টেকনাফ বাহারছড়ায় পুলিশ ও ডাকাতদলের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। আধ ঘণ্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধে ডাকাত সর্দার মালেক নিহত হয়েছে। এ সময় এসআইসহ ৩ পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
নিহত মালেক ডাকাত টেকনাফ বাহারছড়া নোয়াখালী পাড়ার বাঘঘোনা এলাকার সব্বির আহাম্মদের ছেলে। সে এলাকায় মূর্তিমান আতংক হিসাবে পরিচিত ছিল। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, অস্ত্র, খুনসহ টেকনাফ ও উখিয়া থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। গতকাল রবিবার ভোরে কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আকতার, সহকারী পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) মোঃ ফারুক আহাম্মদ, টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফরহাদ, কক্সবাজার ডিবির ওসি মোঃ জাকির ও টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক মোঃ দিদারুল ফেরদৌসের নেতৃত্বে পুলিশের কয়েকটি টিম টেকনাফ বাহারছড়া নোয়াখালী বাঘঘোনা পাহাড়ে ডাকাতের আস্তানায় অভিযানে যায়। পাহাড়ে পুলিশ ও ডাকাতদল মুখোমুখি হলে ডাকাতরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে, পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পুলিশ ও ডাকাতদলের মধ্যে আধ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে প্রায় ৩৫/৪০ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। পুলিশের দাবি, এই পর্যায়ে ডাকাতদলের সর্দার মালেক গুলিবিদ্ধ হলে তাকে আটক করে টেকনাফ হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত ডাক্তার কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। কক্সবাজার হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পুলিশের এসআই আব্দুল মোনাফ, কনস্টেবল নাজমুল ও মনসুর গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পাহাড়ে পুলিশ-ডাকাত বন্দুকযুদ্ধের শব্দে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে পুলিশকে সহযোগিতা করেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে একটি লম্বা বন্দুক, এলজি, এগারটি তাজা কার্তুজ, দুইটি রাইফেলের গুলি, সাতটি গুলির খোসা, বারটি মোবাইল সেট, দু’টি রাম দা, ধামা, কুড়াল, ২০ হাজার ৮শ’ টাকা উদ্ধার করেছে।
গত শুক্রবার বাহারছড়া-নোয়াখালী-জুম্মাপাড়া এলাকায় মালেক, নূর মোহাম্মদ, শফিকউল্লাহ ও মিয়ানমারের জমির হোসেনের নেতৃত্বে ৮/১০ জনের অস্ত্রসজ্জিত একদল ডাকাত বাহারছড়া সড়কে ব্যারিকেড বসিয়ে গাড়ি ডাকাতি করে। এ সময় ডাকাতরা পুলিশ ও জনতাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে পাহাড়ে চলে যায়। এ ঘটনায় চিহ্নিত ডাকাত মালেক, নূর মোহাম্মদ ও শফিকউল্লাহকে আসামি করে শনিবার টেকনাফ থানায় ডাকাতি মামলা রুজু করে পুলিশ। শনিবার হোয়াইক্যং এলাকা থেকে পুলিশ বাহারছড়া নোয়াখালীর বাঘঘোনা এলাকার ডাকাত নূর মোহাম্মদ(২২) ও শফিকউল্লাহকে (২০) আটক করে। তারা ডাকাতির সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পুলিশ তাদের নিয়ে নয়াপাড়া মুচনী এলাকায় ডাকাত জমিরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি এলজিসহ তাকে আটক করে। ধৃত ডাকাতদের নিয়ে পাহাড়ে অভিযানে গেলে শুরু হয় বন্দুকযুদ্ধ। এলাকায় বাহারছড়া নোয়াখালী পাড়ায় ডাকাত মালেক নিহত হওয়ার খবরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেন এলাকাবাসী। মালেক ডাকাতের মোবাইলে বিভিন্ন ছবি পাওয়া যায়। একটি ছবি তার দুর্ধর্ষ ডাকাতি জীবনের সাক্ষ্য দেয়।
