‘ই-কমার্স সেবার উপর থেকে ট্যাক্স প্রত্যাহার করা প্রয়োজন’

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:২০
কথা হয় সূর্যমুখীর সিইও ফিদা হকের সাথে। সূর্যমুখী, বাংলাদেশে ই-কমার্সসহ নানা বিষয়ে কথা হয় তার সাথে। সূর্যমুখীর প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে জানতে চাইলে ফিদা হক বলেন, ‘প্রকৌশল নিয়ে পড়ালেখা করলেও কর্মজীবনের শুরু থেকেই জড়িত ছিলাম ইন্টারনেট সংক্রান্ত নানান কাজে। বলতে গেলে আমার ধ্যান-জ্ঞান ছিল ইন্টারনেট। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের দেশে ই-কমার্সকে বৈধতা প্রদান করে। ততদিন উন্নত বিশ্বে ই-কমার্স ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। তখনই সিদ্ধান্ত নিই ই-কমার্স নিয়ে কিছু করার এবং তারই ফলস্বরূপ গড়ে ওঠে সূর্যমুখী।’ আমাদের দেশে ই-কমার্সের বর্তমান অবস্থা কী রকম, এমন প্রশ্নের জবাবে ফিদা হক বলেন, ‘বাংলাদেশ বলতে গেলে ই-কমার্সের পথে যাত্রা শুরু করেছে সবেমাত্র। তবে মানুষের মাঝে এর গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত। আমাদের সূর্যমুখী ছাড়াও অনলাইন শপিংয়ের যতগুলো ওয়েবসাইট চালু হয়েছে, খুব দ্রুত সেগুলো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আমাদের এই ব্যস্ত নাগরিক জীবনে ই-কমার্সের সুবিধাগুলো তাই এক ধরনের আশীর্বাদ। তবে মানুষের মাঝে ই-কমার্সের যতটা চাহিদা রয়েছে,্ ইে সেক্টরটি তত দ্রুত এগিয়ে যেতে হয়তো পারছে না। আরও দ্রুত ই-কমার্সের প্রসার হওয়া প্রয়োজন।’ ফিদা হক মনে করেন, ই-কমার্সের মাধ্যমে সরকার এবং জনগণ উভয়ের উপকৃত হতে পারে। বিশেষ করে গ্যাসবিল, বিদ্যুত্ বিল, পানি বিল এবং অন্যান্য ইউটিলিটি বিলগুলো অনলাইনে প্রদানের সুযোগ তৈরি করা গেলে তা বড় সুবিধা বয়ে নিয়ে আসবে সকলের জন্যই। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে স্বচ্ছতাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিশ্চিত হয়ে যাবে এতে, যা সুশাসনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। ই-কমার্সকে ছড়িয়ে দিতে সরকারের আরও অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে বলেই মনে করেন ফিদা হক। সম্ভাবনাময় এই খাতকে ট্যাক্সমুক্ত করার পক্ষেও মত তার। তার ভাষায়, ‘ই-কমার্স খাতকে ট্যাক্স ফ্রি করে দেওয়া প্রয়োজন। তরুণ উদ্যোক্তা যারা রয়েছেন, তারা এতে উত্সাহিত হবেন এবং তাতে করে এই খাতটির দ্রুত প্রসার সম্ভব হবে। তাছাড়া এই খাতকে ট্যাক্স ফ্রি করে দিলে তাতে সরকারের রাজস্ব আয় আপাতদৃষ্টিতে কমে যাবে মনে হলেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। এখন এটাকে ট্যাক্স ফ্রি করে দিলে সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতিতে বছর দশের পরে এর ব্যাপক সুফল পাওয়া যাবে।’ বাংলাদেশে ই-কমার্সের প্রসারে বাঁধার কথা বলতে গিয়ে ফিদা হক জানান, ‘সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বললেও অনেক ক্ষেত্রেই সরকারি প্রতিষ্ঠান বা সরকারি সংস্থাগুলোকে ই-কমার্সের সেবায় নিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে না। এটি ই-কমার্সের সার্বিক প্রসারে একটি বড় বাঁধা। সরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যত দ্রুত অটোমেশন করে ই-কমার্সের আওতায় নিয়ে আসা যাবে, মানুষের মাঝে ই-কমার্সকে ছড়িয়ে দেওয়া ততই সহজ হবে।’ এর বাইরে বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থাকে ই-কমার্সের জন্য বড় একটি বাঁধা মনে করেন ফিদা হক। অনলাইন শপগুলোতে যেসব পণ্য বিক্রি হয়, সেগুলো সরবরাহ করতে গিয়ে বাঁধার মুখে পড়তে হয়। এখনও পর্যন্ত পণ্য সরবরাহ কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর মাধ্যমে করা হলেও তাদের সেবার মান সন্তোষজনক নয়। ফিদা হক বলেন, ‘সরকারি ডাক বিভাগকে গতিশীল করে তাতে পার্সেল সরবরাহ সেবা উন্নত করা গেলে পণ্য সরবরাহেও আর সমস্যার মুখে পড়তে হবে না আমাদের। ফলে আমরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে পণ্য বিক্রি ও সরবরাহ করতে পারব।’