দ্যা গা র্ডি য়া ন

প্রভাবশালী উত্সাহব্যঞ্জক নারী

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:২৮
ব্রিটিস দৈনিক ‘দ্যা গার্ডিয়ান’ পত্রিকাটি বিভিন্ন পেশায় শীর্ষে থাকা ১০০ প্রভাবশালী প্রেরণাদায়ী নারীদের নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। যা ভবিষ্যত্ প্রজন্মের নারীদের প্রেরণা হিসেবে তাদেরকে উন্নতির শীর্ষে পৌঁছতে সহায়তা করবে। প্রেরণাদায়ী নারীদের জীবনে কতটুকু অর্জন এবং কতটুকু বিসর্জন দিয়ে মানব সেবায় নিজেদের সম্পৃক্ত রেখেছেন তা এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে উঠে এসেছে। এদের মধ্যে হাওয়া আবদি, অং সান সুচি, মার্থলেন ফক্স, ফ্রেনি আর্মস্ট্রং, এ্যথেন ডোনাল্ড, জুলিয়ান রটিচ, হেলেনা কেনেডি, অন্যতম। লিখেছেন— মরিয়ম চম্পা হাওয়া আবদি! সোমালিয়ার প্রথম স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হাওয়া আবদি ১৯৮৩ সালে শিশু ও মহিলাদের জন্য একটি হাসপাতাল খোলেন। ১৯৯১ সালে দেশটিতে যখন গৃহযুদ্ধ চলছিল তখন তিনি সকলের জন্য এই হাসপাতালটি উন্মুক্ত করে দেন। যুদ্ধকালীন সময়ে সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে নারী এবং শিশুরা পুষ্টিহীনতাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত ছিল। এই ক্যাম্প চলাকালীন সময়ে সোমালিয়ার জঙ্গিরা তার উপর হামলা চালায়। জঙ্গিরা পরবর্তীতে তাকে এই সেবা কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হুমকি দেন। তখন আবদি জঙ্গিদেরকে জানান যে আমি নারী হিসেবে নয় একজন চিকিত্সক হিসেবে আমার দায়িত্ব পালন করছি। যুদ্ধকালীন সময়ে আবদি তার দুই কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে তার নিজস্ব সঞ্চিত অর্থ দিয়ে এই সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন। মার্থালেন ফক্স! জনপ্রিয় প্রযুক্তিবিদ মার্থালিন ফক্স’র জন্ম ১৯৭৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি। বিশ্বের অন্যতম ভ্রমণ বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘লাস্ট মিনিট ডট কম’-এর প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন মার্থালেন, যা তাকে মাল্টি মিলিওনিয়র করতে সহায়তা করেছে। তিনি ২০০৭ সালে ব্রিটেনে ‘এন্টি গণ’ নামে একটি দাতব্য সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। ৪০ বছর বয়সী মার্থলেন ব্রিটিশ সরকারের রেস অন লাইন ২০১২ নামের একটি প্রকল্প হাতে নেন। প্রায় ১০ মিলিয়ন বয়স্ক ব্রিটিশ নাগরিক যারা ইন্টানেট ব্যবহার করতে জানে না তাদের জন্য এই প্রকল্পটি করা হয়। তিনি ২০০৪ সালে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন দাতব্য ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে নিজেকে সার্বক্ষণিক সম্পৃক্ত রেখেছেন। তিনি মূলত মানবাধিকার, নারী অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে কাজ করে থাকেন। ফ্রেনি আর্মস্ট্রং একজন পরিবেশবাদী কর্মী, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং ১০:১০ কর্মসূচীর প্রতিষ্ঠাতা। ব্রিটিশ এই নাগরিক জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করতে গিয়ে ১০:১০ ধারণার জন্ম দেন। উন্নত দেশগুলো এই প্রক্রিয়ার জন্য ২০৩০ সাল থেকে ২০৫০ সালের সময় নিয়েছিল। এরই প্রেক্ষিতে ফ্রেনি আর্মসট্রং নির্মাণ করেন দ্য এজ অব স্টুপিড নামের চলচিত্রটি। এই চলচিত্রটির মূল বক্তব্যও ছিল জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে চলচ্চিত্রটিতে প্রশ্ন রাখেন যদি সুযোগ থাকে তাহলে আমরা কেন দুর্যোগ থেকে নিজেদের রক্ষা করবো না। বিশ্বের প্রায় ১০ হাজারের উপর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং ১ লক্ষেরও অধিক সাধারণ জনগণ ফ্রেনি আর্মস্ট্রংয়ের ১০% কার্বন নির্গমন কমানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই ১০:১০ শ্লোগানটি এখন বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশ চালু হয়েছে।