রাশিয়া থেকে সমরাস্ত্র কিনতে আট হাজার কোটি টাকার ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর হবে ঢাকা ও মস্কোর মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তিনদিনের রাশিয়া সফরে সামরিক সহায়তা ছাড়াও ছয়টি সমঝোতা স্মারক ও দুটি চুক্তি স্বাক্ষর হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি গতকাল রবিবার দুপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, আইন ও বিচার এবং সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে সহযোগিতা এবং সমঝোতা স্মারক ও পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপন সংক্রান্ত দুটি চুক্তি স্বাক্ষর হবে। পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রের প্রস্তুতি সমীক্ষা এবং ঢাকায় পারমাণবিক শক্তি তথ্য কেন্দ্র স্থাপনে চার হাজার কোটি টাকার ঋণ চুক্তি হবে। রূপপুর পরমাণু বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের মূল কাজ অর্থায়নের মুখ্য ইস্যুগুলোতে ইতিমধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে পৌঁছানো সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। এ প্রকল্পে সর্বোচ্চ ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হবে। ডা. দীপু মনি জানান, রাশিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হচ্ছে। সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে নতুন সহযোগিতা গড়ে তোলা হবে। আওয়ামী লীগের আগের আমলে মিগ-২৯ কেনা নিয়ে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়। পরে তা প্রমাণ হয়নি।
ডা. দীপু মনি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম তত্কালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে সরকারি সফরে মুক্তিযুদ্ধের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। গত ৪০ বছরে ঢাকা-মস্কোর সম্পর্কে আর উন্নয়ন ঘটেনি। বর্তমান সরকার সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ঐ অঞ্চলের ১৮০ কোটি মানুষের বাজারে আমরা যোগাযোগ রেখে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে চাই।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সব ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রী আজ সোমবার সকাল নয়টায় বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটযোগে মস্কো রওয়ানা হবেন এবং আগামী বৃহস্পতিবার সকাল নয়টায় দেশে ফিরে আসবেন।
