স্মার্টফোনের রাজত্বটা শুরু অ্যাপল’র আইফোনের হাত ধরে। ২০০৭ সালে বাজারে আসা আইফোনের পর অবশ্য স্মার্টফোনের বাজারটা জমজমাট হয়ে উঠতে শুরু করে। সেই বাজারে আইফোনের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে আসে স্যামসাং। বিশেষ করে তাদের গ্যালাক্সি এস সিরিজ হয়ে ওঠে স্মার্টফোনের নতুন এক আইকন। স্যামসাংয়ের আইকনিক এই স্মার্টফোনটি বিক্রির সংখ্যায় পেরিয়ে গেছে ১০০ মিলিয়ন ইউনিটের ল্যান্ডমার্ক। গতকাল এই তথ্য জানিয়েছে স্যামসাং। ২০১০ সালে গ্যালাক্সি এস সিরিজের প্রথম স্মার্টফোন ‘গ্যালাক্সি এস’ অবমুক্তির পর থেকে গত পরশু অর্থাত্ ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত হিসেবে ১০০ মিলিয়ন বিক্রির তথ্য নিশ্চিত করেছে নির্মাতা স্যামসাং। ২০১০ সালের জুন মাসে এই সিরিজের প্রথম স্মার্টফোনটি বাজারে আসার পর প্রথম ৭ মাসেই ১০ মিলিয়ন ইউনিটের ল্যান্ডমার্কে পৌঁছায়। এরপর থেকে এই ফোনটি বিক্রি হয়েছে ২৪ মিলিয়নেরও বেশি। গ্যালাক্সি এস-এর সাফল্যে পরের বছরেই, অর্থাত্ ২০১১ সালের এপ্রিলে স্যামসাং বাজারে নিয়ে আসে গ্যালাক্সি এস২। প্রথম ৫ মাসের মধ্যে গ্যালাক্সি এস২ পেরিয়ে যায় ১০ মিলিয়ন ইউনিট বিক্রির ল্যান্ডমার্ক। মোট বিক্রির দিক থেকেও গ্যালাক্সি এস২ পেরিয়ে যায় গ্যালাক্সি এসকে এবং নিজেদের অন্য এক উচ্চতায় নিতে সমর্থ হয়। বিশ্বব্যাপী গ্যালাক্সি এস সিরিজের দ্বিতীয় এই স্মার্টফোনটি বিক্রি হয় ৪০ মিলিয়ন ইউনিটেরও বেশি। এরপর এই সিরিজের তৃতীয় স্মার্টফোন গ্যালাক্সি এস৩ বাজারে আসে গত বছরের মে মাসে। বিক্রির হিসেবে এটি এই সিরিজের আগের দুইটি স্মার্টফোনকেই ছাড়িয়ে যায় খুব দ্রুত। গ্যালাক্সি এস৩ বিক্রি শুরুর প্রথম একশ দিনের মধ্যেই বিশ্বব্যাপী বিক্রি হয় ২০ মিলিয়ন। এরপরও এর বিক্রি থেমে থাকেনি। ইতোমধ্যেই এটি বিক্রির সংখ্যায় পেরিয়ে গেছে ৪০ মিলিয়ন ইউনিট। ফলে সবমিলিয়ে গ্যালাক্সি এস সিরিজ বিক্রিতে ১০০ মিলিয়ন পেরিয়ে গেছে। গ্যালাক্সি এস সিরিজের এই সাফল্যকে স্যামসাং তাদের জন্য এক বড় অর্জন বলে মনে করছে। সেই সাথে এই সিরিজের চতুর্থ স্মার্টফোনও বাজারে আসার জন্য প্রস্তুত বলেই জানিয়েছে তারা। চলতি বছরের মাঝামাঝিতেই এটি বাজারে আসার কথা রয়েছে।
