পদ্মা সেতুর দুর্নীতির বিষয়টি ভুয়া

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২৩
প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বলেছেন, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির বিষয়টি ভুয়া। এটা একটা ষড়যন্ত্র। এ বিষয়টি নিয়ে যারা সোচ্চার ছিলেন তারা এখন পর্যন্ত কোন প্রমাণ পেশ করতে পারেননি। এমনকি মিডিয়াও পারেনি। আর বিশ্বব্যাংকও সরকারের কাছে কোন প্রমাণ তুলে ধরতে পারেনি। গতকাল শনিবার বাংলা একাডেমী মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সংলাপে’ তিনি এসব কথা বলেন। বিবিসি বাংলা এ সংলাপের আয়োজন করে। বিবিসির রিপোর্টার আকবর হোসেনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য করেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখার এবং উন্নয়ন সংস্থা একশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির। অনুষ্ঠানের শুরুতেই একজন দর্শক আবুল মনছুর প্রশ্ন করেন প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সরকারের গত চার বছর শুধু উন্নয়ন হয়েছে বলে জনগণের কাছে তুলে ধরেন। কিন্তু সরকার কি শুধু উন্নয়নই করেছে। এ প্রশ্নের ভিত্তিতে আলোচনায় উঠে আসে সরকার শিক্ষা ও কৃষি খাতে উন্নয়ন করলেও পদ্মা সেতু, শেয়ারবাজার, হলমার্ক কেলেংকারি, আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি, আইনের শাসনের অভাব ছিল প্রকট। এসব আলোচনার প্রেক্ষিতে ড. মশিউর রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে অর্জনই বেশি। গত চার বছরে তেমন কোন ব্যর্থতা নেই। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংক যে নালিশ করেছে তা ভুয়া। এর কোন ভিত্তি নেই। সরকার বিশ্বব্যাংকের কাছে প্রমাণ চেয়েও পায়নি। এছাড়াও কানাডা সরকারের কাছেও তথ্য চেয়েও পায়নি। সুতরাং এ দুর্নীতি প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত পদ্মা সেতু ইস্যুতে দুর্নীতি হয়েছে বলা যাবে না। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যর্থতা। কোন ক্ষেত্রেই সফলতা নেই। তারা মীমাংসিত তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু নিয়ে দেশের রাজনীতি পরিস্থিতি জটিল করেছে। তিনি বলেন, বিএনপি নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিরোধী দলের আন্দোলন করছে। কিন্তু সরকার গত ৫০ বছরের ইতিহাস ভূলুণ্ঠিত করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে আটক করেছে। যা কোনভাবেই কাম্য নয়। আলী রেজা বলেন, দেশের রাজনীতির এ সংকটময় মুহূর্তে সরকার ও বিরোধী দলের সংলাপ হচ্ছে না এটাই বড় ধরনের ব্যর্থতা। তবে গত চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি ছিল শেয়ারবাজারের ঘটনা। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সরকারের অনেক সময় লাগবে। সরকারি ব্যাংকে কাঠামোগত সমস্যা দেখা দিয়েছে। এটি দীর্ঘ- মেয়াদী। ফারাহ কবির বলেন, সরকারের গত চার বছরে কিছুটা সফলতা আছে। তবে ব্যর্থতাও কম নয়। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পরমত সহিষ্ণুতার ও গণতন্ত্র চর্চার অভাব। সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে কোন পদক্ষেপ দেখিনি। বর্তমান এ সময় রাস্তায় নারী-পুরুষ কেউই নিরাপদ নয়। অনুষ্ঠানে এছাড়াও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু নিয়ে আরেকটি ১/১১ সৃষ্টি ব্যাপারে আশংকা, সরকারের শেষ সময়ে স্বার্থবাদী সংগঠনগুলোর আন্দোলন কিভাবে সামলাবেন এবং যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধা বাতিলের প্রেক্ষিতে সরকারের করণীয় নিয়েও আলোচনা হয়।