‘আরও জিততে চাই, তবে...’

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:২৩
গত চার বছরে সবচে বেশিবার এ কথাটিই বলতে হয়েছে তাকে—ব্যক্তিগত পুরস্কারের জন্য নয়, দলের জন্য খেলি আমি। এতো বেশি ব্যক্তিগত পুরস্কার জিতেছেন যে, লিওনেল মেসির এখন এটা মুখস্থ হয়ে যাওয়ার কথা। এবার একটু অন্যভাবে ব্যাখ্যা করলেন ব্যাপারটা। মেসি বলছেন, আসলে দলীয় একটা ট্রফি জিতলে সবাই মিলে যে আনন্দ করা যায়, সেটার অভাব থাকে ব্যক্তিগত বড় অর্জনেও। দলীয় ট্রফিও জীবনে কম জেতেননি। আর্জেন্টিনার হয়ে যুব বিশ্বকাপ ও অলিম্পিক জিতেছেন। বার্সেলোনার হয়ে যেতা সম্ভব এমন সব ট্রফি কমপক্ষে একবার করে জিতেছেন। টানা তিনটিসহ ৫টি লা লিগা, তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, দুটি কোপা দেল রে, দুটি ক্লাব বিশ্বকাপসহ অজস্র ট্রফি জিতেছেন বার্সার হয়ে। সে সঙ্গে গত পাঁচ বছর ধরে নিজের বিস্ময়কর ফর্ম ধরে রেখেছেন। কার্যত প্রতিবছর আরো ফর্ম ভালো হয়েছে। গত বছর ৯১ গোল করে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাকে পেছনে ফেলে জিতে নিয়েছেন ২০১২ সালের ফিফা ব্যালন ডি’অর পুরস্কার। আর এ পুরস্কার প্রসঙ্গেই মেসি বলছিলেন, পুরস্কার প্রাপ্তির আনন্দ কখনোই ট্রফি জয়ের মতো হয় না, ‘আসলে ব্যক্তিগত পুরস্কার প্রাপ্তিতে আমি অন্তত সেভাবে আনন্দে ফেটে পড়তে পারি না। দলের সবার সঙ্গে একটা ট্রফি জেতায় যে বাধভাঙ্গা আনন্দ করা যায়; এখানে তা হয় না। আর দলীয় পুরস্কারের সঙ্গে এসব ব্যক্তিগত পুরস্কারের তুলনাও হয় না।’ ব্যালন ডি’অর জেতার কদিন পর একবার বলেছেন, চারটি ব্যালন ডি’অর ট্রফির বদলে তাকে কেউ একটা বিশ্বকাপ দিলে; তিনি সেটাই নিতেন! দলীয় এ রকম বড় লক্ষ্য থাকলেও পরিস্কার করে দিয়েছেন একটা ব্যাপার যে, ভবিষ্যত্ নিয়ে এতো বেশি ভাবেনই না আর্জেন্টাইন এ ক্ষুদে জাদুকর, ‘আমি আসলে এ রকম বাস্তবিক কোনো লক্ষ্য নিয়ে খেলি না। আমি বর্তমানে ডুবে থাকতে বেশি পছন্দ করি।’ এসব কথা হয়তো একজন লাতিন জাদুকর হিসেবে মেসির মুখে অসাধারণ মানিয়ে যায়। কিন্তু সবকিছুর পরও তিনি মানুষ। প্রাপ্তি তাকে না ছুয়ে গিয়ে পারে না। চার চারটি ব্যালন ডি’অরকে যতো ‘ছোট’ করেই দেখুন না কেন; প্রতিটির আলাদা আবেগী গুরুত্ব আছে তার কাছে। সেই গুরুত্ব বর্ণনা করে বললেন, ‘আমার পরিবারের সবার সামনে প্রথমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জেতাটা ছিল অসাধারণ এক অনুভূতি। আর দ্বিতীয়টা ছিল একটা চমক। আমি দ্বিতীয় ট্রফিটা একদমই আশা করিনি। পরেরটা ছিল প্লাতিনি আর ক্রুইফের মতো কিংবদন্তীর নামের পাশে নাম লেখানো। ব্যক্তিগতভাবে বিরাট সম্মানের ব্যাপার। এরপর আমি ওনাদের ছাড়িয়ে গেলাম। যদিও ওনারা আমার কাছে আগের মতোই গ্রেট। তারপরও প্রতিটি পুরস্কারে ভিন্ন ভিন্ন এক অনুভূতি, ভিন্ন ভিন্ন গুরুত্ব আছে।’ তবে শেষ কথাটা নিজেই বলে দিলেন। এসব ব্যক্তিগত পুরস্কার আর জীবনের লক্ষ্যটা কিভাবে ভারসাম্যপূর্ণ করতে হয়, তা যেন এক কথায় বুঝিয়ে দিলেন, ‘এসব রেকর্ড ভালো, পেতে ভালো লাগে। তবে কি জানেন, আমি সবসময় এসব প্রাপ্তির স্বপ্ন দেখতে থাকি না। আমি অবশ্যই আরো জিততে চাই। কিন্তু এসব নিয়ে আচ্ছন্ন হয়ে থাকি না।’