‘পণ্যের গুণগত মানের প্রশ্নে প্যানাসনিক কখনওই আপোষ করে না’

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:২১
বিশ্বব্যাপী ইলেকট্রনিক্স পণ্যসামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে শীর্ষস্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানের নাম প্যানাসনিক। ১৯১৮ সালে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটি প্রযুক্তির নানা দিকে ছড়িয়ে দিয়েছে নিজেদের। টেলিভিশন, মোবাইল থেকে শুরু করে কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্সের প্রায় ধরনের পণ্যই রয়েছে তাদের। সেই সাথে রয়েছে বিশ্বব্যাপী সেরা মানের টেলিফোনি পণ্য। প্যানাসনিক সিস্টেম নেটওয়ার্ক করপোরেশন ইউনিটের মাধ্যমে এসব টেলিফোনি সিস্টেম বিশ্বব্যাপী বাজারজাত করে যাচ্ছে তারা। বাংলাদেশেও প্যানাসনিক তাদের টেলিফোনি সিস্টেম বাজারজাত করে যাচ্ছে। আমাদের দেশে তাদের এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে এমএম সিস্টেমস লিমিটেড। তাদের আহ্বানেই সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় এসেছিলেন প্যানাসনিক সিস্টেম নেটওয়ার্কস লিমিটেডের বিজনেস সিস্টেম বিজনেস ইউনিটের গ্লোবাল মার্কেটিং গ্রুপের ম্যানেজার মিনোরু অ্যানডোউ। কথা হয় তার সাথে প্যানাসনিক সিস্টেম নেটওয়ার্কের নানা বিষয় এবং বাংলাদেশে প্যানাসনিকের বাজারের অবস্থা ও বাংলাদেশের বাজার নিয়ে প্যানাসনিকের পরিকল্পনা নিয়ে। ২৫ বছর ধরে প্যানাসনিকে কাজ করে যাওয়া মিনোরু গোটা বিশ্বজুড়ে প্যানাসনিক সিস্টেম নেটওয়ার্কের মার্কেটিং বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন প্রায় বছর দশেক। আর তাই বাংলাদেশে মিনোরু অ্যানডোউ-এর এটাই প্রথম আগমন হলেও বাংলাদেশের বাজারটা তার কাছে অপরিচিত নয়। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের বাজারকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় মনে করেন তিনি। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনসংখ্যা এই দেশের জন্য একটি সম্পদ। বিপুলসংখ্যক মানুষের এই দেশে সব ধরনের পণ্যের বাজারই অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। তাছাড়া বাংলাদেশের অর্থনীতির সূচকেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যায়। গত কয়েক বছর ধরেই বিশ্বমন্দার মাঝেও বাংলাদেশের জিডিপি বাড়ছেই। ফলে অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ অনেকটাই স্থিতিশীলতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। এখানকার অবকাঠামোও সাম্প্রতিক সময়ে যথেষ্ট উন্নত হয়েছে। ফলে এখানে সব ধরনের প্রযুক্তি পণ্যের বাজার দ্রুত প্রসারমান। প্যানাসনিকের কমিউনিকেশন সিস্টেমের বাজারও যথেষ্ট প্রসারিত। যেভাবে দিন দিন এখানকার মানুষ নতুন নতুন প্রযুক্তিকে আত্মীকরণ করে নিচ্ছে, তাতে করে এসব প্যানাসনিকের এসব পণ্যের বাজার দ্রুত বাড়ছে। গত কয়েকবছর ধরেই আমাদের পণ্যের বিক্রির পরিমাণ বাড়ছে।’ প্যানাসনিকের কোন ধরনের পণ্যগুলো বাংলাদেশের বাজারে নিয়ে আসছেন জানতে চাইলে মিনোরু বলেন, ‘টেলিফোনি সিস্টেমের সব ধরনের সলিউশনই রয়েছে প্যানাসনিকের। এর অনেকগুলোই বাংলাদেশের বাজারে খুব ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে এর মধ্যে আমরা বর্তমানে আইপি ফোন, আইপি টেলিফোনি এবং আইপি-পিবিএক্স সিস্টেমের উপর জোর দিচ্ছি। কেননা, বাংলাদেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার ছড়িয়ে পড়ছে। সম্প্রতি এখানে থ্রিজি নেটওয়ার্কও আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। এতে করে ইন্টারনেটের ব্যবহার আরও বাড়বে। আর ইন্টারনেটের ব্যবহারের সাথে সাথে মানুষ অভ্যস্ত হওয়ার পরপরই আইপি ফোন ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠেছে। আইপি ফোন বা আইপি-পিবিএক্স সেবার সুবিধা জানতে পেরেছে মানুষ। এই সিস্টেমে অনেক সহজে সাশ্রয়ী সেবা প্রদান করা সম্ভব। বাংলাদেশের বাজারে এসব পণ্যের চাহিদা আমরা লক্ষ করেছি। আর তাই আইপিনির্ভর টেলিফোনি সিস্টেম এবং সেবার উপরেই বর্তমানে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা।’ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবগুলো দেশেই রয়েছে প্যানাসনিকের উপস্থিতি। এই দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এবং মায়ানমারের বাজারকে অনেক বেশি সম্ভাবনাময় মনে করেন মিনোরু। তবে এই বাজারের জন্য অবশ্য বিশেষায়িত পণ্য তৈরিতে এখনই কোনো পরিকল্পনা নেই প্যানাসনিকের। মিনোরু জানালেন, ‘প্যানাসনিক সবসময়ই পণ্যের গুণগত মানের প্রশ্নে আপোষহীন। আমরা মনে করি, ভালো পণ্যের বাজার সর্বত্রই সমান। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের মাঝে অপেক্ষাকৃত স্বল্পমূল্যের পণ্যের চাহিদা থাকলেও আমরা আলাদা করে স্বল্পমূল্যের পণ্য উত্পাদনে যাইনি। আমাদের সব পণ্যই সর্বোচ্চ গুণগত মানের নিশ্চয়তা প্রদান করে। তবে এমনিতেই আমাদের পণ্য কারো জন্যই একেবারে নাগালের বাইরে নয়। তাছাড়া আমাদের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে বিক্রয়োত্তর সেবা। আমাদের পণ্যে যেকোনো ধরনের সমস্যা পাওয়া গেলে এমএম সিস্টেমস তার সমাধান প্রদান করবে। যার ফলে পণ্যের মূল্যের চাইতেও বাড়তি সুবিধাই মূলত ক্রেতাগোষ্ঠী পেয়ে থাকেন আমাদের পণ্যে।’ মিনোরু অ্যানডোউ পড়ালেখা করেন প্রকৌশল বিষয়ে। প্যানাসনিকে কাজের শুরুটাও প্রকৌশলী হিসেবেই। প্যানাসনিকের প্রথম প্রজন্মের পিবিএক্স সিস্টেমের ডেভেলপারও তিনি। তবে প্যানাসনিকে কেবল প্রকৌশলী হয়েই থাকতে পারেননি মিনোরু। পণ্য তৈরির পর তাকে বাজারের সাথে পরিচিত করে তোলার কাজও করতে হয় তাকে। প্যানাসনিকের এই দর্শনেই শেষ পর্যন্ত তাকে এক সময় দায়িত্ব নিতে হয় প্যানাসনিক সিস্টেম নেটওয়ার্কের মার্কেটিং বিভাগের। আর বিভিন্ন দেশে প্যানাসনিক পণ্যকে পরিচিত করে তুলতে তুলতে একটা সময় গোটা ইউনিটের গ্লোবাল মার্কেটিং গ্রুপের ম্যানেজারের দায়িত্ব পেয়ে যান মিনোরু অ্যানডোউ। বাংলাদেশের বাজারে প্যানাসনিকের শক্ত অবস্থান গড়ে উঠলেও এখনই এখানে কোনো আরঅ্যান্ডডি সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেই প্যানাসনিকের। সামনের দিনে এই সম্ভাবনাকে উড়িয়েও দিলেন না মিনোরু। তবে বাংলাদেশে খুব দ্রুতই সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম শুরুর কথা জানান তিনি। মিনোরু বলেন, ‘বাংলাদেশে আমাদের অংশীদার এমএম সিস্টেমস-এর সাথে দুই বছরের কাজের অভিজ্ঞতা সুখকর। আর তাই তাদের মাধ্যমেই বাংলাদেশের বাজারে আরও ছড়িয়ে পড়তে চাই আমরা। পণ্য, সেবা আর সামাজিক উদ্যোগ নিয়ে আমরা থাকব এখানকার বাজারে।’