গৌরনদী হাসপাতাল চত্বরে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ১০টি প্যাথলজিক্যাল সেন্টার। চায়ের দোকান, যাত্রী ছাউনি, ওষুধের দোকান ও অলি-গলিতে গড়ে উঠেছে ওইসব প্যাথলজিক্যাল সেন্টার। নামসর্বস্ব অধিকাংশ প্যাথলজিতে নেই কোন টেকনিশিয়ান বা প্যাথলজিষ্ট। এমনকি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য নেই প্রয়োজনীয় মেশিনপত্র ও রি-এজেন্ট। বিভিন্ন টেস্টের নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। টেস্ট না করেই রিপোর্ট প্রদানের অভিযোগও রয়েছে অনেকের বিরুদ্ধে। গৌরনদী হাসপাতাল চত্বরে একটি চায়ের দোকানের মধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে আশা নামের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
পাশেই অপর একটি ওষুধের দোকানের মধ্যে রয়েছে আমেনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার। একইভাবে আশোকাঠি বাসস্ট্যান্ডের একটি পরিত্যক্ত যাত্রী ছাউনির মধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে সোনার বাংলা ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এছাড়া চিপা গলির মধ্যে কাঁচা টিনের ঘরে ৩টি প্যাথলজি সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। সম্পূর্ণ নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গড়ে ওঠা ওইসব প্যাথলজিতে রোগীদের জন্য মলমূত্র ত্যাগের ব্যবস্থা পর্যন্ত নেই। অধিকাংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক হচ্ছেন সরকারি দলের নেতা-কর্মী।
স্থানীয়রা জানান, এসব প্যাথলজি ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছেন হাসপাতালে কর্মরত অধিকাংশ চিকিত্সক ও কয়েকজন কর্মচারী। রোগি পাঠানোর জন্য তাদেরকে ৪০% থেকে ৬০% কমিশন প্রদান করা হয়। যে কারণে হাসপাতালে আধুনিক এক্সরে মেশিন, ইসিজি মেশিন ও প্যাথলজি সেন্টার থাকা সত্ত্বেও কমিশনের আশায় ডাক্তাররা টেস্টের জন্য রোগিদের বাইরে পাঠান।
গৌরনদী পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও যুবলীগ নেতা মো. ফিরোজ রহমান অভিযোগ করেন, প্যাথলজি ব্যবসার কারণে গৌরনদী হাসপাতালের পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। প্যাথলজির লোকজন প্রতিদিন টেস্টের রোগিদের নিয়ে টানাটানি শুরু করে। গৌরনদী হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.সুনিল চন্দ্র দাশ জানান, যে সমস্ত প্যাথলজির লাইসেন্স নেই এবং টেকনোলজিস্ট নেই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া যেসব চিকিত্সক ও কর্মচারী ওইসব অবৈধ ব্যবসার সাথে যুক্ত রয়েছেন তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।
