২০০৯ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আমাদের দেশেও অনলাইন লেনদেনকে বৈধতা প্রদান করে। তখন থেকেই মূলত আমাদের দেশে ই-কমার্সের সূচনা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সেই প্রজ্ঞাপনের পরপরই ২০১০ সালে যাত্রা শুরু করে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম সূর্যমুখী (www.shurjomukhi.com.bd)। অনলাইনে লেনদেনের নানা সুবিধা নিয়ে তারা ছড়িয়ে পড়ছে মানুষের মধ্যে। সদ্য শেষ হয়ে যাওয়া ই-কমার্স সপ্তাহেও সাফল্যের সাথে অংশ নিয়েছে সূর্যমুখী।
সারা বিশ্ব যেখানে ই-কমার্সে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আমাদের দেশেও ই-কমার্সকে ছড়িয়ে দিতেই যাত্রা শুরু করে সূর্যমুখী। অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে, অনলাইন পেমেন্ট, বিটুবি সার্ভিস, অনলাইন ডিজিটাল ওয়ালেট প্রভৃতি সার্ভিস নিয়ে সেই লক্ষ্যেই পথ চলছে তারা। ঘরে বসেই সত্যিকারের ই-কমার্সের সুবিধা প্রদানের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সূর্যমুখী যে সেবাগুলো প্রদান করে যাচ্ছে; সেগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হলো এই লেখায়।
পে-পয়েন্ট
অনলাইন পেমেন্ট পোর্টাল হিসেবে সূর্যমুখী চালু করেছে পে-পয়েন্ট (paypoint.com.bd)। নানা ধরনের পণ্য সামগ্রী এই পেমেন্ট পোর্টাল ব্যবহার করে কেনার সুযোগ পাচ্ছেন ক্রেতারা। এই পেমেন্ট পোর্টালে যেসব পণ্য পাওয়া যাচ্ছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিকম অপারেটর টেলিটকের সিম, টেলিটক রিচার্জ, টেলিটক থ্রিজি সিম, থ্রিজি মডেম, সুপরিচিত অ্যান্টিভাইরাস ক্যাসপারস্কি, ওয়াইম্যাক্স সেবা প্রদানকারী বাংলালায়ন ও কিউবির প্রিপেইড ও পোস্ট পেইড ক্যাশ কার্ড, প্রথমা প্রকাশনীর বই প্রভৃতি। বহুল কাঙ্ক্ষিত টেলিটকের থ্রিজি ইউএসবি ডংগল ‘ফ্ল্যাশ’ কেনা যাবে এই পেমেন্ট পোর্টাল থেকে। আর অ্যান্টিভাইরাস ক্যাসপারস্কি’র ক্ষেত্রে সরাসরি ওয়েবসাইট থেকেই ডাউনলোড করা যাবে অ্যান্টিভাইরাসটি। এসব পণ্য বা এয়ারটাইম ছাড়াও বেশকিছু সেবা গ্রহণ করা যাচ্ছে পে পয়েন্ট ব্যবহার করেই। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগের আবেদনের টাকা জমা দেওয়ার জন্য এখন আর ব্যাংকের লম্বা লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই। এই ফিও জমা দেওয়া যাবে সূর্যমুখীর পেপয়েন্ট ব্যবহার করেই। এর বাইরে ক্যাডেট কলেজগুলোর ভর্তি প্রক্রিয়ার আবেদন ফিও জমা দেওয়া যাচ্ছে এখান থেকেই। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম)-এর ভর্তির টাকা-পয়সাও পে-পয়েন্ট ব্যবহার করেই প্রদান করার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কোনো নাট্যদলের নাট্য প্রদর্শনীর টিকেটও অনলাইনে বিক্রির সুযোগ করে দিয়েছে সূর্যমুখী পে-পয়েন্ট। দৃষ্টিপাত নাট্যদলের প্রদর্শনীর টিকেট তারা বিক্রি করে অনলাইনে। আগে থেকেই বাংলালায়ন ওয়াইম্যাক্সের রিচার্জ চালু থাকলেও সমপ্রতি এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে কিউবি। অচিরেই এই তালিকায় আরও নতুন পণ্য ও সেবা যুক্ত হবে বলেই জানিয়েছে সূর্যমুখী কর্তৃপক্ষ।
সূর্য পে
তরুণ ও নবীণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে যারা ই-কমার্সের সুবিধা, অর্থাঃ অনলাইনে শপিংয়ের সুবিধা নিজেদের উদ্যোগের সাথে যুক্ত করতে চান, তাদের জন্য সূর্যমুখীর বিটুবি সার্ভিসের নাম ‘সূর্যপে’। এটি মূলত একটি পেমেন্ট গেটওয়ে এপিআই, যা আগ্রহীরা ব্যবহার করতে পারেন নিজেদের পণ্য বা সেবার অনলাইন লেনদেনের কাজে। নতুন উদ্যোক্তাদের অনেকেই তাদের পণ্যগুলো অনলাইনে বিক্রি করতে চাইলেও তার জন্য পেমেন্ট গেটওয়ের ব্যবস্থাপনা নিজে থেকে করতে পারেন না। সেক্ষেত্রে সূর্যপে’র অবকাঠামো ব্যবহার করে তারা সহজেই নিজেদের পণ্য বা সেবাকে সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারেন অনলাইনে।
সূর্যমুদ্রা
অনলাইনে শপিংয়ের সাথে যারা পূর্বপরিচিত, ভার্চুয়াল মুদ্রা বা অনলাইন ওয়ালেট বা ডিজিটাল ওয়ালেট তাদের কাছে নতুন কিছু নয়। সূর্যমুখীর সাথে যারা নিয়মিত অনলাইন শপিং করে থাকেন, তাদের সুবিধার্থেই সূর্যমুখী চালু করেছে ডিজিটাল ওয়ালেট ‘সূর্যমুদ্রা’। অনলাইনে কোনোকিছু কিনতে চাইলে ওই পেমেন্ট পোর্টাল সমর্থিত অ্যাকাউন্টগুলোর তথ্য ইনপুট দিতে হয়। সেক্ষেত্রে প্রতিবার পণ্য ক্রয়ের সময়েই ব্যাংকিংয়ের তথ্যগুলো প্রয়োজন পড়ে। বারবার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার না করে খুব সহজেই সূর্যমুদ্রা ব্যবহার করে এই অনলাইন পেমেন্টগুলো সম্পন্ন করা যায়। অনলাইনে শপিংয়ে নির্ঝঞ্ঝাট করতে সহায় হতে পারে এই সূর্যমুদ্রা।
সূর্যমুখী সমর্থিত পেমেন্ট ব্যবস্থা
অনলাইন পেমেন্টের ক্ষেত্রে সূর্যমুখী বৈচিত্র্যময় পেমেন্ট অপশন সমর্থন করে থাকে। ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে সূর্যমুখী পে-পয়েন্ট ভিসা এবং মাস্টার কার্ড সমর্থন করে থাকে। ব্র্যাক ব্যাংকের এসব কার্ড ছাড়াও ডাচ-বাংলা ব্যাংকের নেক্সট কার্ডও সমর্থন করে পে-পয়েন্ট। বর্তমান কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের ছয়টি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টধারীরাও তাদের কিউ-ক্যাশের মাধ্যমে অনলাইনে পেমেন্ট করতে পাবেন এখানে। এ ছাড়া দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মোবাইল ব্যাংকিংও সার্ভিস বিকাশও সমর্থন করছে সূর্যমুখী। ফলে প্রায় সব ধরনের মানুষই এখানে অনলাইন শপিং করতে পারবেন নির্বিঘ্নে।
