অষ্টম শ্রেণি পাস দন্ত চিকিত্সক!

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:২১
পড়াশোনার দৌড় অষ্টম শ্রেণি, কোনো প্রশিক্ষণ নেই। তবু তিনি একজন দন্ত চিকিত্সক! হাজী মোশারফ হোসেন (৬০) নামের ওই চিকিত্সক দাঁত তোলার আগে অবশ করার কাজে একই সিরিঞ্জ ব্যবহার করছেন ছয় মাস ধরে। ভাঙা দাঁত মাড়ি থেকে বের করতে ব্যবহার করেন স্ক্রু- ড্রাইভার, ক্ষতস্থানে দিচ্ছেন পটাশ আর ফিটকারির পানি। ভালুকা উপজেলার মল্লিকবাড়ী বাজারে গতকাল সোমবার গিয়ে দেখা যায়, হাতুড়ে চিকিত্সক হাজী মোশারফ হোসেনকে। তার টেবিলে সাজানো রয়েছে দাঁত পরিষ্কার করার জন্য সাইকেলের স্ক্রুপ দিয়ে তৈরি বাঁকা এবং সোজা দু’ধরনের স্ক্রু-ড্রাইভার, জং ধরা কয়েকটি মুলার, একটি পুরনো আয়না এবং অবশ করতে ইনজেকশন দেয়ার জন্য মাসছয়েক আগে কেনা ৪/৫টি সিরিঞ্জ। যেগুলো অতি ব্যবহারে বিবর্ণ হয়ে গেছে। তার টেবিলে আরো সাজানো রয়েছে অবশ করার ইনজেকশন জি-লিডোকেইন এবং ফিটকারি ও পটাশের পানি রাখার দুটি বোতল। রাস্তার পাশে বসার কারণে তার যন্ত্রগুলোর ওপর ধুলা-বালির স্তর পড়ে আছে। রহিম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির দাঁত তোলার জন্য ৮০ টাকা নেন। মোশারফ হোসেন জানান, প্রায় ৪০ বছর যাবত্ তিনি ভালুকা উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে দাঁতের চিকিত্সা করে আসছেন। দন্ত চিকিত্সা সংক্রান্ত কোন প্রশিক্ষণ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি উত্তর এড়িয়ে যান। ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দন্ত বিভাগের ডেন্টাল সার্জন ডা. এম এ কুদ্দুস জানান, হাতুড়ে ডাক্তারদের দিয়ে দাঁত তোলার পর, দাঁতের রক্ত পড়া, ইনফেকশন, সেলুলাইটিজসহ মরণব্যাধী এইডস-এ আক্রান্ত হওয়ার আশংকা থাকে। মানুষকে সচেতন করতে পারলে হাতুড়ে ডাক্তারের কবল থেকে রোগীদের রক্ষা করা সম্ভব।