পাঁচবিবিতে কালভার্টের অভাবে দুর্ভোগে ২১ গ্রামের মানুষ

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:০১
চারটি কালভার্টের অভাবে স্থান ভেদে দু’ থেকে চার কিলোমিটার কোথাওবা তার বেশি পথ ঘুরে চলাচল করতে হয় এলাকাবাসীর। জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ২১টি গ্রামের দশ সহস্রাধিক লোক এই দুর্ভোগের শিকার। এলাকাবাসীর দাবি সত্ত্বেও এ ব্যাপারে কারো কোন উদ্যোগ নেই। পাঁচবিবি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস (পিআইও) ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, এই কালভার্ট চারটির স্থান হল উপজেলার আটাপুর ইউনিয়নের পাঁচবিবি-বারকান্দ্রি সড়কের জেরকাপাড়া ১২ মিটার কালভার্ট, বাগজানা ইউনিয়নের উত্তর গোপালপুর ময়েনের বাড়ির পার্শ্বে ১২ মিটার কালভার্ট, কুসুম্বা ইউনিয়নের হরেন্দা ধাপপাড়া ইদার বাড়ীর উত্তর পার্শ্বে খাড়ির উপর ৭ মিটার কালভার্ট ও মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের বড়াইল গ্রামের ধাওয়াপাড়া ফিরোজ রহমানের বাড়ির পশ্চিম পার্শ্বে ৭ মিটার কালভার্ট। দুর্ভোগের শিকার গ্রামগুলো হল আটাপুর ইউনিয়নের জেরকাপাড়া, গলাকাটা, নন্দীগ্রাম ও কলন্দরপুর, বাগজানা ইউনিয়নের উত্তর গোপালপুর, আটাপাড়া ও পশ্চিম রামচন্দ্রপুর, কুসুম্বা ইউনিয়নের গোবিন্দপুর, তেলিহার, কোচপাড়া, শিধইলবম্বু, কাশড়া, হাকিমপুর, কৈজুরী, হরন্দা, ধাপপাড়া, চকসিধইল ও আজরা এবং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের বড়াইল, ধাওয়া, সড়াইল ও নিকড়দীঘি। এসব গ্রামের লোকজন খরা মৌসুমে বাঁশের সেতু ব্যবহার করে কোন রকমে চলাফেরা করলেও বর্ষা মৌসুমে চরম সংকটে পড়ে। তাদের স্থান ভেদে দুই থেকে চার কিলোমিটার কোথাওবা তার বেশি পথ ঘুরে চলাফেরা করতে হয়। এ ব্যাপারে বাগজানা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামাত আলী বলেন, তিনটি গ্রামের সহস্রাধিক লোক কালভার্টের অভাবে দুই কিলোমিটার পথ ঘুরে চলাচল করে। বর্ষায় ছোট যমুনা নদী প্লাবিত হলে এলাকাবাসীরা খুবই দুর্ভোগ পোহায়। এখানকার কালভার্টটি তৈরি হলে জনদুর্ভোগ লাঘব হবে। আটাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আ.স.ম সামসুল আরেফিন চৌধুরী জানান, এলাকাটি খুবই নিচু। বর্ষাকালে অথই পানিতে প্লাবিত হয়ে পরে। এলাকাবাসীরা গ্রাম থেকে বেরুনের পথ পায় না। জনস্বার্থে কালভার্টটি জরুরি ভিত্তিতে নির্মাণ করা প্রয়োজন। কুসুম্বা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর মণ্ডল জানান, হরন্দা থেকে ধাপপাড়া যাওয়ার জন্য বাঁশের সেতু দিয়ে লোকজন পারাপার হয়। আশেপাশের গ্রামের লোকজন একইভাবে এই বাঁশের সেতু দিয়ে কষ্ট করে পারাপার হয়। সম্প্রতি এই কালভার্টটি নির্মাণ হওয়ার কথা শুনেছি। উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা (পিআইও) রাশেদুজ্জামান জানান, ৪টি কালভার্টের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে কালভার্ট নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। এরমধ্যে আটাপুর ইউনিয়নের জেরকাপাড়া ও কুসুম্বা ইউনিয়নের হরন্দা ধাপপাড়া ইদার বাড়ির উত্তর পার্শ্বের কালভার্টটির বরাদ্দ পাওয়া গেছে। শিগগিরই এ ব্যাপারে দরপত্র আহবান করা হবে।