১২ জানুয়ারি ৪২ বছরে পা রাখলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। যে উদ্দেশ্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল তা কি পূরণ হয়েছে? নাকি এখনও অনেক বাকি? একজন শিক্ষকের প্রত্যাশার সাথে যেমন একজন ছাত্রের প্রত্যাশার কিছুটা ভিন্নতা থাকবে তেমনি সমগ্র জাতির প্রত্যাশা আরো কিছুটা ভিন্ন হবে। একজন ছাত্র হিসেবে শুধু বিগত কয়েক বছরের প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার হিসেব মেলানোর চেষ্টা। অন্যদিকে শিক্ষকদের প্রত্যাশা একটু ভিন্ন। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন—
নাজমুল হক জেনিথ
অনেক ভালো করার সুযাগ রয়েছে
অবকাঠামোগত কারণে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অনেক ভালো করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু তারপরও যখন সারাবিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র্যাংকিং করা হয় তখন বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তিন হাজারের মধ্যে থাকে না। এর পেছনে শিক্ষকরাই দায়ী। শিক্ষক যদি প্রয়োজন মত প্রস্তুতি নিয়ে তার ক্লাসে যান তাহলেই কেবল তিনি তার ছাত্রদের সেরাটা দিতে পারবে। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাচ্ছে। আরো এগিয়ে যাবে সামনের দিকে— এমনটাই প্রত্যাশা করছি।
— কবি খালেদ হোসাইন
শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
জাহাঙ্গীরনগর হলো মুক্ত জ্ঞানচর্চার জায়গা
প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ অবধি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্ব ও গবেষণায় শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করেছে। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর হলো মুক্ত জ্ঞানচর্চার জায়গা। সারাদেশ যাকে সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবেই চেনে। মাঝে মাঝে কিছু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দ্বারা এর ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হয়েছে। কিন্তু এখানকার ছাত্র-ছাত্রী-শিক্ষকরা মিলে তা প্রতিহত করেছে। আজকে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গড়ে জাহাঙ্গীরনগর থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা কর্মজীবনে অনেকবেশি সফল। সর্বোপরি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাবে আরো অনেক দূর।
— অধ্যাপক শরীফ উদ্দীন
সাধারণ সম্পাদক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি
শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হোক
এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে যে পরিমাণ প্রত্যাশা ছিল তার অনেকাংশই অপূর্ণ রয়ে গেছে। একদিকে ক্লাসরুম সংকট অন্যদিকে অবাসন সমস্যা। নেই লাইব্রেরিতে পড়াশোনার পর্যাপ্ত বই। এখানে সবচেয়ে বড় যে সমস্যা প্রতীয়মান সেটা হলো শিক্ষকদের লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি। শিক্ষকদের এরূপ কর্মকাণ্ডে ভুক্তভোগী হয় শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত পরিবেশের জন্য ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে সহাবস্থান বা নিরাপত্তা জরুরি। অচল জাকসু আজ ৩০ বছর ধরে মরিচা পড়ে আছে।
— হিমু
সাধারণ সম্পাদক, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশন
সমস্যা ছাত্র সংগঠনগুলোর অপরাজনীতি
বাংলাদেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে জাবি ক্যাম্পাস এখনো তার স্বকীয়তা ধরে রেখেছে। মাত্র ৪টি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও তা এখন ৩৬-এ পৌঁছেছে। রয়েছে গর্ব করার মত সেলিম আলদীন প্রতিষ্ঠিত নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ। এসব বিভাগের প্রত্যেটিরই রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে সমস্যা ছিল সেশনজট। তাও এখন নেই বললেই চলে। বিন্তু যা রয়ে গেছে তা হলো ছাত্র সংগঠনগুলোর অপরাজনীতি।
— ওয়াসিফা জামান মুমু
শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
চাই স্থিতিশীল ক্যাম্পাস
এ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নামের নজিরটা কোনভাবেই কম নয়। বিশেষত কলুষিত ছাত্র রাজনীতি, শিক্ষক রাজনীতিতে অশুভ ছায়া গত বছর আমাদের বিব্রত করেছিল। গত বছরের অধিকাংশ সময় ছাত্র-শিক্ষক আন্দোলনের কারণে ক্যাম্পাস ছিল অস্থিতিশীল। কিন্তু আবার ক্যাম্পাস স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে। নবনির্বাচিত উপচার্যও ধীরে ধীরে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিচ্ছেন। তাই আগামী বছরগুলোতে জাহাঙ্গীরনগর স্থিতিশীল থাকবে এটাই প্রত্যাশা। জাহাঙ্গীরনগর হবে এমন বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে শিক্ষার্থীরা প্রকৃত শিক্ষা নিয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে পারবে।
— মো. মেফতা-উল-ইসলাম
শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
সম্পর্কগুলো হবে বন্ধুত্বের
প্রত্যাশার অনেক ধরন রয়েছে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চার মাধ্যমে ছাত্রদের নৈতিকতাবোধ তৈরি, প্রগতিবাদী ও সৃষ্টিশীল করে গড়ে তোলার সূতিকাগার হবে এই বিশ্ববিদ্যালয়। শ্রেণীকক্ষগুলো মুখরিত থাকবে শিক্ষক ও ছাত্রের গঠনমূলক আলোচনায়। সম্পর্কগুলো বন্ধুত্বের ভিতের উপর উঠে দাঁড়াবে। বর্তমানে বন্ধুত্বের সম্পর্কের মাঝে দুটি নতুন শব্দ এসেছে... তেলবাজি আর চাটুকারিতা। এর পেছনে রয়েছে মূলত শিক্ষা কাঠামো, শিক্ষাদান পদ্ধতি, শিক্ষকের নৈতিক মান।
— শাকিলা শারমিন
সাধারণ সম্পাদক, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট
