জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়া :দিনাজপুর

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৫৬
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ পর্যন্ত পাঁচবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। নতুন করে দাম বাড়ানোয় বিপাকে পড়েছে কৃষকসহ সর্বস্তরের মানুষ। কৃষিপণ্য উত্পাদন ও পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে অনেক। যানবাহনের ভাড়া নিয়ে পরিবহনে চলছে যাত্রী-শ্রমিকের লঙ্কাকাণ্ড। যদিও মটর মালিক বা শ্রমিক কোন তরফই এখন পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর কথা স্বীকার করেনি। এদিকে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে পারছে না মধ্যবিত্তরা। বিশেষ করে প্রান্তিক মানুষের এখন মাথায় হাত। সরকার ৪ জানুয়ারি পঞ্চমবারের মতো জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় উত্তরের কৃষক হতাশ হয়ে পড়েছে। একদিকে যখন ধানের দাম পড়ে যাচ্ছে, সে সময় সেচের জ্বালানির দাম বাড়ায় চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে জানিয়েছে কৃষক। দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহি গ্রামের কৃষক মাসুদ জানান, গত বছরের তুলনায় প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ৭ টাকা বাড়ায় প্রতি একর বোরো ক্ষেতে সেচ দিতে বাড়তি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচ হবে। দিনাজপুর সদর উপজেলার চেহেলগাজী কৃষক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আজিজুল ইসলাম বলেন, সরকার ডিজেল, সার, বিদ্যুত্ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি করলেও উত্পাদিত ফসলের দাম বাড়ছে না। হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিদ ড. হাসান ফুয়াদ জানান, চলতি বোরো মৌসুমে সরকার ডিজেলের দাম বাড়ানোয় কৃষিতে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হবে। ডিজেলের দাম বাড়ানোর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা দরকার। না হলে পণ্য পরিবহন খরচও বেড়ে যাবে। এতে স্বল্প আয়ের মানুষ বেকায়দায় পড়বে। এদিকে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে অঘোষিতভাবেই বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে প্রভাব পড়ছে। দিনাজপুরের পেট্রোল পাম্পগুলিতে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তেলের দাম বাড়ার বিষয়টি অপ্রত্যাশিত। যদিও ক্রেতারা তাদের নিজস্ব প্রয়োজনে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক মোটর সাইকেল ও গাড়ির চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করার কিছুই নেই, আমাদের কথা শুনবে কে? সরকার যা ইচ্ছা তাই করছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী নির্বাচনে প্রভাব পড়বে। স্বল্প আয়ের জনগণ এই তেলের দাম বাড়ার বিষয়টি কোনভাবেই মেনে নিচ্ছে না। শহরের বাহাদুর বাজার এলাকার সবুর মিয়া জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বেড়ে গেছে। রংপুর বিভাগের কিছু রুটে বাসভাড়া বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। গত রবিবার রংপুর থেকে দিনাজপুরের ভাড়া ৮০ টাকার স্থলে কোনো কোনো বাসে ১২০-১২৫ টাকা আদায় করা হয়েছে। এতে অনেক যাত্রীর সঙ্গে বাসের চালকের বাকবিতণ্ডা হয়। তবে রংপুর বিভাগীয় পরিবহন শ্রমিক সংগঠন জানিয়েছেন, এখনও বাসের ভাড়া বৃদ্ধির ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। দিনাজপুর বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, ভাড়া বাড়ানোর জন্য সমিতির সভা হলে তবেই বিষয়টি পরিষ্কার করা যাবে। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে উদ্বিগ্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ। শহরের নিউটাউন এলাকার আমির হোসেন জানান, আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। চক বাজার এলাকার রণজিত্ জানান, দিনাজপুরে যদিও গ্যাসের সংযোগ নেই তারপরও সিলিন্ডার গ্যাস পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এর দাম বেড়েছে। এ জন্য পরিবারে এর প্রভাব পড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে শুধু কৃষকই নয়, সব ক্ষেত্রে এর বিরূপ প্রভাব এখন স্পষ্ট। কৃষকেরা বলছেন, সামনে ইরি-বোরো মৌসুম, এ সময় যদি তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষিতে ভর্তুকি যদি সরকার পর্যাপ্ত না করে তাহলে ইরি-বোরো আবাদ করা যাবে না।