লেখ করা যেতে পারে, শুক্রবার সৈয়দপুরের তাপমাত্রা ছিল ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার সৈয়দপুরের তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গিয়েছিল।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জানান, দেশের সর্বত্রই তাপমাত্রা ধীরগতিতে বাড়ছে। তবে গতকাল পর্যন্ত রংপুর বিভাগসহ শ্রীমঙ্গল, যশোর, কুষ্টিয়া এলাকা ছিল তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আওতায়। এসব এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বাকি সব অঞ্চল রয়েছে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ। ঢাকায় গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শীতে আরো ৪ জনের মৃত্যু ও ৭ জন অগ্নিদগ্ধ
রাজীবপুর (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানিয়েছেন, সেখানে গত ৭২ ঘন্টায় তীব্র ঠান্ডায় আরো ৪ জনের মুত্যু হয়েছে। তাছাড়া আগুন পোহাতে গিয়ে ৭ জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ও শুক্রবার রৌমারী উপজেলার দাঁভাঙ্গা গ্রামের বাবলু মিয়া (৪০), জন্দিরকান্দা গ্রামের খাইরুজ্জামান (৭০), শৌলমারী গ্রামের হাফেজা খাতুন (৪৫) এবং রাজীবপুর উপজেলার তিনথোপা পাড়ার ছকিনা খাতুন (৪২) তীব্র ঠান্ডায় মারা গেছে বলে তাদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
নাগেশ্বরী সংবাদদাতা জানিয়েছেন, নাগেশ্বরীতে তীব্র শীত ও উত্তরের হিমেল হাওয়ায় থমকে গেছে জনজীবন। টানা ৭ দিনের শীতের তীব্রতায় মহাবিপাকে পড়েছে নিম্নআয়ের মানুষ। ঘর থেকে বের হতে না পারায় তাদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের প্রায় অর্ধাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে। সন্ধ্যার পরে রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যায়।
প্রতিদিন শীতজনিত রোগে আক্রান্ত শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যা বেড়েই চলছে। শীতে গত দু’দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এরা হলেন, নাগেশ্বরী পৌর সদরের চামটারপাড় গ্রামের ছফর উদ্দিন (৭২), গোদ্ধারের পাড় গ্রামের আমিন উদ্দিন (৭৫), বানুরখামার গ্রামের নবিজন বেওয়া (৬৮), চৌবাড়ী পায়রাডাঙ্গা গ্রামের সুনিতি মজুমদার (৯৬), নেওয়াশী ইউনিয়নের চাকের কুটি গ্রামের আবেদ আলী মুন্সি (৬৫), চর বেরুবাড়ী গ্রামের মোহর উদ্দিন মন্ডল (৬২), তেলিয়ানী পাড়ের আব্দুস সামাদ (৭৩)।
