পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন পর্যবেক্ষক দলের রিপোর্টের ওপর নির্ভরশীল

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২০
বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি অ্যালেন গোল্ডস্টেইন বলেছেন, পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন নির্ভর করছে পর্যবেক্ষক দলের প্রতিবেদনের ওপর। সম্পূর্ণ স্বাধীন এই পর্যবেক্ষক দল যে প্রতিবেদন দেবে, তা বিবেচনা করেই অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নেবে বিশ্বব্যাংক। গতকাল রবিবার ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত এক মধ্যাহ্ন ভোজসভায় তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করলে বিশ্বব্যাংকের সাথে সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে কিনা, এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করতেই পারে, সেটা তাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত। এতে বিশ্বব্যাংকের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের ঘাটতি হবে না। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের সাথে বিশ্বব্যাংকের সম্পর্ক অনেক ভালো। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অনেক প্রজেক্টে কাজ করছে। তাছাড়া বাংলাদেশের ৫০-৬০ মিলিয়ন দরিদ্র মানুষের উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহী। তাদের দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বব্যাংকের সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। ভোজ সভায় এফআইসিসিআইয়ের সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট জিম মেক কেব ও নির্বাহী পরিচালক এম এ মতিন এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যালেন গোল্ডস্টেইন। প্রবন্ধে তিনি তিনটি বিষয়ে আলোচনা করেন। এগুলো হলো কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ বাড়ানো, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা। প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে গোল্ডস্টেইন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এজন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা ও সব ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, প্রতিবছর প্রায় ২২ লাখ মানুষ কাজের খোঁজে শহরে আসছে। তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নিতে হলে বিনিয়োগ হতে হবে জিডিপির ৪০ শতাংশ। যা বর্তমানে ২৫ শতাংশ। এজন্য বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে। গোল্ডস্টেইন আরো বলেন, গত কয়েক বছরে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, কাঠামোগত পরিবর্তন, শ্রমিক অধিকার ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রেও অদক্ষতা রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে দুর্বলতা দূর করতে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশ্বব্যাংকও এজন্য কিছু কিছু কাজ করছে। আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করা, বিনিয়োগের পরিবেশ, সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ কার্যক্রম ও ইকোনমিক জোন তৈরিতে বিশ্বব্যাংক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ সম্পর্কে গোল্ডস্টেইন বলেন, বিনিয়োগের পরিবেশ ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সহজিকরণের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান কিছুটা পিছিয়েছে। এর কারণ হলো বিদ্যুতের স্বল্পতা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, যোগাযোগ ব্যবস্থায় ত্রুটি ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে বিভিন্ন রেজিস্ট্রেশনের কাজে দীর্ঘসূত্রতা। এছাড়া প্রকৃত উপযোগ খরচও বাংলাদেশে কিছুটা বেশি। যা বিনিয়োগের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এসব বিষয়ে সরকারকে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ এরশাদ আহমেদ বলেন, গত ১৫-২০ বছরে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নেহায়েত কম নয়। তবে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো বাড়াতে হবে। এজন্য স্থিতিশীল ব্যবসায়িক পরিবেশ, গ্যাস-বিদ্যুতের সঙ্কট নিরসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে। তবেই দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আসবে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পারলে তা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় অবদান রাখবে।