দক্ষিণাঞ্চলে গাইড বইয়ের প্রতাপ

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১৯
দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত নোট বই ও গাইড বইসহ সহায়ক নিম্নমানের সকল ধরনের পুস্তকে সয়লাব হয়ে গেছে দক্ষিণাঞ্চলের বইয়ের লাইব্রেরি। সরকারিভাবে নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন কোম্পানির এসব গাইড বই প্রকাশ, বিতরণ এবং ক্রয়-বিক্রয় চলছে অবাধে। প্রকাশনা সিন্ডিকেটের লোকজন শিক্ষক থেকে শুরু করে কোচিং সেন্টার ও লাইব্রেরি মালিকদের ম্যানেজ করতে অপতত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নিম্নমানের এ সব বই বাজারজাত করতে কোম্পানির লোকজন বিশাল অংকের টাকা নিয়ে মাঠে নেমেছেন। শিক্ষক নেতা থেকে শুরু করে এরা ম্যানেজ করছে ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠা কোচিং সেন্টারগুলোকে। প্রকাশনা সিন্ডিকেটের লোকজন বরিশাল নগরীসহ দক্ষিণাঞ্চলের স্কুলগুলোতে নিম্নমানের বই পাঠ্য তালিকাভুক্ত করার জন্য চষে বেড়াচ্ছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুল পর্যন্ত। বেশ কয়েকটি স্কুল ও কোচিং ব্যবসায়ী সরকারি শিক্ষকদের সাথে তারা ইতিমধ্যেই দর কষাকষি চূড়ান্ত করছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে গত বছরের ন্যায় এবছরও নোট, গাইডসহ এনসিটিবি’র অনুমোদনবিহীন বই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্তি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের এ বই ক্রয়ের জন্য তালিকা ধরিয়ে দিচ্ছেন বলে তাদের অভিযোগ। চড়া মূল্যে এ সব বই তারা বাজার থেকে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এ সব বই বিক্রি বন্ধ করতে কয়েকদিন আগে জেলা প্রশাসনের একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে একটি লাইব্রেরির গুদাম সিলগালা করে দিয়ে জরিমানা আদায় করে। তাত্ক্ষণিকভাবে লাইব্রেরি মালিকরা ধর্মঘট ডেকে বই বিক্রি বন্ধ করে দেয়। প্রকাশনা সংস্থা থেকে শিক্ষক নেতা ও লাইব্রেরি মালিকদের সম্বনয়ে গড়ে উঠা সিন্ডিকেটের কাছে যেন সকলেই জিম্মি। প্রকাশনা সংস্থাগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্য তালিকাভুক্তির জন্য শিক্ষক সমিতির নেতা থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ম্যানেজ করে। প্রকাশনা সংস্থার নেতারা টাকার বান্ডিল নিয়ে নগর, শহর ও গ্রামের স্কুলগুলোতে গিয়ে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানকে ম্যানেজ করে ফেলেন। এরপর নগরীর লাইব্রেরিগুলোতে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত নিষিদ্ধ নোট-গাইডসহ এনসিটিবি’র অনুমোদনবিহীন সহায়ক পাঠ্য পুস্তকের বিক্রি শুরু হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে তাদের কাছে প্রতি বছর ঢাকার অনুপম, জুপিটার, পাঞ্জেরী, ইন্টারনেট, বর্ণমালা, লেকচার, পপি, হাসান বুক ডিপো বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার লোকজন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের মত নানান উপঢৌকন নিয়ে আসেন। কোথাও কোথাও মোটা অংকের টাকার লেনদেন হয় এই অবৈধ বই বিক্রির জন্য। গ্রাম-গঞ্জের হাট-বাজারের লাইব্রেরি/দোকানে এসব প্রকাশনা সংস্থার বই সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে হরদম বিক্রি হচ্ছে। লাইব্রেরিগুলোতে প্রাথমিক স্তরের নিষিদ্ধ নোট ও গাইড বই প্রকাশনা সংস্থাগুলো অবাধে সরবরাহ করে যাচ্ছে। প্রকাশ্যে এ সব গাইড ও নোট বই নগরীর লাইব্রেরিগুলোতে তোলা হলেও প্রশাসনসহ সকলেই এ সিন্ডিকেটের কাছে অসহায় বলে এখানকার সরকারি স্কুলের কয়েকজন প্রবীণ শিক্ষক জানান। নগরীর বইয়ের বাজার ঘুরে দেখা যায় পপি লাইব্রেরি, বানী বিতান, খন্দকার, অরিয়েন্টাল, রহমানিয়া, বুকভিলা, ইসলামিয়া, পপুলার, কিতাব মঞ্জিল লাইব্রেরি, পাঠক বন্ধু লাইব্রেরি, উদয়ন লাইব্রেরি, মডার্ন লাইব্রেরি, বই-পত্র লাইব্রেরি, গ্লোব লাইব্রেরি, এমদাদিয়া লাইব্রেরিসহ নামি-দামি সকল লাইব্রেরিতে এ সব পুস্তক বিক্রি হচ্ছে। রাখা হয়েছে নির্দিষ্ট গুদামে। অভিযানের কারণে তারা শুধুমাত্র ক্রেতাকে তুলে দেয়ার মত বই নাগালের মধ্যে রাখেন। এবার এ সব বইগুলো বৈধ বইয়ের মত ডিসপ্লে করে রাখা হয়নি।