টিকফা চুক্তি সই জরুরি হয়ে পড়েছে :বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১২
বাণিজ্যমন্ত্রী গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, সমপ্রতি বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ফলে এর নেতিবাচক প্রভাব অন্যান্য দেশের ক্রেতাদের মধ্যেও পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে দেশটির সাথে ‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা চুক্তি (টিকফা)’ সই করা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে তিনি মনে করেন। গতকাল রবিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘গার্মেন্টস এক্সেসরিজ’ প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ এন্ড প্যাকেজিং ম্যানুফেকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) সভাপতি রাফেজ আলম চৌধুরী। প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ‘টিকফা’ স্বাক্ষরের জন্য চাপ দিয়ে আসছে। বাংলাদেশ চাচ্ছে আমেরিকায় সব পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা পেলে ‘টিকফা’ স্বাক্ষর করবে। আমেরিকায় বর্তমানে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির এক শতাংশও (টাকার অংকে) শুল্কমুক্ত সুবিধা পায় না। টিকফার বিষয়বস্তুতে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ, শিশুশ্রম বন্ধসহ বেশকিছু শর্ত আছে; যা চুক্তি স্বাক্ষরের পর মানার বাধ্য-বাধকতা তৈরি হবে। আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমেরিকা এখনো আমাদের জিএসপি সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়নি। চলতি মাসের ৩১ তারিখের মধ্যে তারা আমাদের মতামত চেয়েছে। আমরা মতামত তৈরি করছি। সরকারি পর্যায়েও তাদের সাথে আলোচনা করবো। আশা করছি তারা এ সুবিধা প্রত্যাহার করবে না। তবে কোন কারণে আমেরিকায় জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার হলে ইউরোপের বাজারেও এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেন তিনি। এটাকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই বলে তিনি রপ্তানিকারকদের সতর্ক করে দেন। আলোচনায় অংশ নিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এ বিষয়ে সরকারকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমেরিকায় জিএসপি তুলে দেয়া হলে সরাসরি খুব যে ক্ষতিগ্রস্ত হবো তা নয়। কিন্তু এর প্রভাব ইউরোপে পড়লে রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এজন্য বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এটা একটা ষড়যন্ত্র হতে পারে। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী, মেলা আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান হাসানুল করিম চৌধুরী প্রমুখ। উল্লেখ্য, গত অর্থবছরে বাংলাদেশের ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের রপ্তানি আয় হয়েছে। এর প্রায় ৮০ শতাংশই গেছে আমেরিকা ও ইউরোপের বাজারে। তবে একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের খুব সামান্য পণ্য শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা পেলেও ইউরোপের বাজারে সব পণ্যই শুল্কমুক্ত সুবিধা পায়।