গোপালগঞ্জে মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষক নিয়োগে অর্থ লেনদেনের কারণে যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও বলছেন অনেকে। জেলার প্রতিটি স্কুলের নিয়োগে একই পন্থা অবলম্বন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসন, মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দফতরে একের পর এক অভিযোগ করেও অযোগ্যদের নিয়োগ বন্ধ করা যাচ্ছে না। এতে নিয়োগ বঞ্চিত যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সদর উপজেলার বৌলতলী-সাহাপুর সম্মিলনী উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়।
সোমবার গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বড়ডোমরাশুর পঞ্চপল্লী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে দেখা গেছে, প্রার্থী রবীন্দ্র নাথ হীরাকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে বলে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। পরে রবীন্দ্র নাথ হীরাকেই প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়া হয়।
পরীক্ষায় অংশ নেয়া অপর প্রার্থী শান্তি রঞ্জন বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, প্রশ্নে বিজ্ঞানের বিষয়ে কম নম্বর রাখা হয়। পক্ষান্তরে কলা বিভাগের জন্য বেশি নম্বর বরাদ্দ করা হয়। প্রশ্ন করার ধরন দেখে মনে হয় রবীন্দ্র নাথ হীরাকে চাকরি পাইয়ে দেয়ার জন্যই এ ধরনের প্রশ্ন করা হয়েছে।
স্কুলের কৃষি বিভাগের শিক্ষক শশধর সরকার ও স্থানীয় কৃষ্ণ কান্ত বাওয়ালী অভিযোগ করে বলেন, নিয়োগ বোর্ডে ১ জন সদস্য নিয়োগের জন্য স্কুলের সহকারী শিক্ষক অবনী কান্ত বিশ্বাস ও সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাসের নাম প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু তাদের কাউকে না রেখে রহস্যজনক কারণে আসীম কুমার বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তিকে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য রাখা হয়। ওই অসীম বিশ্বাসের পছন্দের প্রার্থী রবীন্দ্র হীরা শেষ পর্যন্ত নিয়োগ পান।
ডিজির প্রতিনিধি ও গোপালগঞ্জ শহরের বীণাপানি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইমরান আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিধি অনুযায়ী পরীক্ষা নিয়ে মেধা অনুযায়ী রবীন্দ্র নাথ হীরাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে অন্য প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়ার জন্য স্কুল ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আমি তাতে রাজি হইনি।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি মো. সেলিম তালুকদার বলেন, রবীন্দ্র নাথ হীরাকে নিয়োগ দেয়ার ব্যাপারে টাকা লেনদেন করিনি। আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি সব স্কুলের নিয়োগ স্বচ্ছ করার চেষ্টা করি।
