প্রতিদিন নানা কাজে ঘর থেকে বের হলে কিংবা উত্সব-আনন্দে অন্য সবার সঙ্গে নিজেকে শামিল করতে হলে আমরা মেকআপের আশ্রয় নিই। নিজের সৌন্দর্যকে আরেকটু বৃদ্ধি করতে কিংবা পরিশালিত উপায়ে অন্যের কাছে উপস্থাপন করতে মেকআপের বিকল্প নেই। আধুনিক যুগের যেকোনো নারীর জন্য মেকআপ সত্যিকার অর্থেই এক সহায়ক শক্তি। তাই এই শক্তিকে যথাযথ ব্যবহারের জন্য আমাদের জানা প্রয়োজন কীভাবে নিজের ত্বকের জন্য উপযুক্ত মেকআপ বেছে নেওয়া যায়। মেকআপ কিটে কী কী থাকা দরকার, নিজের ত্বকের জন্য কোন ধরনের প্রসাধন যথার্থ হিসেবে কাজ করবে, কিংবা কী ধরনের মেকআপ ব্যবহার করা যথোপযুক্ত হবে—এগুলো ঠিকমত জেনে রাখা প্রতিদিনের প্রয়োজনের মধ্যেই পড়ে। এই বিষয়গুলো নিয়েই আমাদের এবারের আয়োজন। লিখেছেন মোর্শেদ নাসের, একই সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন বিভিন্ন রূপ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে, তাদের ধারণাকেই লিপিবদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে এখানে।
মেকআপের শুরুর দিকে যে বিষয়টি সবার আগে জানা প্রয়োজন সেটি হচ্ছে মেকআপের জন্য একটি যথার্থ প্রস্তুতি দরকার। আপনি যদি আপনার সুন্দর মুখশ্রী সবার সামনে উপস্থাপন করতে চান, তবে তার আগে সেই মুখশ্রী কিংবা ত্বকের জন্য স্বাভাবিক কিছু নিয়মকানুন পালন করা জরুরি। খুব ভালো ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার কিংবা ত্বককে যথোপযুক্ত আদর যত্ন করাও কিন্তু ভালো মেকআপের পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। সাধারণত নিজের মেকআপটাকে যথার্থ করার জন্য আমরা রঙের কিংবা বিভিন্ন প্রসাধনীর যথেচ্ছা ব্যবহার করে থাকি। এ ক্ষেত্রে যথাযথ মেকআপের জন্য সবার আগে দরকার নিজের ত্বকের ধরন বুঝা এবং সেই অনুযায়ী নিজেকে উপস্থাপন করার জন্য যথার্থ রং কিংবা প্রসাধন সামগ্রী নির্বাচন করা। এই নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষে মেকআপ করার আগে সব সময়ই উচিত খুব যত্ন করে মুখটি ধুয়ে নেওয়া। এ ক্ষেত্রে ভালো ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে শুকনো করে মুছে নেওয়ার পর তারপর টোনার ব্যবহার করা উচিত। মেকআপের প্রথম ধাপ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নিজের ত্বকের সঙ্গে মিল রেখে বেজ মেকআপ বেছে নেওয়া। ত্বকে যদি কখনও কোনো সমস্যা থাকে কিংবা ত্বকের যত্নের ক্ষেত্রে যদি কোনো ব্যত্যয় ঘটে তবে ক্রিম বা লিকুইড বেজ ব্যবহারে সমস্যা হওয়ার কথা। এ ছাড়া ত্বকের যত্ন যথাযথভাবে নিলে ক্রিম বা লিক্যুইড বেজ ব্যবহারে আপনার সমস্যা হওয়ার কথা নয়। বিশেষ করে ক্লিঞ্জিং, টোনিং