বেড়ানো

হলুদ প্রান্তরে...

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:৩৮
এ দেশের গ্রামবাংলা একেক সময় একেক রূপে সাজে। ছয় ঋতুতে তার ছয় রূপ! বর্ষায় যে জায়গাগুলো ডুবে ছিল জলে, সেখানে এখন হলুদের সমারোহ। কোথাও কোথাও শুকিয়ে যাওয়া খালবিলে আবার মাছ ধরার উত্সব। দেশের বিভিন্ন জায়গায় এখন মাঠের পর মাঠ হলুদ করে ফুটেছে সরিষা ফুল। এ রকম কয়েকটি সুন্দর জায়গা নিয়েই কড়চার এবারের বেড়ানো। ঝিটকা, মানিকগঞ্জ ঢাকার পাশ্ববর্তী জেলা মানিকগঞ্জের ঝিটকায় দিগন্ত বিস্তৃত মাঠজুড়ে রয়েছে সরিষা ক্ষেত। দুই পাশে বিস্তৃত হলুদ ক্ষেতের মাঝে এখানে রয়েছে সারি সারি খেজুর গাছ। এখানকার সরিষা ক্ষেতগুলোর কোনো কোনো জায়গায় মধুচাষিরা বসেছেন মধু সংগ্রহের জন্য। তা ছাড়া খুব সকালে ঝিটকা পৌঁছুতে পারলে বাড়তি পাওনা হবে গাছ থেকেই সদ্য সংগ্রহ করা খেজুরের রস। এসব জায়গায় সূর্য ওঠার আগেই গাছিরা রস নামিয়ে ফেলেন। কীভাবে যাবেন :পুরনো ঢাকার গুলিস্তান থেকে শুভযাত্রা ও বিআরটিসি পরিবহন, বাবু বাজার থেকে যানযাবিল ও শুকতারা, পশ্চিম ঢাকার গাবতলী থেকে যাত্রীসেবা, পদ্মা লাইন, নবীনবরণ, ভিলেজ লাইন ও জনসেবা পরিবহনে প্রথমে মানিকগঞ্জ যেতে হবে। ভাড়া ৫০-৬০ টাকা। সেখান থেকে আবার লোকাল বাসে চড়ে ঝিটকা। এ জায়গায় স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণের জন্য নিজস্ব গাড়ি নিয়ে যাওয়া ভালো। যাদের সে ব্যবস্থা নেই তারা ভাড়ায় মাইক্রো বাস কিংবা অন্য কোনো গাড়ি নিয়ে যেতে পারেন। নিজস্ব গাড়ি নিয়ে গেলে ঢাকা-আরিচা সড়কে মানিকগঞ্জ অতিক্রম করে তরা সেতু পেরিয়ে কিছুদূর সামনে গেলে বাঁ দিকের সড়কটি চলে গেছে ঝিটকায়। চলনবিল চলনবিলের সর্বত্রই এখন সরিষা ক্ষেতের হলুদ গালিচায় মোড়ানো। সিরাজগঞ্জের হাটিকুমড়ুল মোড় থেকে নাটোরের বনপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৫৫ কিলোমিটার সড়কের দুইপাশেই দেখা মিলবে বিস্তীর্ণ সরিষা ক্ষেত। দীর্ঘ এ জায়গাটিতে ভ্রমণে গেলে মাইক্রোবাস নিয়ে যাওয়াই উত্তম। তাতে সবচেয়ে ভালো জায়গাগুলো দেখে দেখে বেড়ানো যাবে। ঢাকা থেকে গেলে যমুনা সেতু পার হবার পরে সিরাজগঞ্জের মোড় ছেড়ে আরো সামনে হাটিকুমড়ুল মোড়। সেখান থেকে পশ্চিম দিকের সড়কটি হাটিকুমড়ুল-বনপাড়া সড়ক। এ সড়কটিই মূলত চলে গেছে চলনবিলের বুক চিরে। নোয়াপাড়া যশোর শহর থেকে প্রায় পঁয়ত্রিশ কিলোমিটার দূরে নোয়াপাড়া। বাস স্টেশন থেকে পূর্ব দিকে নদী পার হয়ে ওপারের গ্রামগুলোতে দেখা মিলবে বড় বড় সরিষা ক্ষেত। এখানকার সরিষা ক্ষেতগুলোর মাঝে আবার আছে সারি সারি খেজুরের গাছ। পুরো এলাকার বাতাসে বাতাসে এখন প্রস্ফুটিত সরিষা ফুলে ঘ্রাণ। সরিষা ক্ষেতের মাঝে আঁকাবাঁকা মেঠো পথ। তার দুই পাশে আবার সারিবদ্ধ খেজুর গাছ । এমন গ্রামীণ দৃশ্য দেখতে হলে এ জায়গার তুলনা নেই। কীভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে খুলনাগামী যেকোনো বাসে চড়ে নামতে হবে নোয়াপাড়া বাজার। সেখান থেকে নদী পার হয়ে ওপারের যেকোনো গ্রামে ঢুকে পড়লেই দেখা মিলবে হলুদ রাজ্যের।