তীব্র শীতেও পানিতে নামতে হয় ওদের

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৫৩
ভোররাত তিনটা। ঘরের ভেতর লেপের নিচে শুয়েও কাঁপছে অনেকের শরীর। এই সময়ে ঘরের বাইরে যাওয়া মানেই ঠাণ্ডায় জমে যাওয়া। ঠিক ওই সময়েই কাঁপতে কাঁপতে বরফশীতল পানিতে নামতে হয় পাবনার বেড়া উপজেলার জেলেদের। এই কষ্ট না করলে তাদের জীবিকা চলবে না। সকাল পর্যন্ত মাছ ধরে যা আয় করেন তাই দিয়েই চলে তাদের সংসার। জেলেরা জানান, শেষ রাতে মাছ ধরতে যাওয়া চরম কষ্টের হলেও বাধ্য হয়ে এই সময়টাতেই তাদের যেতে হয়। কারণ এই সময়ে নদী, বিলসহ প্রাকৃতিক জলাশয়গুলোতে তুলনামূলকভাবে বেশি মাছ পাওয়া যায়। শিকার করা মাছ সকালে বাজারে নিয়ে এলে দামও ভালো পাওয়া যায়। তা ছাড়া স্থানীয় মত্স্য চাষিরা শেষ রাত থেকে সকাল সাতটার মধ্যে তাদের পুকুরের মাছ ধরাতে চান। যাতে তারা চাষ করা মাছ টাটকা অবস্থায় পাইকারি বাজারে বিক্রির জন্য নিতে পারেন। বেড়া উপজেলায় মাছের পাইকারি বাজার বা আড়ত শুধু সকাল বোলাতেই বসে। এ জন্য মত্স্য চাষিরা চান তাদের চাষ করা মাছ যেন শেষ রাত থেকে সকালের মধ্যে ধরা হয়। তাই তারা মাছ শিকারীদের সঙ্গে এই সময়ের মধ্যেই মাছ ধরার জন্য চুক্তি করেন। বেড়া পৌর এলাকার মৈত্রবাঁধা মহল্লার মাছ শিকারী সুবল হালদার বলেন, ‘আমরা জাইল্যা। আমাগরে কি জল দেখলি ভয় পাওয়া চলে? বাপ-দাদারাও এ রকম ঠান্টার মইধ্যে শেষ রাইতে জলে নাইম্যা মাছ ধরিছে। তাগরে মতো আমরাও ধরত্যাছি। তয় ঠান্টায় খুব কষ্ট হয়। শইলও নষ্ট হয়া যায়। আমার ছাওয়াল নিখিলের বুকে দোষ দেখা দিছে। আমার শইলও ভালো না।’ বৃশালিখা মহল্লার মত্স্য চাষি আব্দুল কদ্দুস বলেন, ‘আমার জলায় শেষ রাইতে মাছ ধরা শুরু হয়। ওই সময় মানুষ যখন ঘরের মধ্যেও কাঁপে তখন জাইল্যারা আমার জলায় আইস্যা মাছ ধরে। চরম শীতের ঠান্টা পানিতে নাইম্যা তারা যেভাবে মাছ ধরে তা চোখে না দেখলি কারো হয়তো বিশ্বাসই হবি না।’