‘এমনিতেই সার, বীজ, কীটনাশকের দাম বেশি, তারপর আবার বাড়ছে ডিজেলের দাম, সরকার কি দাম বাড়ানোর আগে একবারও আমাদের গরীব কৃষকের কথা ভাবে না। এভাবে দাম বাড়লে তো দু’এক বছর পর আর ক্ষেত করতে পারব না।’ একথাগুলো বলছিলেন সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলার কৃষক কবির মিয়া।
শুধু কবির মিয়া নন, বছরের শুরুতে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ায় সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষকরা হতাশ। এমনিতেই সার, বীজ, কীটনাশকের দাম দিন দিন কৃষকদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। তারপর আবার ‘মড়ার ওপর খাড়ার ঘাঁ’ এর মত বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। কৃষকরা আশংকা করছেন, দিন দিন কৃষি উপকরণের দাম বাড়ায় বোরো চাষে লাভের পরিমাণ ব্যাপকভাবে কমে যাবে। এছাড়া প্রতি বছর উপকরণের দাম বাড়লেও বাজারে ধানের দাম বাড়ছে না।
কৃষকরা বলছেন, এক যুগ আগেও হাওর এলাকায় যে পরিমাণ বৃষ্টি হত এখন আর সেই পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয় না। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যাওয়ায় জমিতে পানি সেচ দিতে হচ্ছে। আর সেচ দিতে গিয়ে ডিজেল কিনতে হচ্ছে কৃষকদের। প্রতি বছর ডিজেলের দাম বাড়ায় উত্পাদন খরচও বাড়ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এস এম আফসারুজামান বলেন, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে জমি চাষাবাদে খরচ পড়বে বেশি। ডিজেলের দামের সাথে ধানের দামের সমন্বয় করতে পারলে কৃষক বোরো চাষে লাভবান হবেন।
