ম্যাকাও পাখি বিচ্ছেদের পিছনে ওসির চাঁদা দাবি ও ছাগল দায়ী!

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২৭
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও প্রতিপালন সমিতি জানিয়েছে, আদালতের রায়ের ভুল ব্যাখ্যা করে ব্লু-গোল্ড ম্যাকাও পাখি দুটি আলাদা করেছে কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। চাঁদা চেয়ে না পাওয়ার কারণে এবং তার ছাগল রক্ষণাবেক্ষণ না করার কারণে তিনি এই কাজ করেছেন। শনিবার সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মো. ইউনুস মিয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অভিযোগ করা হয়। একইসাথে এই অভিযোগের ভিডিও ফুটেজও সরবরাহ করা হয়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলা হয়, সম্প্রতি আলাদা হওয়া ম্যাকাও পাখি দুটি এক করার জন্য কলাবাগান থানার ওসি ৪০ হাজার টাকা চাঁদা চেয়েছিলেন। তাকে পাঁচ হাজার টাকা দেয়া হয়। একইসাথে পাখি বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুল ওয়াদুদের গোয়ালঘরে ওসির একটি ছাগল ছিল। সেটি তিনি ফেরত নিতে বলেন। বৃহস্পতিবার ওসি তার ছাগলটি ফেরত নিয়ে যান সকালে। আর আদালতের রায়ের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে পাখি নিয়ে যান ঐদিন বিকালে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আদালতের রায়ের ভুল ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। রায়ে আগামী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সে সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়নি। সে দিন পর্যন্ত অপেক্ষা না করায় দুটি ডিম নষ্ট হয়ে গেছে। উল্লেখ্য, আদালত নতুন করে রায় দিয়েছে যে, এই বিষয় নিয়ে সিআরপিসি ১০০ ধারায় মামলাটি চলতে পারে না। এ বিষয়ে ওসি এনামুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি মিথ্যা কথা বলেছেন। ছাগল নিয়ে তার সঙ্গে কোন সম্পৃক্ততা নেই। মসজিদের জন্য নাকি আমি চাঁদা চেয়েছি! এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। আদালতের আদেশে পাখিটিকে উদ্ধার করে তার মালিকের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি মাত্র। আমার নিজের ইচ্ছায় কিছুই করিনি। তিনি বলেন, আগে শ্যামলী থেকে উদ্ধার করা বাঘ শাবক তিনটি বন বিভাগ ওয়াদুদের কাছে কিছুদিনের জন্য রেখেছিল। পরে তিনি এই বাঘ শাবক তিনটি দিতে সম্মত হচ্ছিলেন না। সে সময় আমরা তা উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি। এজন্যই তিনি আমাদের উপর ক্ষুব্ধ হন। এছাড়া তিনি নিজেকে হিরো বানানোর জন্য পুলিশের বিরুদ্ধে নানা মনগড়া বক্তব্য দিচ্ছেন।