১০৪তম জন্মদিনে ভালবাসায় সিক্ত বিনোদ বিহারী

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১৭
উপমহাদেশের প্রবীণতম বিপ্লবী বিনোদ বিহারী চৌধুরী মাষ্টারদা সূর্য সেনের অন্যতম সহযোগী ছিলেন। ১৯৩০সালের এপ্রিলে তিনি সূর্য সেনের নেতৃত্বে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন। সেই থেকে আজ অবধি সকল আন্দোলনে অংশ নেন। এই বয়সেও তাকে ডাকলে বা না ডাকলে দেশের স্বার্থে নিজের অবস্থান জানান দেন এই বিপ্লবী। গতকাল সোমবার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে তার ১০৪তম জন্ম দিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা তাকে দেশের ক্রান্তিকালে বাতিঘর হিসাবে আখ্যা দেন। সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, তিনি আমাদের চেতনার প্রতীক। আমি বিস্ময়ের সাথে দেখি তার কাছে আমরা কত ছোট। সারা জীবন তিনি কিভাবে দেশের জন্য উত্সর্গ করেছেন । তাকে আমাদের আরও অনেক দিন প্রয়োজন। সাংবাদিক কাজি রওনক হোসেন বলেন, আমাদের দেশে এখন সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলার মানুষ নেই। এই মানুষ আমাদের দেখিয়ে দিয়েছেন কিভাবে রাজনৈতিক দলের বাইরে থেকেও দেশের জন্য কাজ করা যায়। অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন স্বাধীনতা সংগ্রামে বিনোদ বিহারী চৌধুরীর অসীম অবদান। সম্পদের বৈষম্য, মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করার যে আন্দোলন তারা শুরু করেছিলেন, তা আজও শেষ হয়নি। মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য, অস্ত্রাগার লুট করতে গিয়ে মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এসেছিলেন । আজ এতদিন পরও তার সেই দাবি আদায় হয়নি । কিন্তু তিনি চুপ থাকেননি। আজও তিনি কোন পক্ষ-বিপক্ষ বিবেচনা না করে দেশপ্রেমের চেতনায়, দেশের স্বার্থে সাধারণ মানুষের কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ১০৪টি মোমবাতি জ্বালান হয়, যার একটি জ্বালান বিপ্লবী বিনোদ বিহারী চৌধুরী । বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান হয়। পরে কেক কাটা হয়। বিনোদ বিহারী চৌধুরী ১৯১১ সালের ১০ জানুয়ারি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানার উত্তরভূর্ষি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ডকুফ্রেম আয়োজিত এই জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বিনোদ বিহারী চৌধুরীর উপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র সূর্যসাথী প্রদর্শন করা হয়।