গোপালগঞ্জে দুই চোরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১২
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পিটিয়ে ও কুপিয়ে দুই চোরকে হত্যা করেছে তিন গ্রামের লোকজন। গত শনিবার রাত ৩টার দিকে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের মুন্সিরচর বিলে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহতরা হলেন, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার নিলফা গ্রামের এহসান মোল্লার ছেলে ফরহাদ মোল্লা (৩৮) ও একই উপজেলার করফা গ্রামের আব্দুর রাজেক শেখের ছেলে কবির হোসেন শেখ (৩২)। খবর পেয়ে গতকাল রবিবার সকালে গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানসহ পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, গত শনিবার রাতে সেনেরচর গ্রামের দীনবন্ধু বালার দুইটি গরু, দীন মন্ডলের তিনটি, হাবিবুর রহমান সরদারের একটি ও সাধন বিশ্বাসের একটি গরু তাদের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে একদল চোর চুরি করে মুন্সিরচর বিলের মধ্যে নিয়ে রাখে। আরো গরু চুরির উদ্দেশ্যে চোররা অন্য বাড়িতে হানা দিলে গ্রামবাসী টের পেয়ে যায়। পরে সেনেরচর, মুন্সিরচর ও সিঙ্গিপাড়া গ্রামের লোকজন এক হয়ে লাঠিসোটা ও কাত্রা নিয়ে চোরদের ধাওয়া করে। এ সময় চোরদলের সদস্য কবির হোসেন শেখ ও ফরহাদ মোল্লা পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। গ্রামবাসী ওই দু’জনকে ধরে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। চোর দলের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে টুঙ্গিপাড়া থানার এসআই আসলাম খানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই দুই জনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে টুঙ্গিপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে ফরহাদকে পরে গোপালগঞ্জ হাসপাতালে পাঠানো হয়। টুঙ্গিপাড়া হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় রবিবার সকাল ৭টায় কবির ও গোপালগঞ্জ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ৮টায় ফরহাদ মারা যায়। টুঙ্গিপাড়া থানার এসআই মো. হাফিজ ভুঁইয়া জানান, হত্যার ঘটনায় টুঙ্গিপাড়া থানার এসআই আসলাম খান বাদী হয়ে সেনেরচর, মুন্সিরচর ও সিঙ্গিপাড়া গ্রামের অজ্ঞাত দুই থেকে তিন হাজার বাসিন্দাকে আসামি করে একটি মামলা করেছে। অন্যদিকে চুরির ঘটনায় দীনবন্ধু বালা বাদী হয়ে নিহত দু’জনসহ অজ্ঞাত চার থেকে পাঁচ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। নিহত কবির হোসেনের পিতা আব্দুর রাজেক শেখ বলেন, আমার ছেলে আগে থেকেই এ জাতীয় কাজে জড়িত ছিল। এ কারণে তাকে আড়াই বছর আগে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। সে খারাপ কাজ করেছে বলে জনগণ তাকে মেরে ফেলেছে। এজন্য আমার খারাপ লাগছে না। আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গ্রামের মানুষের অনুরোধে শুধু লাশ দেখতে টুঙ্গিপাড়া হাসপাতালে এসেছি।