এবং ময়েশ্চারাইজারের রুটিন মেনে চলা জরুরি। বেজ মেকআপের সময় একটি কথা মনে রাখা দরকার, যদি কোথাও কোনো সূক্ষ্ম রেখা কিংবা এমন কোনো দাগ থাকে যা ঢেকে দেওয়াটাই ভালো তবে ফাউন্ডেশনের পর কনসুলার ব্যবহার করে ঢেকে দিতে পারেন। নিজের ত্বক থেকে এক শ্যাড হালকা কনসুলার ব্যবহার করলে এই খুঁত ঢেকে রাখার ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। হালকা থাম্পেট বুলিয়ে মুখে মেট ফিনিশ আনার চেষ্টা করাই ভালো। ফেস মেকআপের পর আই মেকআপের পালা চলে আসে। যদি চোখে কোনে কালি থাকে তবে তিন ফোঁটা কনসুলার চোখের ঠিক তলায় দিয়ে ফাউন্ডেশনের সঙ্গে ব্ল্যান্ড করে দিন। চোখের ডাইমেনশন আনার জন্য লাইট মিডিয়াম কিংবা ডার্ক শ্যাডের আইশ্যাডো হাতের কাছে রাখতে পারেন। চোখের আকৃতি অনুযায়ী আইশ্যাডো লাগান এরপর লাগান আইলাইনার এবং সবশেষে মাসকারা। ব্লাশ ব্যবহার করার সময় একটু সতর্ক থাকা দরকার, কারণ ব্লাশ কম-বেশি ব্যবহারের উপর নির্ভর করে মেকআপের উগ্রতা। চিকবোন বরাবর ব্লাশ লাগানো ভালো। লিপস্টিক এবং ব্লাশের রঙের মধ্য সামঞ্জস্য রাখাটা ভালো মেকআপের জন্য খুবই জরুরি। লিপস্টিক লাগাবার আগে লিপলাইনার দিয়ে ঠোঁটের ঢালগুলোকে মার্ক করে নিয়ে তারপর লিপস্টিক লাগান। এখন আমরা আসুন জেনে নিই কীভাবে মাখবেন যথার্থ মেকআপ। যথার্থ মেকআপের মানে হচ্ছে আপনার ত্বকের রং অনুযায়ী কিংবা ত্বকের ধরনকে সমর্থন করে এমন রং নির্বাচন করা। যাদের গায়ের রং ফর্সা তারা গাঢ় উগ্র রঙের বদলে সফট টোন বা পেস্টেল শ্যাড বেছে নিতে পারেন। আই মেকআপের জন্য ব্লু বা ল্যাভেন্ডার শ্যাডও মানানসই হবে। পিংক বেজ বা পিংকের নানা শ্যাডের ব্লাশ এবং লিপস্টিক ফেয়ার কম্পোলেশনের জন্য আইডিয়াল। মাসকারার রং হওয়া চাই কালো বা ব্রাউন। অন্যদিকে যারা কিছুটা শ্যামবর্ণ তারা ফাউন্ডেশন নেওয়ার সময় যতটা সম্ভব নিজের স্বাভাবিক গায়ের রঙের কাছাকাছি শ্যাড নির্বাচন করুন। অনেকেই একটু উজ্জ্বল রং পছন্দ করেন। সে ক্ষেত্রে নিজেকে আরও বেশি যত্ন করে সাজানোর চেষ্টা করুন। কম্পেক্টের বদলে বেবি পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। কোরাল, রোজ, ডিপ অরেঞ্জ ডার্ক স্কিন টোনকে কমপ্লিমেন্ট করে। রাতের পার্টির জন্য আদর্শ হবে ব্রোঞ্জ, প্লান্ট বা ওয়াইন আইশ্যাডো। যারা গমত্বক তাদের একটু হলুদ ঘেঁষা ফাউন্ডেশন ব্যবহার করা উচিত।
বিউটি কিট
এত গেল রং নির্বাচনের বিষয় আসুন এবার জেনে নিই আপনার বিউটি কিটে কোন জিনিসগুলো থাকা জরুরি। নানারকম কসমেটিকস শুধু ব্যাগভর্তি করলেই হয় না, জেনে নিতে হয় কোন ত্বকের জন্য কী ধরনের কসমেটিকস বা কোন ব্র্যান্ড কিংবা কোন ধরনের প্রসাধনী কার্যকর হবে। আমাদের এই আলোচনায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নাম নয় বরং কসমেটিকসের ধরন কিংবা তার গতি-প্রকৃতি নিয়েই আলোচনা করব। প্রথমেই আসুন জেনে নিই ফাউন্ডেশন সম্পর্কে।
