মাদকাসক্ত প্রেমিকের হাতে নির্মম বলি জেরিন

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:০৫
মাদকাসক্ত প্রেমিক স্মরণ চলন্ত ট্রেনের সামনে ধাক্কা দিয়ে তার প্রেমিক মীর মনজেরিনা আরাবিয়া জেরিনকে হত্যা করেছে। রেলওয়ে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্যই জানিয়েছে স্মরণ। তবে তাকে আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। এদিকে, জেরিনের পিতা-মাতা ও একমাত্র ভাই সোমবার কানাডা থেকে ঢাকায় পৌঁছেন। বাংলাদেশস্থ কানাডীয় দূতাবাস জেরিনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে। এ ঘটনায় জেরিনের খালু হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে দায়ের করা মামলার অপর দুই আসামি স্মরণের পিতা কাজী জসিম উদ্দীন ও মাতা শাহানা বেগমকে পুলিশ গতকাল পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি। মামলার বাদী জেরিনের খালু হারুন অর রশিদ জানান, জেরিনের পিতার নাম মীর কায়কোবাদ বাবলু। মা মীর মেরী। অনেক আগেই তারা কানাডায় গিয়ে বসবাস শুরু করে টরেন্টোতে। জেরিনরা ২ বোন এক ভাই। সবার জন্ম হয় কানাডায়। জেরিন কানাডার টরেন্টোর ক্রিসেন্ট স্কুলে পড়াশুনা করে। তার ইচ্ছে চিকিত্সক হওয়া; কিন্তু কানাডার কোনো মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাননি। জেরিনকে অন্যান্য বিষয়ে পড়াশুনা করার জন্য পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের তরফ থেকে বহুভাবে বুঝানো হয়েছে; কিন্তু জেরিনের ইচ্ছে ডাক্তার হওয়া এবং মানুষের সেবা করা। শেষ পর্যন্ত জেরিনের ইচ্ছেতেই বাংলাদেশে উত্তরার উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। জেরিন মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয়ে কলেজের হোস্টেলেই বসবাস শুরু করেন। জেরিন এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। সে সুযোগ পেলেই আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় যাতায়াত করতেন। প্রায় ৭ মাস আগে মহিউদ্দিন স্মরণ নামে এক যুবকের সঙ্গে জেরিনের পরিচয় হয়। সেই সুবাদে দুই জনের মধ্যে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উঠে। স্মরণের পিতার নাম কাজী জসিম উদ্দিন। তিনি বাংলাদেশ বিমানে কর্মরত। মা শাহানা বেগম। বাড়ি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানাধীন জানঘর গ্রামে। পরিচয়ের সূত্রধরে জেরিন স্মরণদের রাজধানীর দক্ষিণখান থানাধীন গাওয়াইর এলাকার বাড়িতে যাতায়াত করতেন। পরিচয়ের সূত্রধরে জেরিন ও স্মরণ গত শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বের হন। তারা রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকার বনরূপা আবাসিক এলাকার রেল লাইন দিয়ে হাঁটতে থাকেন। হাঁটতে হাঁটতে চলে যান ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার পাঁচতারকা হোটেল রেডিসনের পেছনের রেল লাইনে। তাদের মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে ঝগড়া হচ্ছিল। সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ঢাকাগামী একটি ট্রেনের সামনে তাকে ধাক্কা দিয়ে হত্যা করে কথিত প্রেমিক স্মরন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কমলাপুর জিআরপি থানার উপ-পরিদর্শক আলমগীর হোসেন মজুমদার জানান, লন্ডন থেকে এমবিএ শেষ করে বাংলাদেশে এসেছে আসামি কাজী মহিউদ্দিন স্মরণ। স্মরণের এক ভাই ও এক বোন আছে। স্মরণ সবার বড়। সে রাজধানীর উত্তরায় কাজী আইটি ফার্ম নামে তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক একটি নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে বসেন। স্মরণ ইয়াবা ও হেরোইনের মতো মাদকে আসক্ত। স্মরণ লন্ডন থেকে এমবিএ শেষ করার দাবি করলেও মাদকাসক্ত থাকায় লন্ডন থেকে তাকে বাংলাদেশে চলে আসতে হয়েছে। মাদক নিয়ে প্রায়ই জেরিনের সঙ্গে স্মরণের ঝগড়া হতো।