সাতক্ষীরায় ভুয়া সনদ দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সহকারী পুলিশ সুপার পদে চাকরি পেয়েছেন জেলার তালা উপজেলার মুড়াকুলিয়া গ্রামের মোবারক আলী সরদারের ছেলে কলেজ শিক্ষক মো: শাহিনুর রহমান। তালা উপজেলার মুড়াকুলিয়া গ্রামের মো: জাহিদুর রহমান গতকাল শনিবার সকালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি বরাবর লিখিতভাবে এই অভিযোগ করেন। বিষয়টি জানাজানির পর গোয়েন্দা সদস্যরা তদন্তে নেমেছে।
এদিকে শাহিনুর রহমানের পিতা মোবারক আলী সরদার আদৌ মুক্তিযোদ্ধা নন এই মর্মে সাতক্ষীরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
জাহিদুর রহমানের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, তালা উপজেলার মুড়াকুলিয়া গ্রামের মোবারক আলী সরদারের ছেলে সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক মো: শাহিনুর রহমান ৩১ তম বিসিএস পরীক্ষায় মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সহকারী পুলিশ সুপার পদে চাকরির জন্য আবেদ করেন। পরীক্ষার আগে পিতার নামে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার একটি সনদ দেখিয়ে তিনি আবেদন করেছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সহকারী পুলিশ সুপার পদে তার চাকরি হওয়ার পর বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে সুচতুর কলেজ শিক্ষক শাহিনুর রহমান তার পিতার নামে মুক্তিযোদ্ধা সনদ সংগ্রহের চেষ্টা করেন। বিভিন্নভাবে চেষ্টা তদবির করে ব্যাক ডেটে ২০১২ সালের ১৯ এপ্রিল মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে তার পিতা মোবারক আলী সরদারের নামে মুক্তিযোদ্ধা গেজেট প্রকাশ করান। পিতার মুক্তিযোদ্ধা গেজেটভুক্তির ১১ মাস পূর্বে কিভাবে কলেজ শিক্ষক শাহিনুর রহমান মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩১ তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে টিকে থাকলেন তা কারোর বোধগম্য নয়।
এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সাতক্ষীরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সভাপতি ইনামুল হক বিশ্বাস জানান, মোবারক আলী আদৌ একজন মুক্তিযোদ্ধা নয়। মুক্তিবার্তায়ও তার নাম নেই। কিন্তু কিভাবে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় তার ছেলের চাকরি হলো তা তার বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, শুনেছি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে মোবারক আলীর নামে একটি গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।
এ ব্যাপারে কলেজ শিক্ষক শাহিনুর রহমানের সাথে কথা বলার জন্য তার সেল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।
