আমি যে প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করি এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের সেরা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠা : ১৯৬৫ সালের ১৫ মার্চ এক শুভলগ্নে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে আত্নপ্রকাশ করে যা আজ এক বিশাল পরিসরে বিস্তৃত। ১৯৬৮ সালে জুনিয়র স্কুল ও ১৯৭২ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ হাইস্কুলে উন্নীত হয়। ১৯৭৩ সালে প্রথম এই স্কুেলর শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে গৌরবসূচক ফলাফল লাভে সমর্থ হয়। পরবর্তীতে ১৯৯০-৯১ সালে কলেজ শাখা (মহিলা) চালু করা হয়। ১৯৯৬ সালে বনশ্রী প্রকল্প এলাকায় প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অর্থে ছয় বিঘা জমি ক্রয় করে ১ম শ্রেণী থেকে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত মোট ৭০২ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে বনশ্রী শাখা খোলা হয়। অত:পর পর্যায়ক্রমে এ শাখা ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত উন্নীত হয়। ২০০৩ সালে মূল প্রতিষ্ঠানে ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণীতে ইংরেজী মাধ্যম চালু করা হয় এবং ২০০৫ সালে ইংরেজী মাধ্যমে প্রথম শ্রেণীতে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হয়। মূল ক্যাম্পাসের ১ একর ১৮ শতাংশ জমি । সুদীর্ঘকাল ধরে প্রতিষ্ঠানটি স্বতন্ত্র্যবৈশিষ্ট্য নিয়ে সগৌরবে এগিয়ে চলছে। বরাবর এ প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা ঈর্ষণীয় ফলাফল অর্জন করছে। একই ধরনের ফলাফল অর্জূন করেছে প্রাইমারি ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায়। শিক্ষাসম্পূরক কার্যক্রমও এ প্রতিষ্ঠানের সাফল্য উল্লে¬খযোগ্য। এখানে রয়েছে ডিবেটিং ক্লাব, বিজ্ঞান ক্লাব, সাংস্কৃতিক পরিষদ, ইংলিশ সোসাইটি এবং অত্যন্ত চৌকস বি.এন.সি.সি ও স্কাউট দল।
বনশ্রী শাখার নতুন ভবন উদ্বোধন :যুগের চাহিদা পূরণের নিমিত্ত এবং সুবিন্যস্ত শিক্ষাব্যবস্থা সমপ্রসারণের লক্ষ্যে ১৯৯৬ সাল থেকে সেমিপাকা ভবনেই বনশ্রী শাখার শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। পরবর্তীতে গভর্নিং বডি প্রতিষ্ঠানের চাহিদা মোতাবেক বহুতল ইমারাত নির্মাণের সুপারিকল্পিত ও গঠনমূলক
উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট নতুনভাবে স্কুল ভবনের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করা হয়। নানা বিষয়ে জরিপের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত এ ভবনটি সর্বোচ্চ ৬ তলা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বর্তমানে চারতলা বিশিষ্ট এ স্কুল ভবনের প্রতি তলার ক্ষেত্রফল ১৪৫০০ বর্গফুট। নিচ তলায় ১৪টি কক্ষ এবং দোতলা থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত প্রতি তলায় ১৫টি কওে কক্ষ সম্বলিত নবনির্মিত এ স্কুল ভবনে মোট কক্ষ সংখ্যা ৫৯টি। সুন্দর মনোরম ও সুবিন্যস্ত পরিবেশে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশি¬ষ্ট মহলের দীর্ঘদিনের লালিত বাসনা রূপদানের জন্য ২০০৬ সালের ৫ অক্টোবর তারিখে নবনির্মিত এ ভবনের উদ্বোধন করা হয়। ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম এ নতুন ভবনে পরিচালিত হয়ে আসছে।
আদর্শ ও উদ্দেশ্য ঃ কেবল প্রচলিত গতানুগতিক শিক্ষার ধারক ও বাহক হওয়াই এ প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য নয়; বরং ভবিষ্যত্ নাগরিকদেরকে চরিত্রবান, মানবিক গুনাবলি সমৃদ্ধ সুনাগরিক ও আল¬াহর প্রকৃত মানুষ হিসেবে তৈরি করাই এ প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য।
গভর্নিং বডি ঃ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিধান মোতাবেক প্রতি তিন বছর পর পর প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গভর্নিং বডির সম্মানিত সদস্যবৃন্দেও প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি উত্তরোত্তর উন্নতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। কমিটির সম্মানিত সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবক-অভিভাবিকাগণের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ।
সমাবেশের বিশেষ আকর্ষণঃআমাদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত সমাবেশ হয়। ’নিয়মিত সমাবেশ ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ ও আনুগত্যবোধের চেতনা জাগিয়ে তোলে-এ কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে প্রতিদিন ক্লাস বসার ১৫ মিনিট পূর্বে কুরআন শরীফ পড়তে শেখানো হয়। এছাড়া, প্রায়ই অধ্যক্ষ মহোদয়, সহকারী প্রধান শিক্ষকবৃন্দ ও অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা স্ব-স্ব শাখার সমাবেশে নৈতিক মূল্যবোধের উপর বক্তব্য রাখেন।এতে ছাত্র-ছাত্রীরা নীতিবান, সুশৃঙ্খল ও ধর্মানুরাগী হয়ে গড়ে উঠার প্রেরণা লাভ করে।
