মস্কোতে শেখ হাসিনা-পুতিন বৈঠক

সমরাস্ত্র কেনা, পরমাণু কেন্দ্র স্থাপনসহ নয়টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১৫
রাশিয়া সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল মঙ্গলবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে বৈঠক করেন। মস্কোর ক্রেমলিনে এই শীর্ষ বৈঠক শেষে দুইদেশের মধ্যে পরমাণু বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনে সহযোগিতা, রুশ সমরাস্ত্র ক্রয়সহ মোট তিনটি চুক্তি ও ছয়টি সমঝোতা স্মারক সই হয়। দুই নেতার উপস্থিতিতে দুইদেশের কর্মকর্তারা চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে সই করেন। স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া বাংলাদেশকে আট হাজার কোটি টাকা (এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার) রাষ্ট্রীয় ঋণ দেবে। এই ঋণের অর্থ থেকে রাশিয়ার কাছ থেকে সেনা ও বিমান বাহিনীর জন্য সমরাস্ত্র কিনবে বাংলাদেশ। পরমাণু বিদ্যুত্ প্রকল্পে প্রস্তুতিমূলক কাজে অর্থায়নে সহযোগিতার চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে সই করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব আবুল কালাম আজাদ। রাশিয়ার পক্ষে সই করেন দেশটির অর্থ উপমন্ত্রী সার্গেই স্তোরচাক। এই চুক্তির খসড়া অনুযায়ী পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুত্ কেন্দ্রের কারিগরি গবেষণার জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে ৫০ কোটি ডলার ঋণ পাবে বাংলাদেশ। বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণে কত খরচ হবে তা নির্ধারণে কারিগরি গবেষণার জন্য আগামী দুই বছর এই অর্থ ব্যয় করা হবে। পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্বলিত রাশিয়া থেকে সর্বাধুনিক তৃতীয় প্রজন্মের প্রযুক্তি দিয়ে সরকার রূপপুরে বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছে। নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির মানের ওপর নির্ভর করে এই বিদ্যুত্ কেন্দ্রে দুটি ইউনিটের প্রতিটি স্থাপনে ১৫০ থেকে ২০০ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে। রূপপুর পরমাণু বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণে গত নভেম্বরে রাশিয়ার পারমাণবিক জ্বালানি সংস্থা রোসাটমের সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি করে বাংলাদেশ। ওই চুক্তি অনুয়ায়ী অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণে সবধরনের সহযোগিতা দেবে রুশ সরকার এবং কেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ করবে এবং ব্যবহূত জ্বালানিও ফেরত নেবে তারা। বিদ্যুত্ কেন্দ্রের মেয়াদ হবে ৬০ বছর। পরে তা আরো ২০ বছর বাড়ানো যাবে বলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান ইতিপূর্বে জানিয়েছেন। শীর্ষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান এবং রোসাটমের মহাপরিচালক এসভি কিরেনকো একটি চুক্তি সই করেন যার আওতায় ঢাকার বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারে পরমাণু শিল্প তথ্য কেন্দ্র স্থাপন হবে। তিনটি চুক্তির অন্যটির আওতায় বাংলাদেশ ও রাশিয়া পরমাণু সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় করবে। চুক্তি ও সমঝোতা সইয়ের পর যৌথ বিবৃতিতে শেখ হাসিনা ও ভ্লাদিমির পুতিন উভয়ই বলেন, এর মধ্য দিয়ে ঢাকা-মস্কো সম্পর্ক আগামী দিনে নতুন উচ্চতায় যাবে। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সোমবার রাশিয়া যান প্রধানমন্ত্রী। দ্বিপক্ষীয় সফরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পর সরকার প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনাই প্রথম মস্কো গেলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি তাকে (পুতিন) আশ্বস্ত করেছি যে, বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অব্যাহত থাকবে।’ রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, ‘আমাদের দুইদেশের সম্পর্ক আরো নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই।’ দুইদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এগুলো আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিরাট অবদান রাখবে।