আমাদের পাশের বাড়ির বাবলু। সে সবসময় তার বাবা ও মা’র কথা শুনত। কিন্তু সে মাঝে-মাঝে দুষ্টুমিও করত এবং যখন সে দুষ্টুমি করত তখন তার বাড়ির চারপাশের সবাই বুঝতে পারত বাবলু দুষ্টুমি করছে। বাবলু ছিল তার বাবা ও মায়ের একমাত্র ছেলে। তাই তার বাবা ও মা তাকে অনেক ভালবাসত। সে কিছুটা শান্ত মেজাজের ছিল বলে এলাকার ছেলেগুলো তাকে অনেক মারত। কিন্তু সে তার কোন প্রতিবাদ করত না। সে পশু-পাখিদের সবসময়েই অনেক ভালবাসত। সে পাখিদের খাবার দিত। বিড়ালকে দুধ দিত কিন্তু তার বাড়ির সামনে একটি অসুস্থ কুকুর ছিল। সে সবসময়েই এই কুকুরটিকে খাবার দিত এবং কুকুরটিও তাকে অনেক পছন্দ করত। একদিন বিকালবেলা সে ঐ অসুস্থ কুকুরটির সাথে খেলতে বের হল। তখন এলাকার ছেলেগুলো তাকে অনেক মারল। সে তার ধৈর্য হারিয়ে ফেলল, তাই সেও তাদের মারল। কিন্তু সেখানে অনেক ছেলে ছিল তাই সে তাদের মারতে পারল না, উল্টো অনেক মার খেল। এইসব দেখে অসুস্থ কুকুরটি একটি দুষ্টু ছেলেকে কামড় দিল এবং সেই ছেলেটির মা ও বাবা বাবলুর মা-বাবার কাছে বিচার দিল। বাবলুর বাবা অনেক রেগে গেলেন। তিনি তাকে অনেক মারলেন এবং বাবলুকে বাড়ি থেকে বের করে দিলেন যাতে বাবলু এই রকম আর না করে। বাবলু তার খালার বাড়ি চলে গেল। প্রায় ১০ দিন পর সে তার বাড়িতে এল, এসে দেখল, যে কুকুরটি অনেক পছন্দ করত সে কুকুরটি এখন অসুস্থ। সে তার বাবা-মাকে না বলে কুকুরটিকে বাড়িতে নিয়ে আসল। তার বাবা-মা কিছুদিন পর সেই কুকুরটিকে দেখল। বাবলু তাদের একমাত্র ছেলে ছিল বলে তার মা-বাবা তাকে কিছু বলল না। কুকুরটি অনেক অসুস্থ ছিল। বাবলু কুকুরটির সাথে খেলার পর হাত না ধুয়েই খাবার খেত। তাই কিছুদিন পর বাবলু অসুস্থ হল এবং তার বাবা-মা তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল। ডাক্তার তার বাবা-মাকে বলল, বাবলু এখন অসুস্থ। ওর সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে। দু’মাস পর বাবলুর প্রিয় কুকুর মারা গেল। বাবলু কুকুরটি মারা যাবার পর অসুস্থ হয়ে পড়লো। সারাদিন সে কুকুরটির কথা ভাবে।
অষ্টম শ্রেণি
মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ।
