সোনারগাঁওয়ের বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন চত্বরে মাসব্যাপী লোকজ উত্সবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। আবহমান গ্রামবাংলার বিলুপ্ত প্রায় লোকজ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে প্রতি বছরের মত এবারও ঐতিহাসিক সোনারগাঁওয়ে এ উত্সবের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া লোক সংস্কৃতি, লোক ও কারু শিল্পের নিদর্শনসমূহের সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রদর্শন ও পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে বাংলার প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁওয়ে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এ লোকজ উত্সবটি।
গতকাল সোমবার বিকালে লোকজ মঞ্চে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল কায়সার এ উত্সবের উদ্বোধন করেন। ফাউন্ডেশনের পরিচালক কবি রবীন্দ্র গোপের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম এনডিসি, সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এম জাহাঙ্গির হোসেন ভূঁইয়া, সোনারগাঁও থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম ভূঁইয়া ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়া।
জাতীয় সংঙ্গীত ও মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন বিশিষ্ট সংঙ্গীত শিল্পী মামুন ও লালন পাঠশালার ক্ষুদে শিল্পীরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কারু শিল্পীদের পণ্য বিক্রির জন্য ১৮০টি স্টল স্থান পেয়েছে। লোকজ মঞ্চে প্রতিদিনই বাউল গান, কবি গান, পালা গান, জারি-সারি, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়াসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা রয়েছে। এই মেলায় দেশের বিলুপ্ত প্রায় গ্রামীণ জীবনের বিভিন্ন দৃশ্যাবলী স্থানীয় স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়। মেলা চত্বরে লোকজ খেলার মাঠে বিভিন্ন ধরনের হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ খেলারও প্রদর্শনী করা হয়। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ৪৪জন কারুশিল্পীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তাদের শিল্পকর্ম তৈরির কাজ প্রদর্শন ও সেগুলো বিক্রয়ের জন্য। এদের মধ্যে রয়েছে ঝিনাইদহ ও মাগুরার শোলা শিল্প, রাজশাহীর শখের হাঁড়ি, চট্টগ্রামের নকশী পাখা, রংপুরের শতরঞ্জি, সোনারগাঁওয়ের কাঠের পুতুল, কাঠের কারুশিল্প ও নকশী কাঁথা, সিলেটের শীতল পাটি, ধামরাইয়ের তামা কাঁসা ও পিতলের কারুশিল্প, বান্দরবান ও রাঙামাটির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কারু পণ্য ও টাঙ্গাইলের বাঁশের কারুশিল্প।
উত্সব উপলক্ষে ফাউন্ডেশন চত্বর চমত্কারভাবে সাজানো হয়েছে। ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন স্থানে লোকজ ঢঙ্গে বসানো হয়েছে রঙ-বেরঙের ব্যানার ফেস্টুন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লোকজ উত্সব প্রতিদিন সকাল ১০টা হতে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে।