ফাউন্ডেশন
বোতলে ফাউন্ডেশনের রং খানিকটা গাঢ় দেখায়। তাই কেনার সময় ত্বকের সঙ্গে যে ফাউন্ডেশনের রং মানানসই হয় তা বেছে নিতে হয়। পছন্দসই ফাউন্ডেশন ট্রাই করতে হয় জো লাইনের উপর, ফাউন্ডেশনের রং ঠিকমতো বুঝতে পারা যায় জো লাইনে খুব ঢলে ঢলে ফাউন্ডেশনটি মেশানো হলে। মনে রাখতে হবে ঘাড়ের চেয়ে মুখের রঙ হালকা হয়। তাই হালকা এবং গাঢ় দু’রকমের মেকআপই বেছে নেওয়া উচিত। হালকা রং ত্বককে উজ্জ্বল করবে, গাঢ় রং নানা জায়গায় শ্যাডিং হিসেবে ব্যবহূত হবে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য বেছে নিন অয়েলফ্রি লিক্যুইড ফাউন্ডেশন। এর সেলিসেলিস এসিড লোমকূপের গোড়াকে শক্ত রেখে ব্রন কমাতে সাহায্য করে। কখনও কখনও ব্যবহার করতে পারেন মেকআপ ব্যাজ ফাউন্ডেশন পাউডার। মুখের অতিরিক্ত চকচক ভাব দূর করবে এটি। শুষ্ক ত্বকের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে ঘন ফাউন্ডেশন, যা ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখবে এবং একই সঙ্গে অনুজ্জল হালকা ভাঁজ পড়েছে এমন ত্বকের জন্য বেছে নিতে পারেন ময়েশ্চারাইজার সমৃদ্ধ ফাউন্ডেশন। দাগ-ছোপহীন সমস্যামুক্ত ত্বকের জন্য লাইটটাচ লিক্যুইড ফাউন্ডেশন একটি যথার্থ উপকরণ। বলিরেখাযুক্ত ত্বকের জন্য পেপটাইটস ভিটামিন সমেত হাইড্রেটিং ফিম বা লাইটওয়েট লিক্যুইড ফাউন্ডেশন পাওয়া যায়। ফাউন্ডেশন লাগানোর পর ফ্রেশ ব্রাশ দিয়ে হালকা পাউডার লাগাবেন মুখে।
কনসিলার
ফাউন্ডেশনের পর ত্বকের জন্য সবচেয়ে বেশি যেটি গুরুত্বপূর্ণ সেটি হচ্ছে কনসিলার। এ ক্ষেত্রে নিজের ত্বকের থেকে এক শ্যাড হালকা রঙের কনসিলার কেনাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। আপনার গায়ের রঙের সঙ্গে মিশে গিয়ে কনসিলারের রং আরও গাঢ় শ্যাড তৈরি করে। কনসিলারের রং যদি শিশির থেকে ত্বকের অর্ধেক হালকা দেখায় তাহলে সেই রঙের কনসিলার আপনার ত্বকের জন্য ঠিক। অযথা ত্বককে রঙিন করবে না বরং তা খুঁতকে আরও বেশি স্পষ্ট করে তুলবে।
আইশ্যাডো
এই দুটি উপাদানের পর এবার আমরা নজর দেবো প্রসাধনীর চোখের অংশের দিকে। এর জন্য প্রথমেই আমাদের জেনে নেওয়া প্রয়োজন আইশ্যাডোর ব্যাপারে। চোখের রঙের সঙ্গে পুরোপুরি ম্যাচিং করা আইশ্যাডো না কিনে এমন আইশ্যাডো বাছুন যা চোখের রঙের থেকে একটু আলাদা। আইশ্যাডোর রং চোখের সঙ্গে ভালোভাবে মিলবে। চোখ বড় দেখাতে বাছুন হালকা রঙের আইশ্যাডো। গাড় রঙ্গে আইশ্যাডোতে চোখ ছোট দেখায়। চোখের মণি নীল হলে হালকা শ্যাডো রঙের আইশ্যাডো ট্রাই করুন। অল্প গোলাপি থাকলে দেখতে ভালো দেখায়। খয়েরি এবং কালো রঙের চোখের মণি হলে খয়েরি শ্যাডের আইশ্যাডো লাগান। চোখে লাগানোর পর শ্যাডো হালকা দেখায়। তাই খুব উজ্জ্বল রঙের আইশ্যাডো চোখের পাতায় হালকা করে লাগান। কন্টাক্ট ল্যান্স ব্যবহার করলে শ্যাডো লাগানোর লাগানোর সময় অতিরিক্ত পাউডার ঝেড়ে ফেলুন। মনে রাখবেন আইশ্যাডো যদি আপনার চোখের প্রকৃতিকে খুব বেশি হাইলাইট করে, সে ক্ষেত্রে আপনার পোশাক এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে মিল রাখা জরুরি।
মাসকারা
ন্যাচারাল ওয়াক্স দিয়ে তৈরি মাসকারা চোখের জন্য সবচেয়ে ভালো উপাদান। সাধারণত শুকনো মাসকারা কেনার চেষ্টা করবেন না। চোখের পাতা ছোট হলে লেন্দেনিং মাসকারা কিনুন। সিল্ক, ফাইবার, প্রোটিন ভিটামিন সমৃদ্ধ লং লেস মাসকারাও ট্রাই করতে পারেন। চোখের পাতা পাতলা হলে মাসকারা ব্যবহার করুন, যদি আপনার চোখের পাতা গাঢ় হয় তাহলে মাসকারা ব্যবহার না করাই ভালো। কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করলে বা সেন্সেটিভ চোখ হলে হাইপো এলার্জেনিক মাসকারা লাগান।
আইলাইনার
আইশ্যাডো থেকে হালকা শ্যাডের আইলাইনার কিনবেন, প্রথমবার আইলাইনার লাগাতে হলে আইলাইনার পেন্সিল কেনাই ভালো। সফট লুক চাইলে পেন্সিল আইলাইনার ভালো কাজ করে। ড্রামাটিক লুক চাইলে লিক্যুইড, গায়ের রং খুব ফর্সা হলে গ্রে কালারের আইলাইনার, গায়ের রং মাঝারি হলে খয়েরি বা মাঝারি কালো রঙের আইলাইনার কিনুন। আইলাইনার বেশিক্ষণ রাখতে চাইলে লিক্যুইড আইলাইনার বদলে পেন্সিল ব্যবহার করুন।
নেলপালিশ
ড্রেসের সঙ্গে মানিয়ে, ম্যাচ করে নেলপলিশ লাগালে যে আপনার গেটআপে আলাদা স্মার্টনেস যুক্ত হয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নেল কালারের পাশাপাশি আজকাল ‘ফলস নেল’ লাগানোর একটি ট্রেন্ড চালু হয়েছে। নানা রং আর সাইজের এসব নেল একদিক দিয়ে যেমন ফ্যাশনেবল তেমনি অন্যদিক দিয়ে ঝামেলাহীনও। এ ধরনের নেলের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে—এ ধরনের নেলের জন্য আপনার নখ লম্বা করা বা নেলপলিশ কিনে লাগানোর প্রয়োজন পড়ে না। এসব নেল সেটের সঙ্গে আলাদা গাম বা আঠা থাকে, যা নেলগুলোতে লাগিয়ে আপনি আপনার নখে পরে নিতে পারেন। আবার ইচ্ছামতো খুলেও ফেলতে পারেন। সাধারণত জমকালো পার্টিতে ড্রেসের সঙ্গে ম্যাচ করে পরা হয়।
লিপস্টিক
