চার বছরেও উপজেলা পরিষদ আইন বাস্তবায়িত হয়নি

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:৩১
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচিত উপজেলা পরিষদ তার মেয়াদের চার বছর অতিক্রম করলেও পরিষদ এখনো একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়নি। উপজেলা পরিষদ আইন ২০০৯ একটি যুগোপযোগী আইন হলেও কার্যত এই আইন এবং এর বিধিমালা বাস্তবায়িত হয়নি। অথচ সরকার নতুন করে আগামী আগস্ট বা সেপ্টেম্বরে নতুন করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন দিতে চাইছে। নতুন নির্বাচনের পাঁয়তারার মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার রাজধানী বিএমএ অডিটোরিয়ামে উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (উজপ্যাব) এর কনভেনশন অনুষ্ঠানে তারা এ সব অভিযোগ করেন। অনুষ্ঠানে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা বলেন, উপজেলা পরিষদকে কার্যকর করার লক্ষ্যে বিগত চার বছরে রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারক, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতিসহ বিভিন্ন স্তরের সদস্যের সঙ্গে মতবিনিময় হয়েছে। উপজেলা পরিষদকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে বাধাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া বিগত চার বছরে উপজেলা পরিষদের বেশ কয়েকজন চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান মৃত্যুবরণ করেছেন। এ সকল শূন্য আসনে এখন পর্যন্ত নির্বাচন হয়নি। উপজেলা পরিষদের এক তৃতীয়াংশ মহিলা সদস্য নির্বাচন করতেও নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ হয়েছে। এমন নাজুক পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন আগামী আগস্ট বা সেপ্টেম্বর মাসে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করতে আগ্রহী। অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। এগুলো হল:উপজেলা পরিষদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে হস্তান্তরিত ১৭টি বিভাগের কাজ পরিচালনার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে পরিপত্রের মাধ্যমে সকল কমিটি বাতিল, ১৩টি মন্ত্রণালয়ের ১৭টি বিভাগের সার্বিক বার্ষিক উন্নয়ন/অনুন্নয়ন বাজেট উপজেলা পরিষদ তহবিলে হস্তান্তর, উপজেলা পরিষদের আইনের ২৫ ধারা (উপদেষ্টা সংক্রান্ত) অবিলম্বে সংবিধান সম্মত সংশোধন, উপজেলা পরিষদের জন্য আদর্শ ট্যাক্স সিডিউল ঘোষণা এবং ভূমি হস্তান্তর করের ১২ শতাংশ উপজেলা পরিষদ তহবিলে হস্তান্তরের দাবি। সংগঠনের সভাপতি ফয়জুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইন উদ্দিন খান বাদল, ফজলে হোসেন বাদশা, সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, সংগঠনের মহাসচিব আতাউর রহমান আতা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। মইন উদ্দিন খান বাদল বলেন, রাতারাতি কোন সমস্যারই সমাধান হবে না। আমরা চাই সব কাজেরই বিকেন্দ্রীকরণ। তিনি বলেন, এমপিরা এক একজন মোঘল বাদশা, কেউ ক্ষমতা ছাড়বে না। উপজেলা চেয়ারম্যানরা এমপি নির্বাচিত হলে একই ঘটনা ঘটবে। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হবার আহবান জানান। মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, বাংলাদেশ তার স্বাধীনতার ৪১ বছর পার করলেও স্থানীয় সরকার এখনও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারেনি। এমপি ও আমলাতন্ত্র দুই দিক থেকে চাপ সহ্য করতে হয় স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের। অথচ স্থানীয় সরকার যত ক্ষমতাশালী হবে রাষ্ট্রের তত বেশি উন্নয়ন হবে। সেজন্য দেশের উন্নয়নের স্বার্থে মূল বাজেটের অর্ধেক টাকা এ খাতে দিতে হবে। পূর্ণ আর্থিক ক্ষমতার আইন প্রণয়ন করতে হবে। মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, চেয়ারম্যানদের স্ব স্ব দলের মধ্যে থেকে দাবিগুলো তুলে ধরতে হবে। দলবাজি বাদ দিয়ে দেশ ও জনউন্নয়নের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে হবে। আপনাদের সঙ্গে রাজনৈতিক দল না থাকলেও মিডিয়া সবসময়ই আছে।