মস্কোয় শেখ হাসিনাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১৯
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাশিয়ায় তিনদিনের সরকারি সফরে গতকাল সোমবার বিকালে মস্কো পৌঁছেন। শেরেমেতিয়েভা বিমানবন্দরে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয় শেখ হাসিনাকে। সশস্ত্র বাহিনীর একটি দল তাকে সামরিক কায়দায় অভিবাদন জানায়। এই সময় দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। বিমানবন্দরে শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানান রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইগর ভ্লাদি-মিরোভিচ। রাশিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এস এম সাইফুল হকও ছিলেন সেখানে। বিমানবন্দর থেকে কড়া নিরাপত্তায় মোটর শোভাযাত্রা করে মস্কোর প্রেসিডেন্ট হোটেলে যান প্রধানমন্ত্রী। সফরকালে এই হোটেলেই অবস্থান করবেন তিনি। সোমবার সকাল ৯টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মস্কো রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সফরের দ্বিতীয় দিন আজ মঙ্গলবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন শেখ হাসিনা। এ সময় দুই নেতার উপস্থিতিতে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, আইন ও বিচার এবং সন্ত্রাস প্রতিরোধ বিষয়ে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বুধবার সকালে মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটির এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং বাংলাদেশ-রাশিয়া সহযোগিতার প্রেক্ষাপট নিয়ে বক্তৃতা দেবেন। দুপুরে রাশিয়ার আনবিক শক্তি কর্পোরেশন রোসাটমের মহাপরিচালক সের্গেই কিরিয়েনকোর সঙ্গে বৈঠক করবেন শেখ হাসিনা। পরে তিনি ক্রেমলিন জাদুঘর ও গ্যাজপ্রম কার্যালয় পরিদর্শন করবেন। বুধবার রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রীর দেশের পথে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এম ওয়াহিদুজ্জামান এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাশিয়ায় শেখ হাসিনার দ্বিতীয় সফর এটি। এর আগে ২০১০ সালের নভেম্বরে বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক ফোরামের সম্মেলনে যোগ দিতে রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবুর্গে গিয়েছিলেন তিনি। বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাশিয়ার উদ্দেশ্যে সোমবার সকালে ঢাকা ত্যাগ করেন। কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী ফারুক খান, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, চীফ হুইপ আব্দুস শহীদ বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান। কেবিনেট সচিব, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, ঢাকায় রাশিয়ান দূতাবাসের চার্জ দ্য এফেয়ার্স ও সিনিয়র কর্মকর্তাগণ এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।