আর আট ঘণ্টার মতো রাখতে চাইলে প্রয়োজন ট্রান্সফার রেসিস্ট্যান্ট লিপস্টিক। ফাউন্ডেশনের পর লিপস্টিকের কথা বলতে হয়। ভারি মেকআপ বা হালকা সাজসজ্জার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান হচ্ছে লিপস্টিক। লিপস্টিকের মূলত তিনটি ধরন আছে। ময়েশ্চারাইজার, ম্যাট ও গ্লসি। ময়েশ্চারাইজিং লিপস্টিক মানে যেটা লাগালে ঠোঁট হালকা উজ্জ্বল ও চকচকে লাগে। ফ্ল্যাট লুক আনার জন্য ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহার করতে পারেন। এ লিপস্টিকের ড্রাই ফমুর্লা ঠোঁটে শুকনো ভাব বজায় রাখে। গ্লসি লিপস্টিকের ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে, এটি বারবার লাগাতে হয়। এখানে অয়েল কনটেস্ট বেশি গাঢ় দেখায়। ঠোঁটে এই লিপস্টিক এতটা গাঢ় দেখায় না। চার-পাঁচ ঘণ্টা লিপস্টিক দিয়ে থাকতে চাইলে ভিটামিন-ই-সমৃদ্ধ লিপস্টিক বেছে নিন।
সাধারণ এই ধারণাগুলোর বাহিরে এবার আসুন জেনে নিই এই প্রসাধনগুলো কেনার ক্ষেত্রে বাড়তি আর কী কী সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
ব্লাশ
স্বাভাবিক ত্বকে পাউডার ব্লাশ লাগানো যেতে পারে, শুষ্ক ত্বকে ব্লাশ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। তবে যদি ব্যবহার করতে চান, খুব সাবধানে পাউডার ব্লাশঅন ব্যবহার করুন; ব্লাশঅনে ন্যাচারাল লুক আনতে হাতের সাহায্য নিন। ম্যাট অথবা পাউডার ধরনের লিপস্টিক লাগাবেন; ময়েশ্চারসমৃদ্ধ পিংক, কোরাল, ব্রোঞ্জ অথবা বিভিন্ন ফলের রং বেছে নিতে পারেন। লিপ ব্রাশ ব্যবহার না করে আঙ্গুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে দিন; এতে করে ঠোঁটে এক ধরনের ন্যাচারাল শ্যাড আসবে। যদি আপনার ডিম্বাকৃতি আকারের মুখ হয় তাহলে হাড়ের সবচেয়ে উঁচু জায়গায় ব্লাশঅন লাগিয়ে মিলিয়ে দিন। যদি গোলমুখ হয় তাহলে ব্লাশার লাগানোর সময় এমনভাবে লাগাতে হবে যাতে ব্রাশের টানটি চোয়ালের হাড় থেকে গালের ওপর দিকে উঠে যায়। নিজের স্কিন টোনের সঙ্গে ম্যাচ করে ব্লাশ কিনুন, ঋতু অনুযায়ী ব্লাশ বাছুন। শীতে গাঢ় এবং গরমে হালকা ব্লাশ বেছে নিন।
হাইলাইটার
মুখের সুন্দর অংশ উজ্জ্বল করে তোলে হাইলাইটার। ট্রাই করুন পাউডার মেকআপ হাইটাইটার, তবে ব্লাশ একটু সাবধানে লাগালেই ভালো। মুখের ভুল জায়গায় ভুল শেডের ব্লাশ কিন্তু খুঁতগুলো স্পট করে তুলতে পারে। ব্লাশ সাধারণত লাগানো হয় গালের উঁচু জায়গা থেকে কানের কাছাকাছি অবধি। মুখের মেকআপের সঙ্গে ব্লাশ খুব ভালো করে ব্লেন্ড না করে দিলে মেকআপ উগ্র দেখাতে বাধ্য।
মেকআপ তোলা
