অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৮৯তম জন্মবার্ষিকী ও মধুমেলাকে সামনে রেখে মেতে উঠেছে যশোরের কেশবপুরের সাগরদাঁড়ি। উল্লেখ্য,
প্রতিবছর শীতের শুরুতেই কপোতাক্ষ পাড়ের সাগরদাঁড়িতে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটলেও পর্যটকদের থাকার কোন ব্যবস্থা না থাকায় দিনের আলো থাকতেই তাদেরকে ফিরে যেতে হয়। ২৫ জানুয়ারি কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে মধুমেলা হয়।
মেলা শুরুর দুই মাস আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পিকনিক পার্টির মাইকের বাজনা আর হৈ-হুল্লে¬াড়ে মেতে উঠে সাগরদাঁড়ি। পর্যটক ও পিকনিক পার্টির সদস্যরা কবির জন্মগৃহ, মধুপল্ল¬ী, মিউজিয়াম. পর্যটন কেন্দ , বাদাম গাছ, বিদায় ঘাট ঘুরে ঘুরে দেখে সময় কাটান। কেউ কেউ আবার কবির ফিরে যাওয়া সেই ঐতিহাসিক বিদায় ঘাটে গিয়ে বিমর্ষ হয়ে পড়েন। যদিও সাগরদাঁড়িতে কোন পিকনিক স্পট গড়ে ওঠেনি।
সাগরদাঁড়িতে এসেছেন ঝিকরগাছা থেকে ফেরদৌসী বেগম। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, কবির স্মৃতিধন্য কপোতাক্ষ ও কাঠ বাদাম গাছ মরে গেছে। এখানে থাকা-খাওয়ার নেই কোন ব্যবস্থা, নেই কোন টয়লেট। যে কারণে বিশেষ করে মহিলাদের সমস্যায় পড়তে হয়। কেশবপুর থেকে সাগরদাঁড়ি আসতে প্রায় ১৩ কি. মি. রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। কেশবপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এইচ এম আমির হোসেন জানান, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সালে কবির জন্মস্থান সাগরদাঁড়িতে মধুপল্লী ও পর্যটন কেন্দ গড়ে তুলেছেন। নির্মাণ করা হয়েছে মধুমঞ্চ। ইতিমধ্যে সরকার কপোতাক্ষ নদ সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। কপোতাক্ষ নদ সংস্কারের পাশাপাশি সরকারিভাবে সাগরদাঁড়িতে আরো কিছু দর্শনীয় জিনিস নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
