কমলগঞ্জে গড়ে উঠেছে চা পাতা পাচারের শক্তিশালী সিন্ডিকেট

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৫০
কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন চা বাগান থেকে রাতের আঁধারে ট্রাক বোঝাই কাঁচা ও শুকনো চা পাতা দেদারসে পাচার হচ্ছে। বাগানের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে একটি সিন্ডিকেট প্রতি রাতে ট্রাকযোগে এই চা পাতা পাচার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাচারকারী চক্র রাতে বিভিন্ন চা বাগান থেকে গাছের পাতা ছিঁড়ে ও কচি ডাল ভেঙ্গে জড়ো করে ভোরে তা ট্রাক বোঝাই করে পাচার করছে। চা পাতার সাথে অন্য একটি চক্র চায়ের ছায়াবৃক্ষ হিসাবে মূল্যবান গাছ-গাছালিও পাচার করছে। এতে উপজেলার চা শিল্প ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে বলে স্থানীয় চা শ্রমিকরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। জানা যায়, ডানকান ব্রাদার্সের চাতলাপুর, শমশেরনগর ও আলীনগর চা বাগান থেকে ব্যাপকহারে চা পাতা ও ছায়াবৃক্ষ চুরি হয়ে যাচ্ছে। চা বাগানের শ্রমিক ও স্থানীয় লোকজন জানান, প্রতিদিন ভোরে দুই বা এক গাড়ি করে চা পাতা পাচার হচ্ছে। ডানকান ব্রাদার্স চাতলাপুর চা বাগানের একজন কর্মচারী জানান, চা পাতা পাচারকারী এই চক্রটি খুবই চালাক। তাদের লোক দিয়ে রাতে চা গাছের পাতা ছিঁড়ে এবং কচি ডাল ভেঙ্গে নিয়ে যায়। এতে চা গাছের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বাগান থেকে চা পাতা পাচার বিষয়ে চাতলাপুর বাগান কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে কুলাউড়া থানায় একটি অভিযোগও দিয়েছে। শমশেরনগর ও দেওছড়া চা বাগানের শ্রমিকরা জানান, বাগানের পার্শ্ববর্তী বস্তির একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর ঐ চক্রের লোকজন এবং চা বাগানের কিছু শ্রমিক সেকশনসমূহ থেকে পাতি উত্তোলন করে। পাতি উত্তোলনকারী লোকদের কেজি প্রতি ৪ টাকা হারে প্রদান করা হয়। এরপর ট্রাক ভর্তি করে ভোর রাতে তা পাচার করা হয়। বাগানের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এই চা পাতা পাচার হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন। শমশেরনগর চা বাগান ইউপি সদস্য সিতারাম বীন বলেন, বাগান কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এবং অবহেলার কারণে ব্যাপকহারে চা পাতা ও গাছ-গাছালি চুরির ঘটনা ঘটছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ চা শিল্প এখন ক্রমান্বয়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন পূর্বে পাচারকারী এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। বাগান কর্তৃপক্ষ কঠোর ভূমিকা পালন করলে কোন অবস্থাতেই চা পাতা ও ছায়াবৃক্ষ পাচার হতো না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে অভিযোগ বিষয়ে শমশেরনগর চা বাগান ব্যবস্থাপক সাহাদত হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, এসব বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না এবং তিনি কোন মন্তব্যও করতে চান না।