মেকআপ লাগানোর পাশাপাশি জেনে নেওয়া উচিত আপনি মেকআপ তুলবেন কীভাবে, কারণ দিন শেষে আমরা যখন ঘরে ফিরি তখন মেকআপ তোলাটাই অনেক বেশি জরুরি হয়ে যায়। ক্লান্ত শরীরে মেকআপ নিয়ে শুয়ে পরা বা কোনো রকমে সাবান দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলা ত্বকের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আপনার একদিনের অবহেলা আপনার ত্বককে অনেক বেশি ভোগাবে। সুতরাং এখন থেকেই সতর্ক হোন। মেকআপ যেমন যত্ন নিয়ে করেছেন ঠিক তেমনই যত্ন করে তুলে ফেলাও অনেক বেশি জরুরি। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু ধাপ অনুসরণ করা উচিত। প্রথমত মুখ থেকে চুল সরিয়ে পেছনে নিয়ে বেঁধে ফেলে তুলার প্যাডে ক্লিঞ্জার লাগিয়ে তুলে ফেলুন আই মেকআপ দ্বিতীয়ত ক্লিঞ্জার দিয়ে জেন্টালআপ অর স্ট্রোক্সের সাহায্যে মুখের মেকআপ আস্তে আস্তে তুলুন। তৃতীয়ত পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন, বারবার পানির ঝাপটা দিয়ে যেন মুখ ধুতে না হয়, তাই আপনি একেবারে পানির ঝাপটা দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন খেয়াল রাখুন চোখের কোনায় যেন কোনো বালি না থাকে। চতুর্থত শুকনো মুখে ভালো করে মুছে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। যদি শুয়ে পরার আগে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তাহলে ক্রিম লাগিয়ে নিতে পারেন।
উপরের যে পরামর্শগুলো দেওয়া হলো এগুলোই চূড়ান্ত নয়, বরং নিজের রূপচর্চার ক্ষেত্রে আপনার নিজের পছন্দসই রুচির যেমন বহিঃপ্রকাশ আছে তেমনি আপনার কাছকাছি বিশেষজ্ঞ যারা আছেন তাদের পরামর্শও নিতে পারেন। তবে সবার আগে প্রয়োজন সচেতনতা, নিজের রূপ প্রকাশের ক্ষেত্রে যর্থাথ সতর্ক কি না তার উপরই নির্ভর করছে সঠিক রূপচর্চা আপনাকে কতটুকু প্রতিনিধিত্ব করে, আশা করছি আমাদের এই আয়োজন আপনার রূপ চর্চার ক্ষেত্রে সামান্যতম হলেও ভূমিকা রাখবে।
কিছু টিপস
যথার্থ প্রসাধন সামগ্রী কেনার ক্ষেত্রে কিংবা নিজের ত্বকের জন্য যথার্থ মেকআপ নিতে সবার আগে বুঝে নিন আপনার ত্বকের ধরন। এখানে খুব ছোট্ট করে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে কীভাবে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার ত্বক তৈলাক্ত, শুষ্ক না মিশ্র। এটি বুঝার জন্য নিচের কিছু উপায় ভালো করে খেয়াল করুন।
প্রথমত ভালো করে মুখ ধুয়ে শুকনো করে মুছে নিন।
দ্বিতীয়ত মুখে রাইস পেপারের একটি টুকরোকে ভালো করে ধরে অল্প চাপ দিন।
তৃতীয়ত তৈলাক্ত ত্বক হলে আপনার মুখে এই পেপারটি আটকে যাবে। মুখ থেকে সরিয়ে নিলে দেখবেন পেপারটির অনেক জায়গা ট্রান্সলুসেন্ট হয়ে গিয়েছে।
চতুর্থত রাইস পেপারটি যদি মুখে আটকে না থাকে তবে বুঝতে হবে আপনার ত্বক শুষ্ক।
পঞ্চমত, রাইস পেপারের টুকরোটি যদি আপনার টি জোনে অর্থাত্ কপাল নাক থুতনিতে আটকে যায় তাহলে আপনার ত্বক মিশ্র। বা আপনার হচ্ছে কম্বিনেশন স্কিন।
এভাবেই বুঝে নিতে পারেন আপনার ত্বকের ধরন।
