জীববিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:২১
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ আমি তোমাদের জীববিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্রের প্রাণিকোষ ঃ গঠন, বৈশিষ্ট্য ও কাজ) Animal Cell - বিষয়ের ওপর রচনামূলক প্রশ্নোত্তর উপস্থাপন করব, প্রশ্ন ঃ মাইটোকন্ড্রিয়াকে কেন কোষের শক্তি ঘর বলা হয় ? এবং এর গঠন ও কাজ বর্ণনা কর। উত্তর ঃ মাইটোকন্ড্রিয়ার গঠন (Structure of Mitochondria) ঃ আকৃতি (Structure)ঃ গোলাকার, দন্ডাকার , সূত্রাকার কিংবা আংটির মতো বা তারকা আকৃতির হয়ে থাকে। আয়তন ঃ দন্ডাকার মাইটোকন্ড্রিয়ার দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ । সূত্রাকার দৈর্ঘ্য ও গোলাকোর মাইটোকন্ড্রিয়ার ব্যাস পর্যন্ত। সংখ্যা (Number) ঃ প্রতিটি কোষে এদের সংখ্যা ২০০-৩০০ প্রায়। কোষের কর্মক্ষমতার উপর এর সংখ্যা নির্ভর করে। অবস্থান (Status) ঃ এটা সাইটোপ্লাজমের ভিতরে সর্বত্র বিক্ষিপ্ত অবস্থায় থাকে। তবে সেল ডািভশনের সময় মাকুর কাছাকাছি চলে যায়। উত্পত্তি ঃ বিভাজনের মাধ্যমেই এর উত্পত্তি ঘটে। কোষস্থ সাইটোপ্লাজমের মাঝে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় যে ধূসর বর্ণের ও শক্তিশালী অঙ্গগুলো দেখা যায় তাকে মাইটোকন্ড্রিয়া বলে। কোষের প্রায় ২০ ভাগ জায়গা দখল করে থাকে এই মাইটোকন্ড্রিয়া। একটি আদর্শ মাইটোকন্ড্রিয়ার সাধারণতঃ নিম্নলিখিত অংশগুলি দেখা যায়। যথা ঃ কোষ আবরনী (Cell membrence) ঃ প্রতিটি মাইটোকন্ড্রিয়ার দেহ লিপোপ্রোটিন নির্মিত দুই স্তরবিশিষ্ট ঝিল্লীি দিয়ে আবৃত ।এদের বাইরের স্তরটি মসৃণ কিন্তু ভিতরের স্তরটি বিশেষভাবে ভাঁজ করা থাকে। বিশেষ ভাঁজগুলোকে ক্রিস্টি বলে। অক্সিজোম (Oxisome) ঃ ক্রিস্টিগুলোর গাঁয়ে সবৃন্তক অতিক্ষুদ্র অসংখ্য গোলাকারদানা সুবিন্যস্ত থাকে, এদের অক্সিজোম বলা হয়। শ্বসনে প্রয়োজন হয় এমন সব উেসচকই প্রতিটি অক্সিজোমে অবস্থান করে। মাতৃকা (Matrix) ঃ মাইটোকন্ড্রিয়ার মধ্যে এক ধরণের তরল পদার্থ থাকে, যাকে মাতৃকা বলা হয়। মাইটোকন্ড্রিয়ার পদার্থগুলো লিপিড ও প্রোটিন সমন্বয়ে গঠিত। এতে ৭০ টির ও বেশি এনজাইম এবং ১৪ টির মতো কো- এনজাইম অবস্থান করে। মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ (Function of Mitochondria) ঃ ১.শক্তি উত্পাদন তথা- শ্বসন, অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন ও ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট প্রভৃতি মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ। ২.প্রোটিন সংশ্লেষণে এরা অংশ গ্রহণ করে বলে ধারণা পোষন করা হয়। ৩.এরা কিছু পরিমাণ DNA ও RNA উত্পাদন করে। ৪.এরা স্নেহ বিপাকে অংশগ্রহণ করে। ৫.জৈবিক প্রক্রিয়ার জন্য বিভিন্ন এনজাইম ও কো- এনজাইম তৈরি করে। ৬.জননকোষ তথা- শুক্রাণু ও ডিম্বাণু গঠনে এর ভূমিকা রয়েছে।