সনাক্তকরণে আঙ্গুলের ছাপ

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৪৩
অপরাধী সনাক্তকরণের জন্য আঙ্গুলের ছাপ সংগ্রহ করা ও অপরাধস্থলে অপরাধীর রেখে যাওয়া আঙ্গুলের ছাপের সাথে সন্দেহভাজন কারও আঙ্গুলের ছাপ মিলিয়ে দেখার প্রক্রিয়াটি বহুদিন থেকেই প্রায় নির্ভুল একটি পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহূত হয়ে আসছে। এ ছাড়া গেল এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আঙ্গুলের ছাপের এই স্বাতন্ত্র ব্যবহূত হয়ে আসছে বিভিন্ন স্থানের প্রবেশাধিকার সংরক্ষণ বা তথ্য যাচাইয়ের জন্যও। যদিও আজকের এই পর্যায়ে আসার জন্য অন্য অনেক আবিষ্কারের মতো ফিঙ্গারপ্রিন্ট টেকনোলোজিকেও পেরিয়ে আসতে হয়েছে বেশ অনেকগুলো ধাপ। এ ক্ষেত্রে কোনো সমতলের সঙ্গে মানুষের হাতের আঙ্গুলের সংযোগ সেখানে যে প্রায় অদৃশ্য একটি ছাপ রেখে যায় এ বিষয়টি সম্পর্কে মানুষ সর্বপ্রথম জানতে পারে ঊনবিংশ শতকের শেষভাগে। সে সময় কোনো সমতলে থাকা আঙ্গুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্টকে দৃশ্যমান করার জন্য ডাস্টিং হিসেবে ফাইন পাউডার ব্যবহার করা হতো। ১৮৮০ সালে খ্যাতনামা বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত এক চিঠিতে ইংরেজ দুই বিজ্ঞানী হেনরি ফল্ডস ও উইলিয়াম জেমস হার্শেল প্রথমবারের মতো সবাইকে জানান যে প্রতিটি মানুষের হাতের আঙ্গুলের ছাপই স্বতন্ত্র এবং দীর্ঘস্থায়ী। পরবর্তীতে আরেক ইংরেজ বিজ্ঞানী স্যার ফ্রান্সিস গ্যালটন এই তথ্য ও নানাবিধ গবেষণার উপর ভিত্তি করে প্রথম ফিঙ্গারপ্রিন্ট সিস্টেম এর উন্নয়ন ঘটান। মানুষের আঙ্গুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্টের স্বকীয়তা যাচাই ও বিশ্লেষণের জন্য তিনি আঙ্গুলের ছাপে থাকা বাঁক, রেখার পুনরাবৃত্তি ও কুণ্ডলীর অবস্থানগুলো নিয়ে বেশ কিছু গ্রুপ তৈরি করেন। গ্যালটনের উদ্ভাবিত এই প্রক্রিয়াটির আরও কিছু উন্নয়ন ঘটিয়ে একে অনেক বেশি ব্যবহারউপযোগী করে তোলেন লন্ডন পুলিশের তত্কালীন কমিশনার স্যার এডওয়ার্ড আর হেনরি। ১৯০০ সালের জুন মাসে তার তৈরি করা এই ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডিটেকশন সিস্টেমটি গ্যালটন-হেনরি সিস্টেম নামে প্রাকাশিত হয়। আর ১৯০১ সাল থেকে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে এর ব্যবহার শুরু করে অপরাধ তদন্ত সংস্থা স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড। মজার বিষয় হলো, গ্যালটন-হেনরি’র উদ্ভাবিত এই আঙ্গুলের ছাপ নির্ণায়ক ব্যবস্থায় পরবর্তী সময়ে সামান্য কিছু পরিবর্তন এলেও এখন অবদি এটিও হলো আঙ্গুলের ছাপ নির্ণয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত পদ্ধতি।